banner

শেষ আপডেট ২২ অক্টোবর ২০১৯,  ২০:৫১  ||   মঙ্গলবার, ২২ই অক্টোবর ২০১৯ ইং, ৭ কার্তিক ১৪২৬

জালিয়াতির মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের হাতে এনআইডি-পাসপোর্ট : দুদক তদন্তে ৪৬ জন ভুয়া রোহিঙ্গা নাগরিক শনাক্ত

জালিয়াতির মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের হাতে এনআইডি-পাসপোর্ট : দুদক তদন্তে ৪৬ জন ভুয়া রোহিঙ্গা নাগরিক শনাক্ত

১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ২০:১৭ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • জালিয়াতির মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের হাতে এনআইডি-পাসপোর্ট :  দুদক তদন্তে ৪৬ জন ভুয়া রোহিঙ্গা নাগরিক শনাক্ত

ক্রাইম প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশে আশ্রয়প্রার্থী রোহিঙ্গারা বিভিন্ন জাল জালিয়তির মাধ্যমে এনআইডি-পাসপোর্ট সংগ্রহ করার অভিযোগ রয়েছে। রোহিঙ্গাদের এই বাংলাদেশি পরিচয় পত্র ও পাসপোর্ট করে দেওয়ার সঙ্গে জড়িত জালিয়াত চক্রের বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। চট্টগ্রামে আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয় এবং পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসে গিয়ে এসব বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছে দুদকের টিম। এর আগে চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন অফিস তদন্ত করে ৪৬ জন ভুয়া রোহিঙ্গা নাগরিককে শনাক্ত করে যারা বাংলাদেশি এনআইডি পেয়েছে এবং তাদের তথ্য নির্বাচন কমিশনের তথ্যভান্ডারে আছে।
আজ রোববার দুপুরে দুদকের চট্টগ্রাম জেলা সমন্বিত কার্যালয়-১ এর একটি এনফোর্সমেন্ট টিম নগরীর লাভ লেইনে আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয়ে গিয়ে টিমের সদস্যরা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মুনীর হোসাইন খানের সঙ্গে কথা বলে রোহিঙ্গা জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়া সংক্রান্ত বেশকিছু তথ্য সংগ্রহ করেন। এসব তথ্যের মধ্যে আছে- জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্য জন্ম নিবন্ধন সনদসহ আরও কি কি দলিল জমা দিতে হয়, সার্ভারে জাতীয় পরিচয়পত্র আপলোড দেওয়ার পদ্ধতি, এ পর্যন্ত কতজন জাতীয় পরিচয়পত্রপ্রাপ্ত রোহিঙ্গা শনাক্ত হয়েছে ইত্যাদি।
জানা গেছে, লাকী নামের এক নারী গত ১৮ আগস্ট স্মার্ট কার্ড তুলতে জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে গেলে তার হাতের পুরনো এনআইডিতে ১৭ ডিজিটের নম্বর দেখে কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয়। পরে জেরার মুখে লাকী নিজের প্রকৃত নাম রমজান বিবি এবং ২০১৪ সালে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসার পর টেকনাফের মুচনী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ছিলেন বলে স্বীকার করেন। ওই রোহিঙ্গা নারী ভুয়া ঠিকানা দিয়ে তৈরি করিয়েছেন ওই জাল এনআইডি। অথচ ওই ভুয়া পরিচয়পত্রের তথ্যও নির্বাচন কমিশনের তথ্যভান্ডারে সংরক্ষিত আছে। লাকী আক্তারের বিষয়টি শনাক্তের পরই চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন অফিস তদন্ত করে ৪৬ জন ভুয়া রোহিঙ্গা নাগরিককে শনাক্ত করে যারা বাংলাদেশি এনআইডি পেয়েছে এবং তাদের তথ্য নির্বাচন কমিশনের তথ্যভান্ডারে আছে। নির্বাচন কমিশনের এনআইডি উইংয়ের উচ্চপর্যায়ের একটি টিমও এ বিষয়ে তদন্ত করছে।
দুদক এনফোর্সমেন্ট টিমের সদস্য সহকারী পরিচালক রতন কুমার দাশ বলেন, নির্বাচন কর্মকর্তারা তথ্য দিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ৪৬ জন রোহিঙ্গাকে শনাক্ত করেছেন যারা তথ্য গোপন করে জালিয়াতির মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়েছেন এবং কেন্দ্রীয় সার্ভারে তাদের তথ্য সংরক্ষিত আছে। এই ৪৬ জনের মধ্যে একজন রোহিঙ্গা ডাকাতও আছে, যে কয়েকদিন আগে বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছে। তারা বলছেন, এসব রোহিঙ্গাদের তথ্য ঢাকা থেকে সার্ভারে সংযুক্ত করা হয়েছে। চট্টগ্রাম থেকে কিছুই আপলোড হয়নি।
ওই কর্মকর্তা বলেন, ৫৪ জনের মতো রোহিঙ্গা যারা বাংলাদেশি পাসপোর্ট পেয়েছে তাদের শনাক্ত করা হয়েছে। ১৫ জনের মতো ইতোমধ্যে আটক হয়েছে। এখানে জনপ্রতিনিধিরা যেসব সনদ দেন, সেগুলোর বিষয়ে নজর খুবই জরুরি। আমরা সেটাতে জোর দিচ্ছি। জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা আমরা আমলে নিয়ে কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিস্তারিত অনুসন্ধান করব।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুনীর হোসাইন খান বলেন, রোহিঙ্গাদের ভোটার হওয়ার বিষয়ে দুদক অনুসন্ধান করছে। সেজন্য তারা তথ্য নিতে এসেছিলেন। আমরা সব তথ্য দিয়েছি। আমাদের তদন্ত কমিটিও যে কাজ করছে, সেটা তারা জেনেছেন। তবে কোনো নথিপত্র তারা নিয়ে যাননি। এটা নিয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধান করা হবে বলে তারা জানিয়েছেন।
দুদক কর্মকর্তা রতন কুমার দাশ আরো বলেন, নির্বাচন কর্মকর্তারা দাবি করছেন, সাধারণত ল্যাপটপ ব্যবহার করে সার্ভারে তথ্য আপলোড করা হয়। অনেক ল্যাপটপ হারিয়ে গেছে বা নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের দু’টি তদন্ত কমিটি কাজ করছে। তারা কি কি তথ্য-উপাত্ত পেয়েছে সেগুলো আমরা খতিয়ে দেখব।