banner

শেষ আপডেট ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯,  ২২:১৭  ||   সোমবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর ২০১৯ ইং, ১ আশ্বিন ১৪২৬

গণপূর্ত অধিদপ্তরের উদ্যোগে : ২’শ ৩৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নগরীতে সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স তৈরি

গণপূর্ত অধিদপ্তরের উদ্যোগে : ২’শ ৩৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নগরীতে সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স তৈরি

৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ২০:২৭ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • গণপূর্ত অধিদপ্তরের উদ্যোগে : ২’শ ৩৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নগরীতে সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স তৈরি

ক্রাইম প্রতিবেদকঃ  সাংস্কৃতিকভাবে চট্টগ্রামে গড়ে উঠছে  মুসলিম ইনস্টিটিউট সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স। গণপূর্ত অধিদপ্তরের উদ্যোগে ২’শ ৩৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন  মুসলিম ইনস্টিটিউট সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স আগামী ৩০ ডিসেম্বর ২০২০ সালে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হবে।  নগরীর কেসিদে রোডস্থ নির্মাণাধীন একটি হচ্ছে ১৫ তলা বিশিষ্ট পাবলিক লাইব্রেরী ভবন এবং অপরিটি ৮ তলা বিশিষ্ট অডিটরিয়াম ভবন। তবে চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক কর্মীরা প্রকল্পের মধ্যে মিডিয়া সেন্টার ও  ডরমেটরি, স্টেইজ, স্টেইজলাইটিং  সাউন্ড সিস্টেম ইত্যাদি টেকনিকেল বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত নেয়ার পরামর্শ দেন।
গণপূর্ত অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ১৫ তলা বিশিষ্ট লাইব্রেরী ভবনে থাকছে অফিস স্পেস, সেমিনার, মিটিং রুম, জেনারেল লাইব্রেরী, চিলড্রেন লাইব্রেরী,নিউজ পেপার লাইব্রেরী, রেফারেন্স লাইব্রেরী, সাইন্স লাইব্রেরী, ট্রেনিং ইউনিট, আইসিটি ইউনিট, গেষ্ট হাউস, লিফট,  ইত্যাদি। আধুনিক তথ্যবহুল যুগে বিভিন্ন স্তরের মানুষের জন্য প্রয়োজন বিভিন্ন লাইব্রেরী যেমন শিশু,লাইব্রেরী, সায়েন্স লাইব্রেরী, রেফারেন্স লাইব্রেরী প্রভৃতি সংযোজন করায় এতদঅঞ্চরের সর্বস্তরের লোক উপকৃত হবে।

অডিটরিয়াম ভবনে থাকছে ১শ জন এর সেমিনার হল ১টি, ২শ জন এর সেমিনার হল ১টি,  ২টি থিয়েটার  হলের মধ্য একটি ৩৫০ জন, অপরটি ৮৮০ জন ধারন ক্ষমতা সম্পন্ন থিয়েটার। এই অডিটরিয়ামের প্রতি তলায় রিহার্সেল কক্ষ, অফিস, স্টোর, গ্রিন রুম, ক্যফেটরিয়া, জিমনেসিয়াম, লিফট   ইত্যাদিও থাকছে।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, খুব দ্রুততার সাথে কাজ চলছে। ২০২০ সালের ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করার কথা রয়েছে। এখানে আরো থাকছে রাস্তার এপার ওপারকে সংযুক্ত করার জন্য প্লাজা,প্লাজার নীচদিয়ে গাড়ীচলাচলের ব্যবস্থা এবং বর্তমান শহীদ মিনার স্থানে নতুন শহীদ মিনার।
এ বিষয়ে নাট্যজন শওকত ইকবাল বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সদইচ্ছায় আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত পূর্ণাঙ্গ সাংস্কৃতি কমপ্লেক্স নির্মান হচ্ছে। এটা সাংস্কৃতিক কর্মীদের জন্য উপহার। যা আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের। বিশেষ করে এটির একক কৃতিত্ব প্রধানমন্ত্রীর। তিনি দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার দাবি জানানোর পাশাপাশি কমপ্লেক্সটি নিমর্তি হলে নাট্যকর্মীদের সাথে রেখে একটি কমিটি গঠনের দাবি জানান।
তবে চট্টগ্রাম মুসলিম ইনস্টিটিউট সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্প কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করতে যাওয়া চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন আজ দুপুরে বলেন, পূর্ণাঙ্গ সাংস্কৃতি কমপ্লেক্স নির্মানে একক কৃতিত্ব প্রধানমন্ত্রীর। তজ্জন্য তিনি চট্টগ্রামবাসীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন,  সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয় মুসলিম হল ও শহীদ মিনারকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামে একটি সাংস্কৃতিক বলয় হওয়ায়  প্রত্যক্ষভাবে উপকৃত হবে চট্টগ্রামবাসী। একটি বিকাশমান আধুনিক নগরের চাহিদা বিবেচনা করে এই কমপ্লেক্স নির্মিত হচ্ছে।  সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্সকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম যেন সাংস্কৃতিকভাবে জেগে উঠে সেটাই আমি প্রত্যাশাকরি।
সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সদস্য সচিব ও বিশিষ্ট নাট্যকার থিয়েটার ইনস্টিটিউটের পরিচালক আহমেদ ইকবাল হায়দার বলেন, চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক চর্চা যেন তুলনামূলক বৃদ্ধি পায়, নাটক শিল্পকলা সাহিত্যানুষ্ঠান বেশি পরিমানে হয় সেইদিকটা চট্টগ্রামবাসীর মাথায় রাখা দরকার। কেবল স্থাপনা বা সুযোগ সুবিধা দিয়ে কিছু হবে না, যদিনা স্থানীয় মানুষ মান সম্পন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন করে কমপ্লেক্সকে চাঙ্গা রাখতে পারে, নাগরিকদের সুষ্ঠু বিনোদন দিতে পারেন। এই কমপ্লেক্স নির্মানের মাধ্যমে চট্টগ্রামের সংস্কৃতি কর্মীদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।