banner

শেষ আপডেট ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯,  ২২:১৭  ||   সোমবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর ২০১৯ ইং, ১ আশ্বিন ১৪২৬

মিয়ানমারে ফিরতে রোহিঙ্গাদের ৫ দফা

মিয়ানমারে ফিরতে রোহিঙ্গাদের ৫ দফা

২৬ অগাস্ট ২০১৯ | ১০:৩৪ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • মিয়ানমারে ফিরতে রোহিঙ্গাদের ৫ দফা
কক্সবাজার প্রতিনিধিঃ নিজেদের নাগরিক অধিকার ও হারানো ভিটেমাটি ফিরে পাওয়ার জন্য ঐক্যবদ্ধ থেকে আলোচনা করা হবে। ৫ দফা দাবি না মানা পর্যন্ত একজন রোহিঙ্গাও মিয়ানমার ফিরবে না। কারণ মিয়ানমার সরকারের ওপর আস্থা রাখা বোকামি। রোববার সকালে উখিয়ার মধুরছড়া এক্সটেনশন-৪ ক্যাম্পের খোলা মাঠে সমাবেশে এসব কথা বলেন রোহিঙ্গা নেতারা। এ সময় উপস্থিত লাখো রোহিঙ্গা অধিকার ফিরে পেলে মিয়ানমারে ফিরবে বলে মত দেয়। এ সময় রোহিঙ্গা নেতারা ২৫ আগস্টকে গণহত্যা দিবস হিসেবে ঘোষণা করেন। উখিয়া ছাড়াও টেকনাফের উনচিপ্রাংয়েও শোভাযাত্রা ও শোকসভা করেছে রোহিঙ্গারা।
সমাবেশে ঘোষণাকৃত দাবি হলো মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিক হিসেবে মেনে নিতে হবে। নিরাপত্তা ও অবাধে চলাচলের স্বাধীনতা। নিজেদের হারানো ভিটেমাটি ফেরত দিতে হবে। ২৫ আগস্টের নির্যাতনের বিচার করতে হবে।
আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটির নেতা মাস্টার মুহিব উল্লাহ বলেন, মিয়ানমার সেনা ও মগদের নির্যাতনে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার দুবছরপূর্তি উপলক্ষে মহাসমাবেশ করেছে রোহিঙ্গারা। রোহিঙ্গারা এখন ঐক্যবদ্ধ হয়েছে শুধু অধিকার ফিরে পেতে। আমরা নিজেদের দেশে ফিরতে চাই। কিন্তু অধিকার ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা ছাড়া কখনও ফিরব না। মিয়ানমার সরকারের ওপর আস্থা রাখা বোকামি।
আরেক রোহিঙ্গা নেতা আবদুর রহিম বলেন, বাংলাদেশে থাকার ইচ্ছা আমাদের নেই। তবে বিপদে পড়ে আমরা শরণার্থী। আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের সরকার, নাগরিকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তবে দাবি না মানা পর্যন্ত আমরা ফিরে গেলে আবারও নির্যাতন হতে পারে।
মিয়ানমার সরকার আলোচনার কথা বলে আমাদের সঙ্গে ছলনা করছে উল্লেখ করে রোহিঙ্গা নেতা মোহাম্মদ ইলিয়াছ বলেন, যেখানে গত বৈঠকে আরও আলোচনার সিদ্ধান্ত হয় সেখানে হঠাৎ প্রত্যাবাসনের ঘোষণা দেয় মিয়ানমার সরকার। কিন্তু বৈঠকে দাবি মানার বিষয়ে আরও আলোচনার কথা বলা হয়েছিল, সেখানে প্রত্যাবাসনের ঘোষণা অবান্তর ও হাস্যকর।
সমাবেশে আসা রোহিঙ্গা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, যে দাবিগুলো দেওয়া হয়েছে তা আমাদের অধিকার। মিয়ানমার সরকার আমাদের অধিকার দিতে রাজি নয়। তাই এত ছলনা করছে। দাবি না মানা পর্যন্ত মিয়ানমারে ফিরে যাব না।
এদিকে প্রশাসনের অনুমতি না পেলেও সকাল থেকে দলে দলে বিভিন্ন ব্যানার, ফেস্টুন ও নানা সেøাগান নিয়ে সমাবেশস্থলে আসতে থাকে বিভিন্ন ক্যাম্পের রোহিঙ্গারা। তাদের নানা স্লোগানে মুখরিত ছিল পুরো রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকা। এখানে ছাড়াও উখিয়ার কুতুপালং, বালুখালী, টেকনাফের উনচিপ্রাংসহ বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে রাখাইনে সংঘটিত গণহত্যার বিচারের দাবিতে সমাবেশ হয়েছে। ওই সমাবেশগুলোতেও নাগরিকত্ব এবং ভিটেমাটি ফিরিয়ে দিয়ে প্রত্যাবাসন দাবি করা হয়।
অন্যদিকে সমাবেশে মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা নুরুল ইসলাম। মোনাজাতে নিজেদের নাগরিক অধিকার ও আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের জন্য দোয়া কামনা করা হয়। এ ছাড়া মধুরছড়া ক্যাম্প ও ২৪ নং ক্যাম্পসহ বিভিন্ন ক্যাম্পে সমাবেশ করছে রোহিঙ্গারা।
উল্লেখ্য, রোববার রোহিঙ্গা সংকটের দুবছর পূর্ণ হয়েছে। ২০১৭ সালের এই দিনে ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞের ঘটনা ঘটে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য। এরপর থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে রোহিঙ্গারা। বর্তমানে বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় ১১ লাখ।