banner

শেষ আপডেট ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯,  ২২:১৭  ||   সোমবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর ২০১৯ ইং, ১ আশ্বিন ১৪২৬

চসিক অস্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধিতে ব্যয় বাড়লো আরো সাড়ে ৬ কোটি টাকা

চসিক অস্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধিতে ব্যয় বাড়লো আরো সাড়ে ৬ কোটি টাকা

২০ অগাস্ট ২০১৯ | ২০:৫৭ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • চসিক অস্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধিতে ব্যয় বাড়লো আরো সাড়ে ৬ কোটি টাকা

ক্রাইম প্রতিবেদকঃ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে নিয়োজিত দৈনিক ভিত্তিক কর্মকর্তা – কর্মচারী ও শ্রমিকদের প্রণোদনা হিসেবে বেতন বৃদ্ধির সিদ্বান্ত গৃহিত হয়। এতে  প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তাদের মূল বেতনের ৫%, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের মূল বেতনের ১০% হারে এবং ডোর-টু-ডোর কর্মচারীরাও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর মতো একই হারে বেতন পাবে। চসিকে ৬৩১০ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী দৈনিক ও  নির্ধারিত বেতনে কর্মরত আছে। অস্থায়ী কর্মকর্তা- কর্মচারীর এই বেতন বৃদ্ধির ফলে প্রতিমাসে ৫৪ লক্ষ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় গুনতে হবে এবং বছরের আরো ৬ কোটি ৪৮ লক্ষ টাকা ব্যয় বাড়লো চসিকের । সিটি মেয়র আ.জ.ম.নাছির উদ্দীন  দায়িত্ব গ্রহন পরবর্তী প্রথম ধাপে ১৫%  এবং এবার দ্বিতীয় ধাপে এই বেতন ভাতা বৃদ্ধি পায়।
গতকাল মঙ্গলবার সকালে নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন পঞ্চম নির্বাচিত পরিষদের ৪৯ তম সাধারণ সভায় এই সিদ্ধান্ত গ্রহন করে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। সভায় সভাপতিত্ব করেন মেয়র ।

সভায় প্যানেল মেয়র, কাউন্সিলর, সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর, চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী একেএম ফয়েজুল্লাহ ,চসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা, প্রধান প্রকৌশলী লেঃ কর্ণেল মোহাম্মদ মহিউদ্দীন আহমদ,প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা সুমন বড়–য়া, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মফিদুল আলম, উপ-পুলিশ কমিশনার হারুন-উর-রশিদ হাজারী, সিটি মেয়রের একান্ত সচিব মো. আবুল হাশেমসহ নগরীর সরকারি ও স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
সভা সঞ্চালনা করেন চসিক সচিব আবু শাহেদ চৌধুরী।

সিটি মেয়র বলেন, এই নগরে ১ লক্ষ ৮৫ হাজার হ্যোল্ডিং রয়েছে। এত সংখ্যক হ্যোল্ডিং থাকলেও এর বিপরীতে কাংখিত ট্যাক্স পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক সীমাবদ্ধতার মাঝেও নগর পরিসেবা সচল রাখতে হিমসিম খেতে হচ্ছে চসিককে।

এই প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, বর্তমানে ৪১টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৫টি কনজারভেন্সী ওয়ার্ড আর ১৬টি নন-কনজারভেন্সী ওয়ার্ড রয়েছে। কনজারভেন্সী ওয়ার্ড থেকে  ১৭% এবং নন-কনজারভেন্সী ওয়ার্ড থেকে  ১৪% হারে কর ও রেইট আদায় করা হয়। তবে নন- কনজারভেন্সী ওয়ার্ডেও কনজারভেন্সী ওয়ার্ডের  সমভাবে সেবা প্রদান করে আসছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। মাত্র ১টি ওয়ার্ড দক্ষিণ পাহাড়তলীতে পরিচ্ছন্ন সেবা পরিপূর্ণ ভাবে দেয়া যাচ্ছেনা।

সিটি মেয়র আরো বলেন, বাংলাদেশ গেজেট আদর্শ কর তফশীল ২০১৬ ইং মতে ২৭% কর ও রেইট আদায়ের বিধান রয়েছে। যেমন হোল্ডিং কর ৭%, পরিচ্ছন্ন ৭% আলোকায়ন ৫% স্বাস্থ্য সেবা খাতে ৮%, কিন্তু চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন পূর্বের মত কর ও রেইট আদায় করছে। কর ও রেইট আদায়ে সরকারী নিদের্শনার পরেও চসিক কোনো কর ও রেইট এখনো পর্যন্ত বাড়ানো হয়নি। নিয়মিত যে সকল স্থাপনা বৃদ্ধি পাচ্ছে , তাও আমাদের হিসেবে বাইরে।  এই গুলোকে হোল্ডিং এর আওতায় আনতে হবে। তা না হলে আয় বৃদ্ধি পাবে না বলে উল্লেখ করেন সিটি মেয়র। এই প্রসঙ্গে তিনি হোল্ডিং ট্যাক্স প্রদান বিষয়ে নগরবাসীকে সচেতন ও উব্দুদ্ধ করার জন্য কাউন্সিলরদের প্রতি আহবান জানান।

তিনি আরো বলেন, এলাকার জীবনমান উন্নয়ন ও ভবিষ্যত পরিকল্পনা  বাস্তবায়নে জনগণের কাছে জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহিতা আছে। চট্টগ্রাম নগরীর অনেক এলাকায় এখনো ওয়াসার সংযোগ লাইন স্থাপিত হয়নি। আবার অনেক এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ওয়াসার পাইপ লাইন স্থাপিত হলেও এলাকায় পানি সরবরাহ করতে পারেনি ওয়াসা। এ নিয়ে জনগণের অভিযোগ দীর্ঘদিনের।আবার প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে রাস্তা কর্তন করে ওয়াসা। এতে করে সৃষ্টি হয় নানামুখী দুর্ভোগ ও হয়রানি।

মাদকদ্রব্যের ব্যবহার প্রসঙ্গে সিটি মেয়র বলেন, আশঙ্কাজনক হারে মাদকের ব্যবহার বেড়েছে। নগর জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে  ইয়াবাসহ নানা নেশাজাতীয় দ্রব্য। ফলে সমাজ ও পরিবারের মাঝে নেমে এসেছে বিপর্যয়। বেড়েছে খুন, ধর্ষণ, ছিনতাইসহ নানা ধরনের অপরাধ। বর্তমানে কিশোর-কিশোরী, বিশেষ করে তরুণ-তরুণীরা বিপথগামী হচ্ছে। এমনকি আজকাল মেয়েরাও মাদক সেবন করছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি আমরা সবাই। এ অবস্থা চলতে থাকলে জাতি মেধাশুন্য হয়ে পড়বে। দেশের অগ্রযাত্রায়  স্থবিরতা নেমে আসবে। প্রধানমন্ত্রীর ভিশন ব্যহত হবে। তাই মাদকের বিরুদ্ধে ওয়ার্ড কমিটিগুলোকে কার্যকরী প্রদক্ষেপ নেওয়ার আহবান জানান মেয়র।

মেয়র বলেন, এব্যাপারে বর্তমান সরকার জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। সেক্ষেত্রে তিনি সন্ত্রাস,জঙ্গিবাদ ও মাদকের তালিকা সিএমপি’র উপ-পুলিশ কমিশনারের হাতে পৌঁছানোর কথা বলেন। ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী একেএম ফয়েজুল্লাহ নগরীর পাইপ লাইন সংস্কার ও সংযোগ কাজে কাউন্সিলরদের সহযোগিতা চেয়ে বলেন, নগরীতে পুরানো পাইপ লাইন সংস্কার ও  নতুন পাইপ লাইন সংযোগ স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রামওয়াসা। এই প্রকল্পের আওতায় ৪১টি ওয়ার্ডের ৬৫০ কিমি পুরোনো পাইপ লাইন সংস্কার ও প্রায় ৫০ হাজার নতুন পাইপ লাইন সংযোগ দেয়া হবে । নভেম্বরের দিকে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে বলে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালনক সভায় ্উল্লেখ করেন। প্রকল্পটি জাইকার অর্থায়নে শুরু হবে। আগামী বছর মার্চে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হবে বলে চট্টগ্রাম ওয়াসা আশা করছে। তিনি কর্পোরেশন এলাকার কাউন্সিলরদের কাছ থেকে স্ব স্ব এলাকার সড়কের তালিকা চেয়েছে। চলতি ৩০ আগস্টের মধ্যে চট্টগ্রাম ওয়াসার কাছে কাউন্সিলরদের এই তালিকা প্রেরণ করতে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক একেএম ফজলুল্লাহ। তালিকা অনুযায়ী কাজ বাস্তবায়ন করা হলে আগামী একশ বছরে আর পাইপ লাইন সংস্কার বা সংযোগ করতে হবে না। কেননা এই প্রকল্পে ব্যবহৃত পাইপগুলোর মেয়াদ একশ বছর। তাই আগামী ৩০ আগস্টের মধ্যে তালিকা পেলে প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসুত্রিতা সৃষ্টি হবে না বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

সাধারণ সভায় চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক একেএম ফজলুল্লাহ বলেন, ওয়াসার সকল ধরনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সিটি কর্পোরেশনের ৫০ শতাংশ সহায়তা করে থাকে। ওয়াসার প্রকল্প বাস্তবায়নে চসিকের রাস্তা কর্তনের অনুমতি, প্রকল্প সহায়ক নানামুখী সহযোগিতার কারণেই ওয়াসা নগরে উন্নয়ন কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে সড়কের যাতে কোন ক্ষতি না হয় সেজন্য পুরোনো পাইপ লাইন সংস্কারের কাজ হাতে নেয়া হয়েছে। নগরবাসীর শতভাগ পানির চাহিদা পূরণে ওয়াসা কাজ করে যাচ্ছে। বিগত ১০ বছর আগে ওয়াসার পানি সরবরাহ ছিল মাত্র ১২ কোটি লিটার। বর্তমানে নগরে প্রায় ৩৬ কোটি লিটার  পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। আগামী বছর এই সরবরাহে আরো বৃদ্ধি পেয়ে ১৪ কোটি লিটার হবে। এই সময় ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে প্যানেল মেয়র কাউন্সিলর ড. নিছার উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু, ছালেহ আহমদ , কফিল উদ্দিন , উত্তর পাহাড়তলী জহিরুল আলম জসিম তাদের এলাকার পানীয় জলের সমস্যার কথা তুলে ধরেন।
সভায় বিগত সভার কার্যবিবরণী আলোচনা সাপেক্ষে অনুমোদন দেয়া হয়। এছাড়া সভায় অর্থ ও সংস্থাপন, শিক্ষা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা ও স্বাস্থ্য রক্ষা, নগর অবকাঠামো নির্মাণ ও সংরক্ষণ,আইন শৃংখলা,পরিচালনা ও রক্ষণা বেক্ষণ, যোগাযোগ, দারিদ্র হ্রাস করন ও বস্তি উন্নয়ন,নগর পরিকল্পনা ও উন্নয়ন,পরিবেশ উন্নয়ন, দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষন, নারী ও শিক্ষা,  পানি ও বিদ্যুৎ, সমাজকল্যাণ ও কমিউনিটি সেন্টার, ষ্ট্যান্ডিং ও নামকরণ উপ- কমিটির চেয়ারম্যানগণ স্ব স্ব কমিটির কার্যবিবরণী উপস্থাপন করেন এবং আলোচনান্তে সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। সভার শুরুতে সম্প্রতি নগরীতে নিহত ব্যক্তিদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে  বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।