banner

শেষ আপডেট ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯,  ২২:১৭  ||   সোমবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর ২০১৯ ইং, ১ আশ্বিন ১৪২৬

নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম-দূর্নীতি : পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের ডিজি, কক্সবাজার জেলা প্রশাসকসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে সমন জারি

নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম-দূর্নীতি : পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের ডিজি, কক্সবাজার জেলা প্রশাসকসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে সমন জারি

২০ অগাস্ট ২০১৯ | ২০:২২ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম-দূর্নীতি : পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের ডিজি, কক্সবাজার জেলা প্রশাসকসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে  সমন জারি

পেকুয়া প্রতিনিধিঃ কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় পরিবার কল্যাণ সহকারী পদে এক ভূঁয়া ঠিকানার প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়ার ঘটনায় আদালতে মামলা দায়ের করেছেন ভূক্তভোগী এক চাকুরী প্রার্থীনি। আর ওই মামলায় আদালতের বিজ্ঞ বিচারক নিয়োগ সংশ্লিষ্ট ৬ জন সরকারী উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা ও নিয়োগপ্রাপ্ত প্রার্থীর বিরুদ্ধে সমন জারি করেছে। এদিকে পরিবার কল্যাণ সহকারী পদে পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের ১/খ ইউনিয়টের প্রকৃত বাসিন্দাদের বাদ দিয়ে ভূঁয়া ঠিকানার প্রার্থীকে নিয়োগের ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের ১/খ ইউনিটে পরিবার কল্যাণ সহকারী পদে ভূঁয়া ঠিকানার প্রার্থীকে গত ২০/১১/২০১৮ইংরেজী তারিখে বিবাদীদের যোগসাজসে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর কর্তৃক নিয়োগ দেওয়ার ঘটনায় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সীমাহীন অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ এনে নিয়োগ কমিটির সভাপতি/সদস্য সচিবসহ ৬ জন উচ্চ পদস্থ সরকারী কর্মকর্তা ও নিয়োগ প্রাপ্ত প্রার্থীর বিরুদ্ধে চলতি বছরের ৭ মার্চ কক্সবাজার যুগ্ম জেলা জজ (২য়) আদালতে মামলা দায়ের করেছিলেন মগনামা ইউনিয়নের বাইন্যা ঘোনা গ্রামের বাসিন্দা শিক্ষানবিশ আইনজীবি রোজিনা আকতার। যার অপর মামলা নং ৯৯/১৯ইং। পরে বাদীর মামলাটির দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালতের বিজ্ঞ বিচারক গত ২৪/০৪/১৯ইংরেজী তারিখ বিবাদীদের প্রতি সমন জারী করেছেন।
এ মামলার বিবাদীরা হলেন, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডক্টর কাজী মোস্তাফা সারওয়ার, একই অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) রমজান আলী, বিভাগীয় পরিচালক মুহাম্মদ নুরুল আলম, নিয়োগ কমিটির সভাপতি ও কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন, নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব ও কক্সবাজার পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক ডা: পিন্টু কান্তি ভট্টাচার্য্য, পেকুয়া উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জসীমুদ্দিন মোহাম্মদ ইউসুফ ও মগনামা ইউনিয়নের ১/খ ইউনিটে পরিবার কল্যাণ সহকারী পদে নিয়োগ প্রাপ্ত ভূঁয়া ঠিকানার প্রার্থী সাইদুন্নেসা রুমি।
বাদীর আইনজীবি ও কক্সবাজার জজ কোর্টের সিনিয়র আইনজীবি এড ফরিদুল আলম জানান, চলতি মাসের ২৯ আগষ্ট এ মামলার বিবাদীদের আদালতে উপস্থিত হওয়ার জন্য আদালত সমন জারি করেছে।
কক্সবাজার জেলা জজ (২য়) আদালতে দায়েরকৃত বাদীর মামলার বিবরণী সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজার পরিবার পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর কর্তৃক জারীকৃত বিজ্ঞপ্তির স্মারক নং ও তারিখ:জেপপ/কক্স/১৭/৪৮৫ তাং ১৭/০৭/২০১৭ ইংরেজী এর আলোকে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলা মগনামা ইউনিয়নের ১/খ ইউনিটের শুণ্য পদের বিপরীতে পরিবার কল্যাণ সহকারী পদে জনবল নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি আহবান করা হয়েছিল। শুণ্য পদের বিপরীতে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের গ্রামগুলো হচ্ছে ধারিয়াখালী, বাইন্যা ঘোনা, বাজার পাড়া, শরৎঘোনা, করলিয়া পাড়া, মৌলভী পাড়া, বহদ্দার পাড়া, ঘাট মাঝির পাড়া, পুরাতন বহদ্দার পাড়া। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা ছাড়া অন্য কেউ উক্ত পদে আবেদন করতে পারবেনা বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছিল। কিন্তু মগনামার ১/খ ইউনিটের অধীন গ্রামগুলোর বাসিন্দা না হওয়া সত্ত্বেও সাইদুন্নেসা রুমি স্বামী সালেহ আহমদ সাং মাঝির পাড়া আবেদন করে গত ২৫/০৭/২০১৮ইংরেজী তারিখ প্রকাশিত লিখিত পরীক্ষার ফলাফলে বিবাদীদের পরস্পর যোগসাজসে অনিয়ম ও দূর্নীতির মাধ্যমে উত্তীর্ণ হয়ে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে অনুষ্টিত হওয়া গত ১৮/০৮/২০১৮ইংরেজী তারিখ ভাইভা পরীক্ষায়ও অংশ নিয়েছিল। সে তার আসল ঠিকানা গোপন করে ঘাট মাঝির পাড়া গ্রামের বাসিন্দা সেঁজে আবেদন করেছিল বলে তদন্ত কমিটির রিপোর্টে উঠে এসেছিল।
এদিকে ভূঁয়া ঠিকানার প্রার্থীর সাইদুন্নেসা রুমি, রোল নং ১৭৩৮০২০৪ এর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বাদী রোজিনা আকতারের বড় ভাই মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন গত ১৬/০৮/২০১৮ইংরেজী তারিখ কক্সবাজার জেলা প্রশাসক ও নিয়োগ কমিটির সভাপতি কামাল হোসেনের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের কক্সবাজারের উপ-পরিচালককে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য লিখিতভাবে নির্দেশনা প্রদান করেছিলেন।  জেলা প্রশাসকের নির্দেশ পেয়ে উপ-পরিচালক কক্সবাজার সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ছেরাজ আহমদকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেন।
তদন্ত কমিটির আহবায়ক ছেরাজ আহমদ তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব ও পেকুয়া উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জসীমমুদ্দিন মো: ইউসুফ, তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব ও কুতুবদিয়া উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বিধান কান্তি রুদ্র অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরেজমিনে গোপনে ও প্রকাশ্যে তদন্ত করে গত ২৩/০৯/২০১৮ইংরেজী তারিখে উপপ/সদর/২০১৮/২৮৬ নং স্মারকমূলে উপ-পরিচালক, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, কক্সবাজার মহোদয়ের বরাবরে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন।

উক্ত প্রতিবেদনে সাইদুন্নেসা রুমি মাঝির পাড়া গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা যাহা ৩ নং ওয়ার্ড়ের অন্তভূক্ত। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে মগনামা ইউনিয়নের ১/খ ইউনিটে ধারিয়াখালী, বাইন্যা ঘোনা, বাজার পাড়া, শরৎঘোনা, করলিয়া পাড়া, মৌলভী পাড়া, বহদ্দার পাড়া, ঘাট-মাঝির পাড়া, পুরাতন বহদ্দার পাড়া) উল্লেখিত গ্রামসমূহ ১ ও ২ নং ওয়ার্ড়ের অন্তভূক্ত। ঘাট মাঝির পাড়া ও মাঝির পাড়া দুটো আলাদা গ্রাম ও দুটো গ্রামের মাঝে দুরত্ব রয়েছে। মধ্যখানে হাইওয়ে সড়ক রয়েছে।

স্থানীয় চেয়ারম্যান ও ওয়ার্ড় সদস্যের যৌথ স্বাক্ষরে প্রত্যয়নপত্রে (সংযুক্ত) তাহা উল্লেখ আছে। সাবির্ক তদন্ত ও বিশ্লেষনে পেকুয়া উপজেলাধীন মগনামা ইউনিয়নের ১/খ ইউনিটে পরিবার কল্যাণ সহকারী নিয়োগ প্রত্যাশী সাইদুন্নেসা রুমি, রোল নং ১৭৩৮০২০৪ এর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে তথা তিনি বিজ্ঞাপিত এলাকার বাসিন্দা নহেন। কিন্তু তদন্তে প্রার্থীর ঠিকানা ভূঁয়া বলে প্রমাণিত হওয়ার পরও বিবাদীরা অনিয়ম দূর্নীতির আশ্রয় নিয়ে ভূঁয়া ঠিকানার প্রার্থীকে সরকারী চাকুরীতে বিধি বহির্ভূতভাবে নিয়োগ প্রদানে সহায়তা করেছে।
তদন্ত কমিটির প্রধান ও কক্সবাজার সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ছেরাজ আহমদ জানান, মগনামা ইউনিয়নের ১/খ ইউনিটে চাকুরী প্রার্থীর ঠিকানা ভূঁয়া হিসেবে তদন্তে প্রামণিত হয়েছিল। এরপরেও কিভাবে ভূঁয়া ঠিকানার প্রার্থী নিয়োগ পেয়েছে সেটি তার বোধগম্য হচ্ছেনা।

তিনি আরো আরো বলেন, তারা তদন্ত করে প্রতিবেদন যথাযথভাবে অধিদপ্তরে প্রেরণ করেছিলেন। এরপরে কি হয়েছে তিনি জানেন না।