banner

শেষ আপডেট ২৬ অগাস্ট ২০১৯,  ১০:৪৮  ||   সোমবার, ২৬ই আগষ্ট ২০১৯ ইং, ১১ ভাদ্র ১৪২৬

অতিরিক্ত চাপেই ট্রেন সূচিতে বিপর্যয়– রেলমন্ত্রী

অতিরিক্ত চাপেই ট্রেন সূচিতে বিপর্যয়– রেলমন্ত্রী

১১ অগাস্ট ২০১৯ | ১৯:৪৩ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • অতিরিক্ত চাপেই ট্রেন সূচিতে বিপর্যয়–  রেলমন্ত্রী

যাত্রীর চাপে ট্রেনের ধীরগতিকেই ঈদ যাত্রায় সূচি বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে দেখাচ্ছেন রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন।

তিনি বলেছেন, ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া প্রতিটি ট্রেনের ছাদে ও ইঞ্জিনে চড়েও মানুষ বাড়ির পথে যাচ্ছে। এই অবস্থায় যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থেই স্বাভাবিকের তুলনায় ধীর গতিতে ট্রেন চালাতে হচ্ছে। তাতে সূচি ঠিক রাখা যাচ্ছে না।

এবার কোরবানির ঈদ সামনে রেখে চট্টগ্রাম ও সিলেটের পথের ট্রেনযাত্রা মোটামুটি নির্বিঘ্ন হলেও ভোগান্তিতে পড়েছেন দেশের রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা অঞ্চলের যাত্রীরা।

শুক্রবার ঢাকা থেকে খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস টাঙ্গাইলে বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব পাশে লাইনচ্যুত হলে ট্রেন বন্ধ থাকে সাড়ে তিন ঘণ্টা। এরপর থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে যাওয়া সব ট্রেন বিলম্বিত হতে থাকে।

শনিবার দেখা যায়, ওই তিন বিভাগের সব ট্রেনই কম বেশি বিলম্বিত হচ্ছে। রোববার পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করে।

১০-১২ ঘণ্টা দেরিতে ট্রেন ছাড়ায় অনেক যাত্রীকেই কমলাপুর রেল স্টেশনে বসে থাকতে হয়েছে দিনভর। ট্রেন না পেয়ে ফিরে গেছেন অনেকে।

শিডিউল মেলাতে না পেরে ঈদের বিশেষ ট্রেন লালমনি স্পেশালের যাত্রাই বাতিল করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পঞ্চগড় এক্সপ্রেসের যাত্রীদের তুলে দেওয়া হয়েছে একতা এক্সপ্রেসে।

যাত্রী ভোগান্তির জন্য রেল কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা নিচ্ছে জানতে চাইলে মন্ত্রী সুজন বলেন, “আপনারা সবই দেখছেন। ট্রেন যে গতিতে… শিডিউল নির্ধারণ আছে, সেই গতিতে ট্রেন চলতে পারছে না। এত যাত্রী, ছাদে, ইঞ্জিন থেকে শুরু করে…। তাদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে আমাদের সেভাবে চলতে হচ্ছে। কি করব বলেন।
“আল্লাহ না করুক ২-৫ জন যাত্রী যদি দুর্ঘটনায় পড়ে ক্যাজুয়ালটি হয়, বড় ধরনের… যতটুক নিরাপদে পৌঁছাতে পারি সেটা বিবেচনা রেখে অনেক ধীরগতিতে আমাদের চলতে হচ্ছে।”

ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ নিষিদ্ধ, কিন্তু ঈদের সময় ভিড় বেড়ে যাওয়ায় বারণ না শুনে অনেকেই ছাদে উঠে পড়েন।

ঝুঁকি নিয়ে ছাদে উঠে বসা এই যাত্রীদের না নামিয়ে বৃহস্পতিবার রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম তাদের শুভেচ্ছাও জানিয়েছেন।

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের ছাদে করে যাত্রীদের যাওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে সে সময় রেলমন্ত্রী বলেছিলেন, “এসব লোকদের নামিয়ে দিলেই কি সমস্যার সমাধান করতে পারব? সব সময় ইচ্ছা থাকলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমরা যাত্রীদের ছাদ থেকে নামিয়ে দিতে পারি না।”

তবে ট্রেনের ছাদে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে তার দায় যে মন্ত্রণালয়ের উপরই পড়বে, তা স্বীকার করেন মন্ত্রী। এ সমস্যা সমাধানে সাংবাদিকদের পরামর্শ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

রোববার তিনি বলেন, “একই লাইনের ওপর দিয়ে ট্রেন যাওয়া-আসার কারণেও… আমাদের ট্রেন বেশি হওয়ার কারণেও পাস দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হয়। বঙ্গবন্ধু ব্রিজের ওপর দিয়ে ৪০ মিনিট লাগে একটা ট্রেন পার হতে। এসব কারণে আমাদের এই অবস্থা তৈরি হয়েছে।“

যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ট্রেন ধীরে চালানো হচ্ছে মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, “পূর্ণ গতিতে আমরা ট্রেন চালাতে পারছি না। শিডিউলের যে অভিযোগ, সেটা এই কারণেই। পূর্বাঞ্চলীয় ট্রেনগুলো আমরা অলমোস্ট টাইমলি চালাতে পারছি। প্রায়োরিটি দিতে হচ্ছে যাত্রী নিরাপত্তাকে।

“যদিও তারা উঠছে, কিন্তু আমাদের বাড়তি সাবধনাতা অবলম্বন করতে হচ্ছে। স্বাভাবিক গতিতে চালাতেই পারছি না। যেখানে হয়ত ৮ ঘণ্টা লাগে সেখানে ১২ ঘণ্টা লাগছে। স্বাভাবিকভাবেই ৪ ঘণ্টা দেরিতে গেলে আসতেও সময় লাগছে। ফেরার সময় আবার দেরি হচ্ছে।”