banner

শেষ আপডেট ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯,  ২২:১৭  ||   সোমবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর ২০১৯ ইং, ১ আশ্বিন ১৪২৬

লন্ডন আর নয়াপল্টন হচ্ছে ছেলে ধরা গুজব তৈরীর কারখানা–তথ্যমন্ত্রী

লন্ডন আর নয়াপল্টন হচ্ছে ছেলে ধরা গুজব তৈরীর কারখানা–তথ্যমন্ত্রী

২৭ জুলাই ২০১৯ | ২২:১০ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • লন্ডন আর নয়াপল্টন হচ্ছে  ছেলে ধরা গুজব তৈরীর কারখানা–তথ্যমন্ত্রী

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, লন্ডন আর নয়াপল্টন হচ্ছে গুজব তৈরীর কারখানা। ছেলে ধরা গুজব প্রথমে লন্ডন থেকে পোস্ট দিয়ে ছড়ানো হয়। আর সেটি এখানকার কিছু বিএনপি-জামাতের নেতাকর্মী মনিটরিং করে সাড়া দেশে ছড়িয়ে দেয়।আজ শনিবার  বিকেলে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ছেলে ধরা গুজবের হোতা লন্ডনে বসে আছে। সেখান থেকে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। আর সেটার ডাল-পালা গজিয়ে ছেলে ধরা আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। গুজব ছড়িয়ে অনেক নিরীহ মানুষকে পিঠিয়ে হত্যা করা হয়েছে যা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। সরকার এ ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

‘হত্যা মামলার আসামি হিসেবে সবার বিচার হবে। শুধু মানুষ হত্যাকারীদের বিচার নয় গুজব যারা রটিয়েছে তারাও দোষী। তাদের বিরুদ্ধেও সরকার কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এখন আবার গুজব ছড়ানো হচ্ছে বিদ্যুৎ না থাকলে ছেলে ধরা আসবে। গুজব রটনাকারীদের প্রতিহত করতে হবে। কেউ যেন আইন নিজের হাতে তুলে না নেন সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।’

তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, আওয়ামী লীগ গণমানুষের দল। এ দলকে যে কেউ সমর্থন করতে পারে। কিন্তু নেতৃত্বের আসনে যে কাউকে আমরা বসাতে পারি না। নেতৃত্বের আসনে তাদেরই বসাতে হবে, যারা দলের দুঃসময়ে বুকে পাথর বেঁধে আওয়ামী লীগ করেছে। এখন সবাই আওয়ামী লীগের নৌকায় উঠতে চায়। কিন্তু নৌকায় আমরা সবাইকে নেব না। আমাদের নৌকা ইতিমধ্যে ভরে গেছে। যারা পিঠ বাঁচানোর জন্য নৌকায় উঠতে চান তাদের নেয়া যাবে না।

রাজনৈতিকভাবে ব্যর্থ হয়ে বিএনপি উম্মাদের মতো আচরণ করছে জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, তাদের যুগ্ন মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সাংবাদিক সম্মেলন করে বলেছেন, মশার কামড়ের জন্যও নাকি আওয়ামীলীগ দায়ী। এরকম হাস্যকর বক্তব্যই প্রমাণ করে তারা যে রাজনৈতিক কতটা দেউলিয়া। মাঠে না থাকলেও ঘাপটি মেরে থাকা বিএনপির ব্যাপারে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব খলিলুর রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও আওয়ামীলীগ নেতা ডা. মোহাম্মদ সেলিম ও আকতার হোসেন খাঁনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উদ্বোধক ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সভাপতি ও উত্তর জেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী।

বক্তব্যে রাউজানের সংসদ সদস্য ফজলে করিম চৌধুরী বলেন, ফেইসবুকে গুজব রটানো ও অপপ্রচারকারীদের আইনের আওতায় এনে মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন দণ্ড দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। এ দেশ ৩০ লক্ষ শহীদের রক্ত ও দুই লক্ষ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে স্বাধীন হয়েছে। যারা দেশের জন্য রক্ত দিয়েছে তাদের কাছে আমরা ঋণী, আমাদের দায়িত্ব-কর্তব্য আছে। সেটা আমাদের পালন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, রাঙ্গুনিয়ার সাংসদ ড. হাছান মাহমুদকে সাথে নিয়ে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়ককে মহাসড়কে রূপান্তর করা হবে। কাপ্তাই পর্যন্ত রেল লাইন স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হবে।

সম্মেলনে বার্ষিক প্রতিবেদন পাঠ করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শামসুল আলম তালুকদার। দলের প্রয়াত নেতাদের শোক প্রস্তাব পাঠ করেন দপ্তর সম্পাদক আবু তাহের। এর আগে দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন অতিথিরা।

বক্তব্য দেন উত্তর জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এমএ সালাম, উত্তর জেলা আওয়ামীলীগ নেতা স্বজন কুমার তালুকদার, মিরসরাইয়ের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন, রাঙ্গুনিয়ার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আলী শাহ, রাউজানের উপজেলা চেয়ারম্যান এহছানুল হায়দার বাবুল, রাঙ্গুনিয়ার মেয়র মোহাম্মদ শাহজাহান সিকদার, জেলা পরিষদ সদস্য কামরুল ইসলাম চৌধুরী, জহির আহমদ চৌধুরী, আবুল কাশেম চিশতি, ইফতেখার হোসেন বাবুল, ইদ্রিস আজগর, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, ছাদেকুন নুর সিকদার, নজরুল ইসলাম তালুকদার, গিয়াস উদ্দিন খাঁন প্রমূখ।