banner

শেষ আপডেট ২৬ অগাস্ট ২০১৯,  ১০:৪৮  ||   সোমবার, ২৬ই আগষ্ট ২০১৯ ইং, ১১ ভাদ্র ১৪২৬

নুসরাত হত্যাকান্ড : ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিচার শুরু

নুসরাত হত্যাকান্ড : ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিচার শুরু

১৭ জুলাই ২০১৯ | ১৯:৩৬ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • নুসরাত হত্যাকান্ড : ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিচার শুরু

নুসরাত জাহান রাফির জিজ্ঞাসাবাদের ভিডিও ধারণ করে ছড়িয়ে দেয়ার মামলায় সোনাগাজী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেনের বিচার শুরু হয়েছে।আজ বুধবার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আসসামছ জগলুল হোসেন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা এই মামলায় অভিযোগ গঠন করেন। আসামির জামিনের আবেদনও তিনি নাকচ করেন।

বরখাস্ত পুলিশ কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম অবশ্য তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। পরে বিচারক আগামি ৩১ জুলাই সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ঠিক করেন।

সকাল ১০টার দিকে ওসি মোয়াজ্জেমকে কশিমপুর কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। আর বেলা দুইটার দিকে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

ফেনীর ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার ছাত্রী নুরসাতকে পুড়িয়ে হত্যার পর থানায় তার জবানবন্দির ভিডিও প্রকাশ হয় ফেসবুকে। অভিযোগ উঠে, বেআইনিভাবে এই ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়েছেন ওসি মোয়াজ্জেম। তার বিরুদ্ধে মামলা করেন আলোচিত ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।

অবশ্য শুনানিতে ঢাকা বারের সাবেক সভাপতি আবু সাঈদ সাগর, ফারুক আহমেদ ও খন্দকার মাশফিকুল হুদা আসামি মোয়াজ্জেমকে নির্দোষ দাবি করেন। তারা তার অব্যাহতির আবেদন করেন।

আইনজীবীরা বলেন, যিনি বাদী হয়ে মামলা করেছেন মানহানির সংজ্ঞা অনুযায়ী তার মামলা করার এখতিয়ার নেই। যে ভিডিও ধারণ করা হয়, তা স্থানীয় মেয়রসহ অনেকের উপস্থিতিতে ধারণ করা হয়েছিল। সেখানে কোন অসৎ উদ্দেশ্য ছিল না। আর ভিডিওটি তিনি (মোয়াজ্জেম) ছড়াননি। মোবাইল থেকে জনৈক সংবাদিক সজল আসামির অজান্তে নিয়ে ছড়িয়ে দিয়েছেন। তা জানার পর আসামি জিডিও করেছেন। তাই আসামির বিরুদ্ধে এ মামলায় অভিযোগ হতে পারে না।

তবে রাষ্ট্রপক্ষে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর নজরুল ইসলাম শামীম বলেন, ‘আসামিপক্ষ এটা অস্বীকার করেননি যে, ভিডিও তার মোবাইল থেকে হয়নি। আর একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার মোবাইল থেকে একটি সেনসিটিভ (সংবেদনশীল) ভিডিও কেউ তার অজান্তে নিয়ে যাবেন এটা সত্য হতে পারে না। প্রতিবেদন অনুযায়ী আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। তাই আসামির বিরুদ্ধে চার্জগঠনের প্রস্তাব করছি।’

উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক আসামির বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৬, ২৯ ও ৩১ ধারায় অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন। এরপর প্রসিকিউটর অভিযোগ পড়ে শুনিয়ে ‘দোষী না নির্দোষ’ জিজ্ঞেস করলে আসামি মোয়াজ্জেম নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। এরপর আদালত সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেন।

শুনানি চলাকালে মামলার বাদী সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন।

গত ১৬ জুন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন গ্রেপ্তার হন এবং ১৭ জুন তাকে একই ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলে কারাগারে পাঠানো হয়। গত ২৪ জুন এক আবেদনে ট্রাইব্যুনাল তাকে কারাবিধি অনুযায়ী তাকে ডিভিশন প্রদানের আদেশ দেন। প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা হিসেবে কারাবিধি অনুযায়ী প্রথম শ্রেণির মর্যাদা ভোগ করছেন।

গত ২৭ মে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) এ মামলায় দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। ওইদিনই তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার রীমা সুলতানা প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে দাখিল করেন।

নুসরাত যে কলেজে পড়তেন সেই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদ্দৌলার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির মামলা হয়েছিল। সে মামলা তুলে নিতে নুসরাতের পরিবারকে হুমকি দেয়া হচ্ছিল। তারা রাজি না হওয়ার পর ৬ এপ্রিল নুসরাতের গায়ে কেরসিন ঢেলে আগুন দেওয়া হয়। পাঁচদিন পর গত ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যান নুসরাত।