banner

শেষ আপডেট ২৬ অগাস্ট ২০১৯,  ১০:৪৮  ||   সোমবার, ২৬ই আগষ্ট ২০১৯ ইং, ১১ ভাদ্র ১৪২৬

সাংবাদিক হত্যার বিচার না হওয়া রাষ্ট্রের ব্যর্থতা

সাংবাদিক হত্যার বিচার না হওয়া রাষ্ট্রের ব্যর্থতা

১৬ জুলাই ২০১৯ | ২২:৫৮ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সাংবাদিক হত্যার বিচার না হওয়া রাষ্ট্রের ব্যর্থতা

দীর্ঘ ১৯ বছর পার হলেও বিচার হয়নি যশোরের সাহসী সাংবাদিক দৈনিক জনকণ্ঠের বিশেষ প্রতিনিধি শামছুর রহমান কেবল হত্যাকান্ডের। এতে ক্ষুব্ধ, স্বজন, সাংবাদিক সমাজ। শামছুর রহমান কেবল, সাগর রুনির মত সাংবাদিকদের খুনের বিচার না হওয়াকে রাষ্ট্রের ব্যর্থতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর সাবেক তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা সাংবাদিক হত্যার বিচার দাবিতে আন্দোলন সংগ্রাম করছি। কিন্তু বিচার আমরা পাইনি। যে সমাজ, রাষ্ট্রে সাংবাদিক হত্যার বিচার হয় না, সেখানে সাহসী সাংবাদিকতার সক্ষমতা দেখানো সম্ভব নয়। সাহসী সাংবাদিকতা না থাকলে গণতন্ত্রের বিকাশ হবে না। সাহসী সাংবাদিকতা ও গণতন্ত্র একইসূত্রে গাঁথা। সাংবাদিক হত্যার বিচার না হওয়া রাষ্ট্রের ব্যর্থতা। আমাদের নেতৃত্বে ব্যর্থতা। দেশে সামরিক শাসন, স্বৈরশাসন ছিল। পরবর্তীতে গণতান্ত্রিক সরকার রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসেছে। গণতন্ত্রেও বিকাশে সাংবাদিক হত্যার বিচার করতে হবে।আজ মঙ্গলবার বিকালে যশোর সাংবাদিক ইউনিয়ন (জেইউজে) আয়োজিত শহীদ সাংবাদিক শামছুর রহমান কেবল হত্যার ১৯তম বার্ষিকীর স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এইসব কথা বলেন।

ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, সাগর-রুনি হত্যার তদন্তের দায়িত্ব যাদের দেওয়া হয়েছে তারা সময়ক্ষেপন করেছে। ৯০বার সময় নিয়েছে। শামছুর রহমান কেবল হত্যার বিচারিক কার্যক্রমেও স্থবিরতা। এটা বিচার বিভাগের নিষ্ক্রিয়তা নাকি সরকারের ব্যর্থতা। সেই প্রশ্ন থেকে যায়। শামছুর রহমান কেবল সাহসী সাংবাদিকতার জন্যই প্রাণ দিয়েছেন। কোন ব্যক্তিগত কারণে নয়। দীর্ঘদিনেও হত্যার বিচার না হওয়ায় সাংবাদিক সমাজ ক্ষুব্ধ।

যশোর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত স্মরণ সভায় সভাপতিত্ব করেন জেইউজে সভাপতি সাজেদ রহমান। সভায় বিশেষ অতিথি বিএফইউজে-বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব শাবান মাহমুদ বলেন, আদর্শিক সরকার ক্ষমতায় থাকার পরও শামছুর রহমান কেবল হত্যার বিচার হলো না। এটা রাষ্ট্রের ব্যর্থতা। আজকের পর থেকে আর নীরব প্রতিবাদ নয়। বিচার প্রক্রিয়ার ক্ষেত্র তৈরিতে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। বিচার নিশ্চিতে সরকারকে বাধ্য করা হবে।

জেইউজে সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলনের সঞ্চালনায় স্মরণ সভায় বক্তব্য রাখেন বিএফইউজে সহ-সভাপতি মনোতোষ বসু, যশোর সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি একরাম উদ দ্দৌলা, প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এসএম তৌহিদুর রহমান, গ্রামের কাগজ সম্পাদক মবিনুল ইসলাম মবিন, সিনিয়র সাংবাদিক কবি ফখরে আলম, বিএফইউজে যুগ্ম মহাসচিব সাকিরুল কবীর রিটন। উপস্থিত ছিলেন শহীদ সাংবাদিকের সহধর্মিনী সেলিনা আক্তার লাকী ও ছোট মেয়ে প্রণতি রহমান।

এর আগে সাংবাদিকরা কালো ব্যাচ ধারণ ও শহরের কারাবালায় শহীদ সাংবাদিক শামছুর রহমানের কবরে ফুলেল শ্রদ্ধা জানানো হয়। বিএফইউজে, প্রেসক্লাব, যশোর সাংবাদিক ইউনিয়ন, সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোর, ফটো জার্নালিস্ট আসোসিয়েশনসহ সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবন্দ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে প্রেসক্লাবের আয়োজনে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।