banner

শেষ আপডেট ১৫ নভেম্বর ২০১৯,  ২০:৫০  ||   শুক্রবার, ১৫ই নভেম্বর ২০১৯ ইং, ১ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬

হতাশার সমুদ্রে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগকারীরা

হতাশার সমুদ্রে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগকারীরা

১ জুলাই ২০১৯ | ১৯:৫৭ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • হতাশার সমুদ্রে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগকারীরা
২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য সরকার সঞ্চয়পত্র থেকে ২৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে। প্রস্তাবিত বাজেটে সরকার সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে প্রস্তাবিত বাজেটে ১০ শতাংশ প্রস্তাব রেখেই অর্থবিল, ২০১৯ পাস করেছে। এ উৎস কর বাড়ানোর কারণে আগামীতে অসহায়, অস্বচ্ছল গরীব,সাধারণ মধ্যবিত্ত,নিম্নমধ্যবিত্ত,বিধবা, মহিলা ও অবসরপ্রাপ্ত সরকারী কর্মচারীদের উপর বিরুপ প্রভাব পড়বে। কারণ সঞ্চয় পত্রের মুনাফা থেকে কেউ মাসিক ঘড়ভাড়া পরিশোধ করতো, কেউবা ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালাতো,বিধবা বা মহিলারা সংসার খরচে যোগান দিত।
সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগকারীদের বক্তব্য, সরকার বারে বারে ব্যবসায়ীদের সুবিধা দিচ্ছেন, শিক্ষকদের বেতন দিচ্ছেন, সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়িয়ে দিচ্ছেন, সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি কেনার সুযোগ-সুবিধা সহ না সুবিধা দিচ্ছেন, অনেক সেক্টরে সুবিধা বাড়ালেন। কিন্তু,সরকার আমাদের সাধারণ গরীবদের বেঁচে থাকার অবলম্বন সঞ্চয় পত্রের উপর হাত দিয়ে আমরা গরীবদের বাঁচার কোন উপায় রাখছেন না।
দেওয়ান বাজার এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকা নমিতা রানী শীল বলেন, প্রতি বছর আমরা শহরে ভাড়া বাসায় বাস করা সাধারণ মানুষগুলোর বাসা ভাড়া বৃদ্ধি পাচ্ছে। এরি মধ্যে আবার বাড়লো আবাসিক খাতে গ্যাসের দাম। দুই চুলার খরচ ৮০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯৭৫ টাকা। আর এক চুলার খরচ ৭৫০ টাকা থেকে ৯২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গৃহস্থালি মিটারে দাম বেড়েছে প্রতি ঘনমিটারে ১২.৬০ টাকা। কিভাবে আমাদের সন্তানদের লেখা-পড়া সহ আমাদের জীবন যাত্রার ব্যয়ভার বহন করবো দুশ্চিন্তায় আছি।
একই এলাকার ফাতেমা আক্তার বলেন,এ বাজেটের ফলে বাড়ছে সয়াবিন তেল, চিনি, গুড়োদুধ,পামওয়েল, প্লাস্টিক সামগ্রীসহ বেশকিছু পণ্য ও ভোগ্য পণ্যের দাম। এসব জিনিষপত্রের দাম বড় লোক বা ধনী লোকদের প্রভাবিত করবে না। এগুলো নাভিশ্বাস বের করে ফেলবে আমাদের সাধারণ জনগণের। আমাদের দেশে বাজেটের গন্ধ পেলেই ফুটপাতের দোকানি থেকে শুরু করে পাইকারী দোকানি পর্যন্ত সবাই জিনিসপত্রের দাম হু হু করে বাড়িয়ে দেয়। এসব নিয়ন্ত্রণে আজ পর্যন্ত সরকারের কোনো মেকানিজম নেই। এছাড়া  ব্যাবসায়ী,চাকুরিজীবি থেকে আরম্ভ করে ঘরের গৃহ পরিচারিকা পর্যন্ত সবার কাছে মোবাইল ফোন অপরিহার্য। আর বাজেটে সে মোবাইল ফোনেরও কলরেট বেড়েছে। যেখানে পাশের দেশ ভারতে কল রেট এবং ইন্টারনেট প্যাকেজের মূল্য দেখলে সত্যিই আশ্চর্যজনক মনে হয়, সেখানে আমাদের দেশে কল রেট এবং ইন্টারনেট সেবার মূল্য ধারাবাহিকভাবে বাড়ছেই।তাই এ বাজেট সবই বড়লোক বান্ধব ও দুর্নীতিবাজদের উৎসাহিত করার বাজেট বলে মনে করি।
ব্যাংকার জনৈক নুরুল হক বলেন,দেশে শীর্ষ ৩০০ ঋণ খেলাপির তালিকা সংসদে দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে বর্তমানে মোট ৫১ হাজার ২০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। কারণ ঋণ আদায়ে সাম্প্রতিক সময়ে কোন খেলাপির বিরুদ্ধে কোন কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, এমন উদাহরণ নেই। কারণ,যারা ঋণ খেলাপি তারা রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে প্রভাবশালী, বা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এবং প্রভাবশালীদের সাথে তাদের যোগাযোগ। তাই,মধ্যম, নিরীহ ও বলির পাঠা সাধারণ জনগণই রাষ্ট্রের সব ধরনের অনিয়মকে টিকিয়ে রাখার জন্য এবং রাষ্ট্রের অপচয় চালিয়ে নেওয়ার জন্য নানা কর দিতে হচ্ছে এ সাধারণ জনগনকেই।