banner

শেষ আপডেট ১৭ জুলাই ২০১৯,  ১০:৩৪  ||   বুধবার, ১৭ই জুলাই ২০১৯ ইং, ২ শ্রাবণ ১৪২৬

রোহিঙ্গা সংকট জিইয়ে থাকলে উগ্রবাদের উত্থানের আশঙ্কা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

রোহিঙ্গা সংকট জিইয়ে থাকলে উগ্রবাদের উত্থানের আশঙ্কা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

২৯ জুন ২০১৯ | ১৩:০১ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • রোহিঙ্গা সংকট জিইয়ে থাকলে উগ্রবাদের উত্থানের আশঙ্কা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

রোহিঙ্গা সংকট জিইয়ে থাকলে উগ্রবাদের উত্থানের পাশাপাশি বাংলাদেশ ও মিয়ানমারে চীনের বিনিয়োগপ্রত্যাশা ব্যাহত হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন চীন সফর নিয়ে গতকাল শুক্রবার বিকেলে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি ওই আশঙ্কার কথা জানান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো জানান, প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে বাংলাদেশ ওই আশঙ্কার কথা চীনের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের কাছে তুলে ধরবে এবং এ ব্যাপারে সহযোগিতা চাইবে। প্রধানমন্ত্রী আগামী ২ ও ৩ জুলাই চীনের দালিয়ানে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের অধিবেশনে যোগ দিয়ে বাংলাদেশ ও এশিয়ার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরবেন।

এরপর ৫ জুলাই পর্যন্ত তিনি বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাদা বৈঠক করবেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন সফরে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে মোট আটটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হবে। সেগুলো হলো—ঢাকা বিদ্যুৎ বিতরণ কম্পানি (ডিপিডিসি) এলাকায় বিদ্যুত্ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ ও সম্প্রসারণে কাঠামো চুক্তি, ডিপিডিসি এলাকা প্রকল্পে বিদ্যুত্ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ ও সম্প্রসারণে সরকারি পর্যায়ে কনসেশনাল ঋণচুক্তি, ডিপিডিসি এলাকা প্রকল্পে বিদ্যুত্ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ ও সম্প্রসারণে প্রেফারেনশিয়াল বায়ারস ঋণচুক্তি, পাওয়ার গ্রিড নেটওয়ার্ক শক্তিশালীকরণে কাঠামোচুক্তি, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহায়তা চুক্তি, বিনিয়োগ সহযোগিতা ওয়ার্কিং গ্রুপ প্রতিষ্ঠা বিষয়ে এমওইউ, ব্রহ্মপুত্র বা ইয়ালু ঝাংবো নদের পানি প্রবাহ সংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত বিনিময়ের পরিকল্পনা ও তা বাস্তবায়ন বিষয়ে এমওইউ এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় ও পর্যটন কর্মসূচির বিষয়ে এমওইউ।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘চীন মিয়ানমারকে মদদ দিচ্ছে—এটি আমরা বিশ্বাস করি না। চীনের একটি অবস্থান আছে। তারা আমাদেরও সাহায্য ও সমর্থন দিচ্ছে। চীন বিশ্বাস করে এবং আমাদের বারবার বলেছে, রোহিঙ্গাদের ফেরত যাওয়ার ব্যাপারে তারা আমাদের সঙ্গে একমত। নিরাপত্তা পরিষদে চীনের বিরোধিতার অন্য কোনো উদ্দেশ্য থাকতে পারে।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চীন বললেই যে মিয়ানমার শুনবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। ফিলিস্তিন সংকটের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাব গৃহীত হলেও অনেক ক্ষেত্রে অনেক সময় তা কার্যকর হয় না।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ চীনকে কী বলবে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আশ্রিত রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের জনগণ। শুধু মুসলমান নয়, বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর সদস্যরা নিপীড়িত হয়ে বাংলাদেশে এসেছে। বাংলাদেশ স্বল্প সময়ের জন্য তাদের আশ্রয় দিয়েছে। রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে দীর্ঘ সময় থাকলে পুরো অঞ্চলে উন্নয়ন ব্যাহত হতে পারে।

বিশেষ করে, রোহিঙ্গা সংকট জিইয়ে থাকলে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারে চীনের যে বড় বিনিয়োগ ও বিনিয়োগপ্রত্যাশা আছে, তা ব্যাহত হবে। এ ছাড়া উগ্রবাদেরও উত্থান হতে পারে। চীনকে এটি বোঝানোর চেষ্টা করবে বাংলাদেশ।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সফরকালে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে যে চুক্তিগুলো হয়েছিল, সেগুলো বাস্তবায়নের কাজ চলছে। বাংলাদেশ চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভে (বিআরআই)’ যোগ দিয়েছে।

চীনা ঋণের ফাঁদ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এ বিষয়ে সজাগ আছে। প্রয়োজন ছাড়া কোনো ঋণ বাংলাদেশ নিচ্ছে না।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলও চীন যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী চীনের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে একটি গোলটেবিল বৈঠকেও অংশ নেবেন। সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী আগামী ৬ জুলাই ঢাকায় ফিরবেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হকসহ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন সংবাদ সম্মেলনে।