banner

শেষ আপডেট ১৭ জুলাই ২০১৯,  ১০:৩৪  ||   বুধবার, ১৭ই জুলাই ২০১৯ ইং, ২ শ্রাবণ ১৪২৬

রোহিঙ্গারা আমাদের জন্য অবশ্যই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে–স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রোহিঙ্গারা আমাদের জন্য অবশ্যই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে–স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

২৭ জুন ২০১৯ | ২১:৪৭ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • রোহিঙ্গারা আমাদের জন্য অবশ্যই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে–স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ক্রাইম প্রতিবেদকঃ রোহিঙ্গারা আমাদের জন্য অবশ্যই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রামে বাংলাদেশ পুলিশ উইমেন অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

রোহিঙ্গাদের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, রোহিঙ্গারা যাতে দেশে কোনো অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য নিরাপত্তাবাহিনীকে সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা শুধু যে নিরাপত্তা নিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখে আছি তা নয়, ওই জায়গায় বিশাল বনও উজাড় হয়ে গেছে। সামাজিক পরিবর্তনও আসছে। একজন স্থানীয় শ্রমিক যদি দৈনিক ৫০০-৬০০টাকা আয় করতেন, এখন একজন রোহিঙ্গাকে ২০০ টাকা দিলেই তারা কাজ করছে। আবার তারা নির্ধারিত জায়গা থেকে বেরিয়ে যেকোনো জায়গায় যাবার চেষ্টা করছে। নিরাপত্তা বাহিনী আবার তাদের ধরে নিয়ে আসছে।

তিনি আরও বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে লক্ষ লক্ষ লোক চলে এসেছে, এটা নিয়ে আমাদের কোনো ধারণা ছিল না। ধারণা থাকলে আমরা আগে থেকে একটা ব্যবস্থা করে রাখতে পারতাম। কাঁটাতারের একটা বেড়া দেওয়ার কথা ছিল, সেটাও আমরা করতে পারিনি।প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা একটা ব্যবস্থা করছি, যাতে তার বের হতে না পারে। ভেতরে যাতে তারা কোনো ঘটনা ঘটাতে না পারে সেই ব্যবস্থা আমরা করছি। তারা যাতে কোনো ধরনের অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করতে না পারে বা কোনো ধরনের যাতে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে লিপ্ত হতে না পারে, সেজন্য আমাদের নিরাপত্তা বাহিনীর সবাই তৈরি আছি। আশা করি তারা এখানে কিছু করতে পারবে না।
‘বরগুনায় প্রকাশ্যে হত্যাকান্ডের ঘটনায় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে বলে মনে করেন কি?’- এমন প্রশ্নের জবাবে আসাদুজ্জামান খান বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হবে কেন, আমাদের পুলিশবাহিনী তো সঙ্গে সঙ্গে কাজ করছে। এ ধরনের দু’য়েকটি ঘটনা আগেও ঘটেছে। ফেনীতে নুসরাত হত্যাকান্ডের পর আমাদের পিবিআই তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে আসলে যারা জড়িত তাদের ধরে আদালতে সোপর্দ করেছে। আমাদের পুলিশ অনেক দক্ষ, তারা যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারে।
তিনি বলেন, বরগুনার ঘটনা অবশ্যই দুঃখজনক। কেন ঘটেছে, সেটা আমরা তদন্ত করে দেখছি। ঘটনার পর আমাদের পুলিশ কিন্তু বসে নেই। এই মুহূর্তের খবর হলো- দু’জনকে আমাদের পুলিশ ধরে ফেলেছে এবং বাকি যেকয়জন এই নৃশংস হত্যাকান্ডে জড়িত তাদের সবাইকে আমরা ধরব। সবাইকে আইনের আওতায় এনে আদালতের কাঠগড়ায় হাজির করব। জড়িতদের ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানান তিনি।
পুলিশের সক্ষমতা বাড়ার বিষয়টি উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যত ঘটনাই ঘটুক, আমাদের পুলিশ দক্ষতা এবং সক্ষমতায় অনেক এগিয়ে গেছে। পিছিয়ে পড়া পুলিশ এখন আর নেই। ১০ বছর আগের চেয়ে এখনকার পুলিশ অনেক দক্ষ, অনেক সক্ষম এবং অনেক ইনফরমেটিভ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন ও কর্মসংস্থানের প্রয়াসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারী নীতি সংশোধন করেছেন যাতে নারী নিজের যোগ্যতা দিয়ে সমাজ ও পরিবারে জায়গা করে নিতে পারে। তিনি বলেন নারী নীতি সংশোধন করে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে বদলে দিয়েছেন। এর ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রাজনীতিসহ সবক্ষেত্রে নারীরা স্থান করে নিয়েছে।
চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশ কমিশনার মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো বক্তব্য রাখেন শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহীবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, বাংলাদেশ পুলিশ ইন্সপেক্টর জেনারেল ড. মো. জাবেদ পাটোয়ারী, সংরক্ষিত মহিলা সাংসদ ওয়াসিকা আয়েশা খান, পুনাক সভানেত্রী হাবিবা জাবেদ, চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক, চট্টগ্রাম অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার নুরুল আলম নিজামী, বাংলাদেশ উইমেন পুলিশ নেটওয়ার্ক সভাপতি আমেনা বেগম প্রমুখ।
শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান বলেন, নারী পুলিশ সদস্যরা সমাজে বিপ্লব ঘটিয়েছে। নারীরা পুরুষের সাথে সমান তালে অগ্রসর না হলে সমাজের কোন উন্নয়নই টেকসই হবে না। নারীরা পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করছে বলেই ১০ জন নারী পুলিশ সদস্য উইমেন পুলিশ এ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন।
বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটওয়ারী বলেন, সর্বোচ্চ পেশাধারিত্ব ও দক্ষতার সমন্বয়ে কর্মজীবন গড়ে তোলার লক্ষ্যে ২০০৮ সালে বাংলাদেশ পুলিশ উইমেন নেটওয়ার্ক যাত্রা শুরু করে। তিনি বলেন, সামাজিক দায়বদ্ধতায় সমাজের সকল অংশীজনের মাঝে নারী ও শিশু নির্যাতন, পারিবারিক সহিংসতা, মাদকের প্রসার, যৌতুক ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক কাজে পুলিশের অবদান অগ্রগণ্য। সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমানে ৭.১০ শতাংশ নারী সদস্য কর্মরত আছেন। এ সদস্য সংখ্যা ১০ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে ১ হাজার ৪ জন নারী ইউএন মিশনে কর্মরত রয়েছে। তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকার বাংলাদেশ পুলিশের আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। পুলিশকে একটি জেন্ডার সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বাংলাদেশ উইমেন পুলিশ নেটওয়ার্কের (বিপিডব্লিউএন) এর সভাপতি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আমেনা বেগম বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৪ সালে প্রথম ১৪ জন নারী সদস্যকে পুলিশ বিভাগে নিয়োগদানের মাধ্যমে নারীর অংশগ্রহণের সূচনা করেন। ১৯৭৬ সালে ডিএমপিতে ইউনিফর্ম সার্ভিসে সাব ইন্সপেক্টর ও কনস্টেবল পদে আরো ১৪ জন নারী যোগদান করে। তারই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে চার ৪ জন অতিরিক্ত ডিআইজি, ৭২ জন পুলিশ সুপার, ১০০ জন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ১১০ জন সহকারী পুলিশ সুপার, ১১৩ জন পুলিশ পরিদর্শক, ৮২৯ জন এস.আই, ৫৩ জন সার্জেন্ট, ১০৩৯ জন এএসআই, ১১১ জন নায়েক, ১০ হাজার ৯ শত ৭১ জন কনস্টেবলসহ বাংলাদেশ পুলিশে ১৩ হাজার ৪ শত ২ জন নারী কর্মরত আছে।পরে কর্মজীবনে বিশেষ অবদানের জন্য পুলিশের দশজন নারী সদস্যকে পুরস্কৃত করা হয়।
সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেছেন, নারী শক্তিকে পিছনে রেখে সমাজ সভ্যতার উন্নয়ন অগ্রগতি সম্ভব নয়। এই বিশ্বের সকল সমৃদ্ধির ইতিহাসের সাথে পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের অবদানও জড়িয়ে রয়েছে। নারী শক্তিকে সঠিক মূল্যায়নের অংশ হিসেবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ পুলিশে নারী অন্তর্ভুক্তিকরণ শুরু করেন। সেদিন বাংলাদেশ পুলিশে মাত্র ১৪ জন নারী সদস্যের যোগদানের মধ্য দিয়ে এই পদযাত্রার সূচনা হয়। জাতির জনকের এই দূরদর্শী মনন অনুসরণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুলিশে নারীর যোগদান আরো সক্রিয় করে চলেছেন।
প্রসঙ্গত, দেশের পুলিশ বিভাগে ২৩ হাজার নারী সদস্য কাজ করেন। তার মধ্যে ৭২ জন পুলিশ সুপার ও তদুর্ধ কর্মকর্তা। বাৎসরিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ পুলিশ উইমেন নেটওয়ার্কের আয়োজনে তাদের পুরস্কার দেয়া হয়। এবারই প্রথম ঢাকার বাইরে এ অনুষ্ঠান।