banner

শেষ আপডেট ১৫ নভেম্বর ২০১৯,  ২০:৫০  ||   শুক্রবার, ১৫ই নভেম্বর ২০১৯ ইং, ১ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬

পল্লী বিদ্যুৎ অনিয়ম পর্ব-০২ > বৈধ বিল দেওয়ার পরও ক্ষমতা অপব্যবহার করে টাকা চায় ডেপুটি জেনারেল ম্যানাজার

পল্লী বিদ্যুৎ অনিয়ম পর্ব-০২ > বৈধ বিল দেওয়ার পরও ক্ষমতা অপব্যবহার করে টাকা চায় ডেপুটি জেনারেল ম্যানাজার

২১ জুন ২০১৯ | ১৯:৪৭ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • পল্লী বিদ্যুৎ অনিয়ম পর্ব-০২ > বৈধ বিল দেওয়ার পরও ক্ষমতা অপব্যবহার করে টাকা চায় ডেপুটি জেনারেল ম্যানাজার

ক্রাইম প্রতিবেদকঃ সাতকানিয়া থানার কেরাণী হাট শাখার পল্লী বিদ্যুৎ অফিস কর্তৃক গ্রাহক হয়রানি অভিযোগ উঠেছে। কেরাণী হাট অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানাজার আবুল বাসারসহ সবাই নাকি ক্ষমতার অপ-ব্যবহার করছে । যার কারণে গ্রাহকের অভিযোগ শুনার মত কেউ নাই।
সাতকানিয়া থানার দক্ষিণ চরতীর মনির আহাম্মদের এপ্রিল ২০১৯ সাল পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ থাকলেও তা এখন পরিনত হয়েছে দুই বছরের অবৈধ সংযোগে। কিছু অসাধু দালালের কারণে এমনটি হচ্ছে দাবী করেছেন মনির আহম্মদের স্ত্রী ময়ুরুন নাহার।
সরেজমিনে তদন্ত করে দেখা গেছে মনির আহাম্মদ তার মিটার থেকে দুইটি রুমে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। দুই রুমে দুইটি ফ্যান ও দুইটি বাল্ব ব্যবহার করে। তিনি আর কোন টিভি কিংবা ফ্রিজ বা অন্য কোন কিছু ব্যবহার করে না। তাতে এত টাকা বিল আসার কথা নয়।
চার মাসের বকেয়ার কারণে সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করলেও তিনি সংযোগ ফিসহ সব টাকা পরিশোধ করেন। পরে সংযোগ বিচ্ছিন্ন বিষয়টি হয়ে গেছে দুই বছর ধরে অবৈধ লাইন। অনেকবার ধর্ণা দিয়েও সঠিক প্রতিকার পাইনি মনির আহাম্মদের স্ত্রী ময়ুরুন নাহার। তার আকুতিতে বিষয়টি আমাদের প্রতিবেদকের নজরে আসে।
মনির আহাম্মদের স্ত্রী ময়ুরুন নাহার বলেন, আমাকে আমিলাইশ সাব-অফিস থেকে কেরাণী হাট পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করতে বলে। আমি ডেপুটি জেনারেল ম্যানাজার আবুল বাসারের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি আমাকে একটি নোটিশ ধরিয়ে দিয়ে বলেন আপনি দুই বছর ধরে অবৈধ লাইনে বিদ্যুৎ ব্যবহার করছেন। আমি প্রতিবাদ করলে তিনি আমাকে নোটিশের পেছনের পৃষ্টায় হিসাব দেন যে, আপনি ২০১৮ সালের মে মাসে ৮০ ইউনিট, জুনে ১৩০ ইউনিট, জুলাইতে ৩৫ ইউনিট, আগষ্টে ৮৫ইউনিট, সেপ্টম্বরে ৪০ ইউনিট, অক্টোবরে ০৫ ইউনিট, নভেম্বরে ০৫, ডিসেম্বরে ১৫ ইউনিট এবং ২০১৯ সালের জানুয়ার তে ০৫ ইউনিট, ফ্রেব্রুয়ারীত ২০ ইউনিট, মার্চে ১৫ ইউনিট, এপ্রিলে ২০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করেছেন। উক্ত হিসাব অনুযায়ী আপনি ২৫,০০০/- পঁচিশ হাজার টাকা জমা দিবেন। অন্যথায় আপনার বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। ময়ুরুন নাহার আবুল বাসারের হাতের লেখা একটি কাগজ দেখান।
ময়ুরুন নাহার পরিশোধিত বিলের কপি দেখিয়ে বলেন, এই দেখেন আমি ২০১৮ সালের মে মাসে ৯১১ টাকা, জুনে ৭২৩ টাকা, আগষ্টে ১১৬২ টাকা, সেপ্টম্বরে ৯৪৬ টাকা, অক্টোবরে ৮৬ টাকা, নভেম্বরে ১৪৯ টাকা, ডিসেম্বরে ১২৭ টাকা এবং ২০১৯ সালের জানুয়ারীতে ৮৬ টাকা, ফেব্রুয়ারীতে ২৭৫ টাকা, মার্চে ৩৩৫ টাকা , এপ্রিলে ৬৩০ টাকার বিল পরিশোধ করেছি।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমি যদি দুই বছর ধরে অবৈধ লাইন ব্যবহার করি তাহলে তারা আমাকে বিল কিভাবে দিল ? আমি যথাযথ আইন মেনে বিল পরিশোধ করেছি। আমার মিটারটি জব্দ করে এখন বলছে আমি অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করছি। এমন স্বেচ্ছাচারিতার বিচার কে করবে ? আমরা সাধারণ মানুষ টেকনিক্যোল কাজ বুঝিনা বলে তারা যা ইচ্ছা তাই করছে। মাত্র দুইটা বাল্ব আর দুইটা ফ্যান থেকে এত টাকা বিল কিভাবে আসে আমাদের মাথায় আসে না।
পটিয়া জেনারেল ম্যানাজার বরাবরে দাখিলকৃত একটি আবেদন দেখিয়ে ময়ুরুন নাহার বলেন, আমি এর প্রতিকার চেয়ে পটিয়া জেনারেল ম্যানাজার বরাবরে আবেদন করেছি। ওখানেও যদি ন্যায় বিচার না পায় তাহলে আমি কোর্টে যাব।
তিনি বলেন, সাতকানিয়া কেরাণী হাট পল্লী বিদ্যুতের দালাল নুর মোহাম্মদ আমার ভাসুরকে বলছে আমাকে ১৫,০০০/- পনের হাজার টাকা দিলে আমি ঠিক করে দেব। এটা নিয়ে এত ঘুরে লাভ নাই ।
এই ব্যাপারে এলাকার সচেতন মহলের সাথে আলাপ করা হলে তারা বলেন, যদি মনির আহাম্মদের মিটার দুই বছর ধরে অবৈধভাবে ব্যবহার করে তাহলে যিনি বিল রিডার তিনি কি দেখন নাই ? তিনিতো পল্লী বিদ্যুতের কর্মচারী বিষয়টি অফিসে জানাননি কেন ?
এলাকায় অভিযোগ উঠেছে এজিএম আবুল বাসারের অবৈধ নিয়োগকৃত নুর মোহাম্মদ মিটার চেক করার নামে বিভিন্নভাবে গ্রাহককে হয়রানি করে মাঝখান থেকে অবৈধভাবে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। পল্লী বিদ্যুৎ কেরাণী হাট অফিসে ফোন করলে এজিএম আবুল বাসার সাথে সাথে নুর মোহাম্মদকে নাকি ফোন করে । যার কারণে নুর মোহাম্মদ মাঝখান থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়া উচিৎ।
এই ব্যাপারে দুদক চট্টগ্রাম অফিসের সাথে যোগাযোগ করা হলে জানান, ছোট হউক বড় হউক দুর্নীতি দুর্নীতিই । এতে ছোট বড় নাই। কেউ অভিযোগ করলে অবশ্যই তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেব।
চলবে ….