banner

শেষ আপডেট ১৭ জুলাই ২০১৯,  ১০:৩৪  ||   বুধবার, ১৭ই জুলাই ২০১৯ ইং, ২ শ্রাবণ ১৪২৬

রোববার সকল গণমাধ্যম কর্মিদের অর্ন্তভুক্ত করে নবম ওয়েজ বোর্ড ঘোষনার দাবিতে সিইউজের বিক্ষোভ-সামবেশ

রোববার সকল গণমাধ্যম কর্মিদের অর্ন্তভুক্ত করে নবম ওয়েজ বোর্ড ঘোষনার দাবিতে সিইউজের বিক্ষোভ-সামবেশ

১৪ জুন ২০১৯ | ১৭:৪৭ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • রোববার সকল গণমাধ্যম কর্মিদের অর্ন্তভুক্ত করে নবম ওয়েজ বোর্ড ঘোষনার দাবিতে সিইউজের বিক্ষোভ-সামবেশ

প্রেস বিজ্ঞপ্তিঃ সংবাদপত্র, সংবাদসংস্থাসহ ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত গণমাধ্যম কর্মিদের ওয়েজ বোর্ডের আওতায় এনে অবিলম্বে নবম ওয়েজ বোর্ড ঘোষনা ও কার্যকর করাসহ পাঁচদফা দাবিতে চট্টগ্রামে সাংবাদিকের সমাবেশের ডাক দিয়েছে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন-সিইউজে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে সিইউজের নির্বাহী কমিটির জরুরী সভায় এই কর্মসুচি ঘোষনা করা হয়।
সিইউজের সভাপতি নাজিমুদ্দীন শ্যামলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সিইউজের পক্ষ থেকে ৫দফা দাবি উত্থাপন করে অবিলম্বে সেসব দাবি বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়। এসব দাবির মধ্যে রয়েছে, সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নোয়াবের পক্ষ থেকে ৮ম ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নের যে দাবি করা হয়েছে তা খতিয়ে দেখতে সরকারি ভাবে তদন্ত কমিটি গঠন, যেসব সংবাদপত্র ৮ম ওয়েজ বোর্ড পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করেনি সেসব গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের বকেয়াসহ সকল পাওনা পরিশোধ, ডিএফপি দেয়া পত্রিকার সার্কূলেশনসহ আয়-ব্যায় হিসাবের সাথে সংবাদপত্র মালিকদের আয়কর বিভাগে প্রদত্ত হিসাব মিলিয়ে দেখতে সরকারি পর্যায়ে নিরীক্ষা কমিটি গঠন করে সঠিত তথ্য নিরুপন, গণমাধ্যমে কর্মরত সকল সাংবাদিক-কর্মচারীদের জন্য সরকারি ছুটি বাস্তবায়ন, শ্রম আইন অনুযায়ী প্রভিডেন্ট ফান্ড গঠন, নিয়োগপত্র প্রদানসহ ওয়েজ বোর্ড অনুযায়ী সকল প্রান্তিক সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
এসময় সিইউজের নির্বাহী কমিটির সভায় অনান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হাসান ফেরদৌস, বিএফইউজের যুগ্ম মহাসচিব মহসীন কাজী, সিনিয়র সহসভাপতি মাঈনুদ্দিন দুলাল, সহসভাপতি মোহাম্মদ আলী, যুগ্ম সম্পাদক সবুর শুভ, অর্থ সম্পদক কাশেম শাহ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক কুতুব উদ্দিন,সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম ইফতেখারুল ইসলাম, নির্বাহী সদস্য উত্তম সেন গুপ্ত, এম এম ইব্রাহীম, বিশুরায় চৌধুরী প্রমুখ।
সভায় নবম ওয়েজ বোর্ড নিয়ে সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নোয়াব যে বিবৃতি দিয়েছে সে বিবৃতি প্রত্যাখান করে এটিকে মিথ্যা, বানোয়াট, অবাস্তব হিসাবে অভিহিত করা হয়।
সভায় নোয়াবে বিবৃতিতে ডাহা মিথ্যা হিসাবে অভিহিত বলা হয়, নোয়াবের বিবৃতি গণমাধ্যমের সাথে প্রতারণার সামিল। বরং নোয়াব সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে মিথ্যা তথ্য দিয়ে যেসব সরকারী সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করেছে তার বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
সভায় বলা হয়, নোয়াব ৭ম ও ৮ম ওয়েজ বোর্ড এক তরফা ভাবে ঘোষনার যে দাবি করেছে তা সঠিক নয়। ৮ম ওয়েজ বোর্ড নোয়াবের নেতা মাহফুজ আনাম, মতিউর রহমান, এনায়েত উল্লাহ খান, মতিউর রহমান চৌধুরী, এ এস এম শহীদুল্লাহ খান, এম এ মালেকসহ ৬জন পত্রিকা মালিক প্রতিনিধি হিসাবে ছিলেন। ধারাবাহিক ভাবে তারা বৈঠক করেছেন। মালিকদের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন এবং মুদ্রাস্ফিতি সহ বিভিন্ন অজুহাত তুলে ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নে বিরোধীতা করেন। মালিকদের সুপারিশের ভিত্তিতে¦ সার্কূলেশন এবং গ্রস আয়ের ভিত্তিত্বে পত্রিকার ক্যাটাগরী নির্ধারণ করা হয়ে ছিল। যা ছিল সম্পর্ণ বেআইনি ।
৮ম ওয়েজ বোর্ডে সাংবাদিক কর্মচারীদের পক্ষ থেকে ২৫০% শতাংশ বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়ে ছিল। মালিক পক্ষের চাপে সেসময় ৭৫% বেতন বৃদ্ধি করা হয়। নবম ওয়েজ বোর্ডে ৮৫% বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। তা মোটেও বেশী নয়, বরং আগামী ৫ বছরের জীবন যাত্রার মান নির্ধারণ করে ১৫০% বেতন-ভাতা বাড়নোর প্রয়োজন বলে সিইউজে মনে করে।
সিইউজের সভায় আরো বলা হয়, দেশের সংবাদপত্র এবং গণমাধ্যম কর্মিরা পরিচালিত হন বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬(সংশোধিত ২০১৩) বিধান অনুযায়ী। এই আইনের ১৪৩ ধারা অনুযায়ী সরকার মজুরী বোর্ড গঠন করে। ১৪৫ ধারা অনুযায়ী মজুরী বোর্ড তাদের সিদ্ধান্ত প্রকাশ করে। ১৪৬ ধারায় অর্ন্তবতীকালীন মজুরী ঘোষনা করা হয়। ১৪৮ ধারা অনুযায়ী ১৪৫ধারার অধীন ঘোষিত নূন্যতম মজুরী প্রদানের বাধ্যবাধকতা আছে। কিন্তু নোয়াব সদস্যরা এইসব আইন দীর্ঘদিন ধরে লংঘন করে আসছেন। ৮ম ওয়েজ বোর্ড গঠন এবং এর অধীন রোয়েদাদ ঘোষনা একটি মিমাংসিত বিষয়। শ্রম আইনের ২৯৩ ধারা অনুযায়ী মিমাংসিত বিষয় অর্থাৎ নিষ্পত্তি, সিদ্ধান্ত বা রোয়েদাদ বাস্তবায়ন না করায় আইনত দন্ডনীয় অপরাধ করেছেন। এই অপরাধে ২ বছরের কারাদন্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমান বা উভয় দন্ডে দন্ডিত করার বিধান রয়েছে। সরকার ঘোষিত মজুরী বোর্ডের সুপারিশ অনুযায়ী অনেক পত্রিকা মালিক নূন্যতম মজুরী থেকে সাংবাদিকদের বঞ্চিত করছেন। শ্রম আইনের ২৮৯ ধারা অনুযায়ী এটিও একটি শাস্তি যোগ্য অপরাধ করেছন।
সভায় বলা হয়, পত্রিকা মালিকরা আয়কর নিয়ে যে প্রশ্ন তুলেছেন তাও সঠিক নয়। ৮ম সংবাদপত্র মজুরী বোর্ডেও নোয়ব মালিকরা একই প্রশ্ন তুলেছিলেন। ৫ম ওয়েজ বোর্ড রোয়েদাদে আয়কর সংবাদপত্র মালিক পক্ষ কর্তৃক প্রদেয় হবে উল্লেখ ছিল এবং এসব প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ বরাবরই আয়কর প্রদানের দায়িত্ব পালন করে আসছেন এবং ৭ম মজুরি বোর্ডের সুপারিশমালায় উহা উল্লেখ ছিল। ওই ধারাবাহিকতার আলোকে অষ্টম সংবাদপত্র মজুরি বোর্ডের রোয়েদাদে আয়কর প্রদানের দায়িত্ব কর্তৃপক্ষের উপর ন্যস্ত করা হয়। এছাড়া মহামান্য হাইকোর্টে দায়ের করা রিট পিটিশন মামলা ১২০৩/১৯৯১ মামলায়ও নির্দেশনা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। পত্রিকা মালিকদের পক্ষ থেকে মহামান্য সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগে মালিকপক্ষের দায়েরকৃত আপিল মামলায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে। সুতরাং আদালতে বিচারধীন বিষয়ে নিয়ে নোয়ব প্রশ্ন তুলে আদালত অবমাননা করেছে বলে সিইউজে মনেকরে।
নোয়াব নবম ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়বে বলে যে বক্তব্য দিয়েছে তাও সঠিক নয়। সংবাদপত্র মালিকরা যদি ব্যবসা-বাণিজ্য করতে চান তাহলে দেশের প্রচলিত আইন মেনেই করতে হবে বলে মনে করে সিইউজে। আইন অমান্য করার কারো এখতেয়ার নেই বলেও মনে করে সিইউজে। নোয়ব গণমাধ্যম কর্মিদের বেতন কাঠামো নিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছে তাও সঠিক নয় বলে দাবি করেছে সিইউজে। ৮ম ওয়েজ বোর্ডে বেতন কাঠামো ৫টি ক্যাটাগরীতে ভাগ করা হয়েছে। নোয়াব যে হিসাব দিয়েছে তা ’ক’ ক্যাটারীর। কিন্তু অন্য চারটি ক্যাটাগরীর হিসাব দেয়নি। গণমাধ্যম কর্মিদের প্রারম্ভিক গ্রেড-৩ বলে যে তথ্য দিয়েছে তাও সঠিক নয়। গ্রেড-৩ হচ্ছে স্টাফ রিপোর্টারের গ্রেড। ওয়েজ বোর্ড অনুযায়ী প্রারম্ভিক বেতন গ্রেড হচ্ছে-৪। ক’ ক্যাটাগরীর একটি পত্রিকায় গ্রেড-৪ এর বেতন স্কেল হচ্ছে ১২,৬০০/টাকা, আর ঙ’ গ্রেডের পত্রিকায়-৫,২৫০টাকা।
সিইউজের সভায় আরো বলা হয়, ডিএফপি’র সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ৬৭৮টি সংবাদপত্রের মধ্যে ১৫৬টি পত্রিকা ৮ম ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন করেছে বলে যে তথ্য দিয়েছে তাও সঠিক নয়। এতে মিথ্যা তথ্য এবং মিথ্যা সার্কুলেশন দেখিয়ে সরকারের বিপুল পরিমান অর্থ লুটপাট করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়।
সিইউজের সভায় বিদ্যমান শ্রম আইন অনুযায়ী ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াকে অর্ন্তুভুক্ত করে নবম ওয়েজ বোর্ড রোয়েদাদ ঘোষনার দাবি জানানো হয়। সভায় বলা হয়, নবম সংবাদপত্র মজুরী বোর্ডের সুপারিশে ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের প্রচলিত আইনেই অর্ন্তভুক্ করা সম্ভব। শ্রম আইন এবং বিধিমালায় এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করে দেয়া আছে। বিদ্যমান আইন অনুযায়ী সাংবাদিকেরা বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬(সংশোধিত ২০১৩) অর্ন্তভুক্ত। শ্রম আইনের ১(৬১)(ত) বিধান অনুযায়ী বেসরকারী রেডিও, টিভি চ্যানেল ও ক্যাবল আপারেটরকে সরকার শিল্প হিসাবে ঘোষনা করছে। একই আইনের ১(৭২) ধারায় “সংবাদপত্র শ্রমিক” অর্থ কোন কর্মরত সাংবাদিক, প্রশাসনিক শ্রমিক অথবা সংবাদপত্র শ্রমিক। সরকার শ্রম আইনের ১৪৩ ধারায় সংবাদপত্র শ্রমিকদের জন্য মজুরি বোর্ড গঠন করে। ধারা ১৪৪ অনুযায়ী মজুরি বোর্ড মজুরি নির্ধারণ করছে এবং ধারা১৪৫ এর বিধান অনুযায়ী মজুরি বোর্ডের সিদ্ধান্ত পরীক্ষা করতে মন্ত্রীসভা কমিটি করছে। শ্রম আইনে যে বিষয়ে অস্পষ্টতা রয়েছে সেসব বিষয় আইনি ব্যাখা দিতে সরকার বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা ২০১৫ জারি করে। এই বিধিমালার ২(ত) তে “সংবাদপত্র শ্রমিক ” হিসাবে বলা হয়েছে, প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া কর্মরত কোন সাংবাদিক, প্রশাসনিক শ্রমিক অথবা সংবাদপত্র ছাপাখানা শ্রমিক। সুতরাং এক্ষেত্রে পরিষ্কার বক্তব্য হচ্ছে, শ্রম আইন অনুযায়ী সংবাদপত্র শ্রমিকদের জন্য সরকার যে ওয়েজবোর্ড গঠন করছে সে ওয়েজবোর্ড থেকে ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সাংবাদিকদের বাদ দেয়া যাবে না।