banner

শেষ আপডেট ১৫ জুন ২০১৯,  ১৯:২৩  ||   রবিবার, ১৬ই জুন ২০১৯ ইং, ২ আষাঢ় ১৪২৬

পেকুয়ায় ইউপি সদস্যের গর্দান কেটে নেওয়ার হুমকি দিলেন ইউএনও!

পেকুয়ায় ইউপি সদস্যের গর্দান কেটে নেওয়ার হুমকি দিলেন ইউএনও!

২৯ মে ২০১৯ | ২০:৫৭ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • পেকুয়ায় ইউপি সদস্যের গর্দান কেটে নেওয়ার হুমকি দিলেন ইউএনও!

মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, পেকুয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি : কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার উজানটিয়া ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জয়নাল হাজারীকে মোবাইল ফোনে ”শুয়ারের বাচ্চা” বলে অশ্লীল গালিগালাজ করে তার গর্দান কেটে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন খোদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহাবুব উল করিম। ইউএনও কর্তৃক ইউপি সদস্যকে ধরনের অশ্লীল গালিগালাজ ও হুমকির ঘটনায় হতবাক হয়েছে এলাকাবাসী। ওই ইউপি সদস্যর কাছে ইউএনও কর্তৃক ফোনে গালিগালাজ ও গর্দান কেটে নেওয়ার হুমকির অডিও রেকর্ড সংরক্ষিত রয়েছে।
ইউপি সদস্যের নিকটাত্মীয় এডভোকেট মীর মোশারফ হোছাইন টিটু গত ২৫ মে তার ব্যক্তিগত ফেসবুক একাউন্টে “পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কর্তৃক একজন মেম্বারকে শুয়ারের বাচ্চা বলে গর্দান কেটে নেওয়ার হুমকি। নিরাপত্তাহীনতায় মেম্বার।” তিন লাইনে একটি স্ট্যাটাস লিখে পোস্ট করেন। এরপর থেকে বিষয়টি নিয়ে পুরো পেকুয়াজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ হওয়ার পর ইউএনও ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য নানান উপায়ে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন।
ভূক্তভোগী জয়নাল আবেদীন হাজারী মেম্বার বলেন ” গত ৭ মে তার ব্যক্তিগত মুঠোফোনে পেকুয়ার ইউএনও মাহাবুব উল করিমকে ফোন করেন। এসময় কিছু বুঝে উঠার আগেই ইউএনও স্যার আমাকে শুয়ারের বাচ্চাসহ আরো অশ্লীল গালিগালাজের পাশাপাশি গর্দান কেটে নেওয়ার হুমকি দেন।” ইউএনওর মুখে এ ধরনের ভাষা শুনে তিনি হতবাক হয়ে যান। ঘটনার পর থেকে বিষয়টি নিয়ে আপোষ মীমাংসার জন্য ইউএনও বিভিন্ন উপায়ে তাকে চাপ দিচ্ছেন।
ইউপি সদস্য জয়নাল হাজারীর আত্মীয় এডভোকেট মীর মোশারফ হেছাইন টিটু জানান, কয়েক দিনের মধ্যেই ভূক্তভোগী ইউপি সদস্য এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে ইউএনওর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করবেন।
পেকুয়ার মানবাধিকার কর্মী মামুনুর রশিদ মামুন জানান, পেকুয়ার ইউএনওকে উক্ত অপরাধের জন্য দ্রুত অপসারণ করতে হবে। অন্যথায় পেকুয়ায়বাসীকে শিগগিরই আন্দোলনের কর্মসূচী ঘোষনা করা হবে।
প্রাপ্ত অভিযোগে জানা গেছে, উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে মাহাবুব উল করিম পেকুয়ায় যোগদান করার পর থেকে তার দূর্ব্যবহারের শিকার হয়েছেন শিক্ষক, সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। পেকুয়া উপজেলার পাশ্ববর্তী উপজেলা চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার বাসিন্দা মাহবুব উল করিম।
এ বিষয়ে জানার জন্য পেকুয়ার ইউএনও মাহাবুব উল করিমের (০১৮১৬-৩০৭১৮০) মুঠোফোনে এ প্রতিবেদক বেশ কয়েকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন জানান, তিনি পেকুয়ার ইউএনওর বিষয়টি খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।