banner

শেষ আপডেট ১৫ জুন ২০১৯,  ১৯:২৩  ||   রবিবার, ১৬ই জুন ২০১৯ ইং, ২ আষাঢ় ১৪২৬

তওবা করে মুনিরীয়া তবলীগ ত্যাগ ওলামা পরিষদের

তওবা করে মুনিরীয়া তবলীগ ত্যাগ ওলামা পরিষদের

২৬ মে ২০১৯ | ২১:৩৮ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • তওবা করে মুনিরীয়া তবলীগ ত্যাগ ওলামা পরিষদের

ক্রাইম প্রতিবেদকঃ মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটির ওলামা পরিষদের নেতারা বলেছেন, মুনির উল্লাহ পীর নিজের পীর সেজে হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক হওয়ায়, গ্রামে ও নগরে কিভাবে বিশাল বহুল বাড়ি করল তা খতিয়ে দেখা উচিত। কিভাবে এত টাকা আসে, কিভাবে সম্পদশালী হয়েছে, এসব দেখতে হবে। রাউজানের মাটিতে এই সংগঠন যেন আর গজিয়ে উঠতে না পারে তাও দেখতে হবে। যদি গজিয়ে উঠে তাহলে অনেক ক্ষতিসাধিত হবে। আজ ২৬ মে রবিবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এসব কথা বলেন। এসময় তারা আরো বলেন, আমরা এতদিন একটি ভুল ও ভ্রান্ত মতবাদের তরিকতের সঙ্গে জড়িত ছিলাম। এজন্য আমরা তওবা করছি। আমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই।
সংবাদ সম্মেলনে মুনিরীয়ার যুব তবলীগের উগ্র, সন্ত্রাসী, জঙ্গি কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শান্তি প্রদানের জোর দাবি জানানো হয়। এতে লিখিত বক্তব্যে সংগটনের সাবেক মূখপাত্র ও কাগতিয়া মাদ্রাসার মুহাদ্দিস মাওলানা আশিকুর রহমান বলেন, তরিকতের আলোকে এ সংগঠনের মাধ্যমে (মুনিরীয়া যুব তবলীগ) সমাজ ও আগামী প্রজন্মকে সত্য ও সুন্দরের পথে পরিচালনার কথা ছিল। কিন্তু সংগঠনের শীর্ষ নেতারা সেদিকে মনোযোগ না দিয়ে ভিন্ন পথে নিজের আখের গোছানোর চেষ্টায় ছিলেন। সে অভিপ্রায়ে তারা স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের সঙ্গে হাত মিলিয়ে প্রতিনিয়ত জঙ্গি ও সন্ত্রাসী কর্মকা- পরিচালনা করে আসছেন। যা ওলামা পরিষদসহ রাউজানের শান্তিপ্রিয় আপামর জনসাধারণ সমর্থন করে না। ইসলাম শান্তির ধর্ম, শান্তির মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভই একমাত্র পথ উল্লেখ করে আশিকুর রহমান বলেন, যে তরিকাই হোক না কেন, প্রতিটি তরিকতেই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের কথা বলা আছে।
তিনি বলেন, অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, আমরা আগে মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটির ওলামা পরিষদের বিভিন্ন পদে দায়িত্বশীল ছিলাম। কিন্তু ভ-পীর মুনির উল্লাহর নির্দেশে বিভিন্ন সময় মাহফিলে নির্ধারিত বক্তব্য লিখিত আকারে পাঠিয়ে দেওয়া হত। পরে আমাদের সেটাই পাঠ করতে হত। যা কোরআন, হাদিস তথা ইসলামী শরিয়তের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও উস্কানিমূলক। আমরা লিখিত বক্তব্যের বাইরে কিছু বলতে গেলে মুনির উল্লাহর রোষানলের শিকার হতাম এবং অনেক ওলামা বিভিন্ন সময় নির্যাতিত হয়ে সংগঠন ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, ভ-পীর মুনির উল্লাহর লালিত গু-াবাহিনী তার মতাদর্শের বিরুদ্ধে গিয়ে কিছু বললে তাদের হত্যা, হামলা, মামলাসহ শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং জমি-জমা দখল করত। মাওলানা শফিউল আলম নেজামী, মফজল আহমদ নঈমী, অ্যাডভোকেট মোছাহেব উদ্দীন বখতেয়ার, মাওলানা মুঈনুদ্দীন রেজভী, মাওলানা নুরুন্নবীসহ অসংখ্য আলেম-ওলামার রগ কাটা, শারীরিক নির্যাতন, লাঞ্ছিত করা ছাড়াও নিরীহ কিশোর নঈমুদ্দীনকে খুন করেছে মুনির উল্লাহর অনুসারীরা। সর্বশেষ মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল আনোয়ার ও আওয়ামী লীগ নেতা মোজাম্মেলকে হত্যার উদ্যোশে হামলা ও সাম্প্রতিক মুনিরীয়ার অপকর্মের সংবাদ প্রকাশের জের ধরে রাউজান প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি শফিউল আলম ও সহ সভাপতি সাহেদুর রহমান মোরশেদকেও প্রাণ নাশের হুমকি প্রদান করা হয়।
এসময় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন ওলামা পরিষদের মুফতি মাওলানা ইব্রাহিম হানাফী, মাওলানা এমদাদুল হক মুনিরী, সৈয়দ মো. আবদুল্লাহ রশিদী, মাওলানা মমতাজুল হক নুরী, উপাধ্যক্ষ মাওলানা বেলাল উদ্দিন প্রমুখ।