banner

শেষ আপডেট ১৮ মে ২০১৯,  ২২:৩৮  ||   রবিবার, ১৯ই মে ২০১৯ ইং, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

কিশোর গ্যাংয়ের টার্গেট মিস : মাদক ব্যবসায়ী ভেবে রিকশাচালককে খুন

কিশোর গ্যাংয়ের টার্গেট মিস : মাদক ব্যবসায়ী ভেবে রিকশাচালককে খুন

১৬ মে ২০১৯ | ২১:১৭ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • কিশোর গ্যাংয়ের টার্গেট মিস : মাদক ব্যবসায়ী ভেবে রিকশাচালককে খুন

ক্রাইম প্রতিবেদকঃ নগরীর ডবলমুরিংয়ে সোহেল কলোনিতে সংগঠিত হওয়া রাজু হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। পরিকল্পিতভাবে মাদক ব্যবসায়ী জনৈক মফিজুর রহমানকে হত্যা করতে গিয়ে ভুল করে রিকশা চালক রাজুকে হত্যা করে হত্যাকারীরা। এই হত্যায় সরাসরি অংশ নিয়েছে সাত জন। যারা সবাই মাদকসেবী ও কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য। এর আগে ১৪ মে নগরীর হাজিপাড়া সোহেল কলোনিতে নিজ ঘরে খুন হন রিক্সাচালক রাজু।
পুলিশ জানায়, এই হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশ দাতা হিসেবে ছগির নামে একজন মাদক ব্যবসায়ীর নাম উঠে এসেছে পুলিশের অনুসন্ধানে। ছগির হাজীপাড়া এলাকায় মাদক ব্যবসা পরিচালনা করতো। মাদকসেবী কিশোরদের গ্যাংয়ের মাধ্যমে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। মাদক বিক্রিতে ছগিরের সহযোগী হিসেবে কাজ করতো মফিজুর।

গত ২৭ এপ্রিল ডবলমুরিং থানাধীন হাজীপাড়ার একটি নির্মানাধীন ভবন থেকে ইয়াবা ও অস্ত্রসহ ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন ছগির। গ্রেফতার হওয়ার পর সহযোগী মফিজুরকে সন্দেহ করে ছগির। এ কারণে মফিজুরকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয় সে। আর এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে শিমুল, শুক্কুরসহ চারজনকে জেলে গেটে ডেকে নেয় ছগির। সেখানেই শিমুল শুক্কুরদের নির্দেশ দেয় মফিজুরকে হত্যা করতে। এ বিষয়ে দফায় দফায় কারাগারে গিয়ে দেখা করে ছগিরের সাথে পরামর্শ করে তারা।

চূড়ান্ত পরিকল্পনাটি হয় ১৩ মে সন্ধ্যায় ছগিরের বাসায়। সেখানে ছগিরের স্ত্রী সেলিনা আক্তার সেলী (৩০) ও ছেলে কিরণ, হত্যায় অংশ নেওয়া কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের সাথে দীর্ঘক্ষণ আলাপ-আলোচনা করে। আলোচনা শেষে মা ও ছেলে মিলে মফিজকে মেরে ফেলার জন্য শুক্কুরকে ১ হাজার টাকাসহ কিরিজ, চাইনিজ কুড়াল, ছুরি দেয়।
সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) আমেনা বেগম জানান, পরিকল্পনা অনুযায়ী মফিজকে হত্যা করতে ১৪ মে ফজরের নামাজের পর তার ভাড়া ঘরে যায় শিমুল, শুক্কুর, রাকিব, সিফাত ও সুজন। এ সময় বাইরে থেকে পাহারা দেওয়ার দায়িত্ব পরে নুরনবী ও রুবেলের উপর। হত্যার সময় যাতে আশেপাশের ঘরগুলোর কেউ বাধা দিতে না পারে এজন্য পাশের সব ঘরের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে দেয় তারা। কিন্তু এ সময় তারা মফিজের ঘরে প্রবেশ করার পরিবর্তে ভুল করে তার পাশে রাজুর ঘরে প্রবেশ করে। অন্ধকারে রাজুকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যায় তারা। পরে আশেপাশের লোকজন এসে রাজুকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করালে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজুর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর আগে রাজু এই হামলায় ছগিরের ছেলেদের সম্পৃক্ততার কথা বলে যায়। তার সূত্র ধরে অভিযান চালিয়ে এ খুনের সাথে সম্পৃক্ত ১০ জনের আট জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি, কিরিছ ও চাইনিজ কুড়ালও উদ্ধার করা হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে গ্রেফতারকৃত আসামিরা খুনের দায় স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছেন আমেনা বেগম। পরিকল্পিতভাবে মফিজ নামে একজনকে হত্যা করতে গিয়ে ভুলে রাজুকে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশকে জানিয়েছে গ্রেফতারকৃতরা।