banner

শেষ আপডেট ১৮ মে ২০১৯,  ২২:৩৮  ||   রবিবার, ১৯ই মে ২০১৯ ইং, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

রোয়াংছড়িতে অবাধে পাথর উত্তোলন, জীব বৈচিত্র্য হুমকির মুখে

রোয়াংছড়িতে অবাধে পাথর উত্তোলন, জীব বৈচিত্র্য হুমকির মুখে

১৫ মে ২০১৯ | ১৯:১৬ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • রোয়াংছড়িতে অবাধে পাথর উত্তোলন, জীব বৈচিত্র্য হুমকির মুখে

বশির আহমেদ,বান্দরবান প্রতিনিধি: বান্দরবানের রোয়াংছড়িতে ৩৪৯ নং ঘেরাউ মৌজার সীমান্তে খামতাম পাড়া নিচে প্রানসা ঝিরি ও প্রানসা শাখা ঝিরিতে গ্রাম বাসিদের (রিজার্ভ ঝিড়ি) সংরক্ষিত বন ও ঝিরি থেকে বড় বড় হেমার, খন্ডা, জালানি কাঠের আগুনে ছ্যাঁক, মাটি খুঁড়ে বারুদ বিস্ফোরণ সহ বিভিন্ন উপায়ে অবৈধ পন্থা অবাধে হাজার হাজার ঘনফুট বোল্ডার পাথর খেকোরা উত্তোলন করা রুমা বাসিন্দার বাথোয়াইচিং মারমা, চিংসাথোয়াই মারমা (বিপ্লব) ও মো: কাসেমের বিরুদ্ধে অেিযাগ পাওয়া গেছে।
এতে প্রাকৃতিক ঝিরি ঝর্ণা শুকিয়ে যাওয়ায জীববৈচিত্র্যের হুমকিমুখে হয়ে পড়েছে। সাম্প্রতিক হাইকোর্টে জারিকৃত নিষিধাজ্ঞা রুলকে তোয়াক্কা না করে পাথর খেকোরা বেপরোয়ার ভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ ও পাচার করা হচ্ছে। সূত্রে জানা গেছে গত ৪ মে থেকে প্রায় ১২ জন শ্রমিক দিয়ে ঘেরাউ মৌজা প্রানসা ও প্রানসা শাখা খামতাম পাড়া বাসিদের সংরক্ষিত ঝিড়িতে পাথর উত্তোলন করে চলছে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন,আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বন বিভাগের কর্তারা নাকের ডগায় চলছে ব্যাপক পাথর উত্তোলন। পরিবেশ অধিদপ্তর,স্থানীয় প্রশাসন ও বন বিভাগের কোন অনুমোদন না থাকায় সরকার হারাচ্ছে কোটি টাকা রাজস্ব।
প্রাকৃতিক পরিবেশ ভারসাম্য ও ঝিরির নাব্যতা হারিয়ে জনদুর্ভোগ চরম আকারে ধারণ করছে। খামতাম পাড়া বাসি সহ স্থানীয় এলাকার বাসিদের ওই ঝিরিতে থাকার পানি হচ্ছে খাওয়ার পানি হিসেবে মূল উৎস। ক’দিনে পরে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর বসবাসকারীদের পানি ব্যবহার,স্থানীয় হাট বাজার,স্কুল কলেজের যাওয়ার রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে বোল্ডার পাথর পরিবহন করায় জন যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রুমা থানা পাড়া বাসিন্দার চিংসাথোয়াই মারমা (বিপ্লব), বাথোয়াইচিং মারমা ও বান্দরবানের রুমা স্টেশনের এলাকার নতুন পাড়া বাসিন্দা মো: কাশেম মিলে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে অবাধে পাথর উত্তোলন ও অবৈধ পাচার করে আসছে।
বান্দরবান ও রুমা বাসিন্দার হয়ে বতর্মানে রোয়াংছড়ি উপজেলা রোয়াংছড়ি সদর ইউনিয়নের ৩৪৯ নং ঘেরাউ মৌজার গভীর অরন্যে প্রানসা ঝিড়ি স্থানে ৩/৪ কি:মি: ঝিড়ি দখল করে বাঙালি শ্রমিক দিয়ে বড় বড় হেমার,খন্তা, জ্বালানি কাঠের আগুনে ছ্যাঁক, মাটি খুঁড়ে ও বারুদ বিস্ফোরক সহ বিভিন্ন উপায়ে শতবছরের বড় বোল্ডার পাথর ভেঙ্গে নির্বিগ্নে উত্তোলন করা হচ্ছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, নিরবিছিন্ন এলাকার ফলে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃংখলা, বনবিভাগের কর্মকর্তাদের চোখের আড়ালে অসাধু ব্যবসায়ী ও পাথর খেকোদের হাতে জিম্মি রয়েছে প্রাকৃতিক ঝিরিগুলো।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রোয়াংছড়ি সদর থেকে প্রায় ৭ কি:মি: দূরের খামতাম পাড়া অবস্থিত। ওই পাড়া বাসিদের পানি জন্য এক মাত্র নির্ভর যোগ্য ঝিরিতে ১২-১৫ জন শ্রমিক পাথর উত্তোলনে কাজ চলছে। ৩৪৯ নং ঘেরাউ মৌজা হেডম্যানের যোগসাজশে প্রাকৃতিক সম্পদ বোল্ডার পাথর উত্তোলন করে স্তূপ জমানো ফলে খামতাম পাড়ায় ঝিরি ঝরনা পানি উৎসের প্রবাহ শুকিয়ে গেছে। ভবিষ্যতে আর এমন বোল্ডার পাথর খোঁজে পাওয়া যাবে না।

স্থানীয়দের ভাষ্য মতে, বর্তমানে বোল্ডারের পাথর স্তুপগুলো পরিমাণে হাজার হাজার ঘনফুটের বেশি জামানো হয়েছে। ঘেরাউ মৌজা হেডম্যানে শৈসাঅং মারমার কাছ থেকে প্রতি ঘনফুটে ১০ থেকে ২০ টাকা বিনিময়ে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে।

আরো জানা গেছে, মাঝি মো: কাশেম তিনি স্বদেশে নাগরিক হলে শ্রমিক মূল্যে বেশি হওয়ায় রামু উপজেলা গিয়ে রোহিঙ্গাদেরকে এনে তাদের দিয়ে পাথর উত্তোলন করছে। গত ৩মে থেকে যারা পাথার উত্তোলন কাজে নিয়োজিত আছেন তাঁরা অধিকাংশই রোহিঙ্গা শ্রমিক। তাঁরা মাটি খুঁড়ে বারুদ বিষ্ফোরক ও আগুনে ছ্যাঁকের মাধ্যমে পাথর ভাঙিয়ে উত্তোলন করে চলেছে। খামতাম পাড়া প্রধানের ছেলে অংথোয়াইপ্রু খেয়াং ও পাড়া বাসিরা বলেন, খাওয়ার পানি জন্য পাড়া বাসিদের সংরক্ষিত বন ও ঝিড়ি অনেক দিন হতে রক্ষণাবেক্ষণ করে রাখা হয়েছে। কিন্তু এখন দেখা যায় তাও রক্ষা হয়নি। আমরা এত বলার পরও পাথর উত্তোলনে শ্রমিকরা কোন কর্ণপাত করেননি। ৩৪৯ নং ঘেরাউ মৌজা হেডম্যানের এসব কাজের জরিত রয়েছে। আমাদের স্থানীয়রা মৌজা হেডম্যানের জরিত থাকায় কেউ বলতে সাহস পায়নি। বরঞ্চ মৌজা হেডম্যান বলেন সরকারি ভাবে বরাদ্দ পেয়ে এসব কাজ করা হয়েছে।মূলতঃ তারা রোহিঙ্গা

এব্যাপারে ঘেরাউ মৌজা হেডম্যান শৈসাঅং মারমার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, হাইকোর্টের নিষিধাজ্ঞা থাকলে ও আমার কোন সমস্যা নাই। আমাকে পাথরে প্রতি ঘনফুটে ২০ টাকা দিলে হবে। বান্দনবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাসিন্দার পরিচয়ে মো: আবু তৈয়ব এর ছেলে শ্রমিক মো: জসিম উদ্দিন (২৬), নুরউদ্দিনের ছেলে মো: আব্দুল মাজেদ (২৫),মো: নুরুল আমিনের ছেলে মো: খায়রুল আমিন এই ৩জনের ঠিকানা নাইক্ষ্যং উপজেলা বাসিন্দার পরিচয় দিলেও মূলতঃ তারা রোহিঙ্গা। পরিবর্তীতের তাদের ঠিকানা খোঁজ নিয়ে দেখা যায় এসব তথ্য ভুল পাওয়া গেছে। তারা সবাই রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা।এনেছে

এ তিন শ্রমিক বলেন, আমাদেরকে মাঝি মো: কাসেম রোডসাইট কাজ করার কথা বলে এনেছে ।  এসব কাজে মাঝি মো: কাশেমের নির্দেশক্রমে করা হচ্ছে।

মো: কাশেমের সাথে মোঠুফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, রুমা থানা পাড়া বাসিন্দা বাথোয়াইচিং মারমা ও চিংসাথোয়াই মারমা (বিপ্লব) দুই জনের শেয়ারে পাথর উত্তোলন করছে। পরে বাথোয়াইচিং মারমা সাথে মোঠুফোনে যোগাযোগ করা হলে স্বীকার করে তিনি বলেন, আমরা ক’জনে মিলে পাথর উত্তোলন করছি।তবে আমাদের কাছে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে ছাড়পত্র বা পাথর উত্তোলনে কোন অনুমতিপত্র নাই।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: মেহেদী হাসান বলেন, রোয়াংছড়ি উপজেলা এলাকায় পাথর উত্তোলনে কোন অনুমতিপত্র নাই। কারো যদি বিনা অনুমতিতে পরিবেশ ধ্বংশ কাজের বা প্রাকৃতিক ঝিরি থেকে পাথর উত্তোলন করে থাকলে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।