banner

শেষ আপডেট ২০ মে ২০১৯,  ০০:১০  ||   সোমবার, ২০ই মে ২০১৯ ইং, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

সড়কে পুলিশের বাণিজ্য : চুক্তি অনুযায়ী ২ হাজার টাকা নিয়ে স্লিপে লিখছে ২০০ টাকা

সড়কে পুলিশের বাণিজ্য : চুক্তি অনুযায়ী ২ হাজার টাকা নিয়ে স্লিপে লিখছে ২০০ টাকা

১৯ এপ্রিল ২০১৯ | ১৪:৫৮ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সড়কে পুলিশের বাণিজ্য : চুক্তি অনুযায়ী ২ হাজার টাকা নিয়ে স্লিপে লিখছে ২০০ টাকা

ক্রাইম প্রতিবেদকঃ  প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে অভিযোগ আসছে আমাদের কাছে। গাড়ির সব কাগজ ঠিক থাকার পরেও নো পার্কিং মামলা দিচ্ছে ট্রাফিক পুলিশ। চুক্তি অনুযায়ী ২ হাজার টাকা নিলেও স্লিপে লিখছে ২০০ টাকা। চালকরাই এসব অভিযোগ করছেন। বিশাল পরিমাণে বাণিজ্য হচ্ছে এখানে। আমি প্রমাণ দিতে পারবো। কথাগুলো বললেন বিআরটিএ’র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম মনজুরুল হক। গতকাল বৃহস্পতিবার নগরীর ষোলশহর এলজিইডি ভবনে বিআরটিএ আয়োজিত সড়ক নিরাপত্তা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিমূলক সেমিনারে তিনি এমনটি অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, যাদের হাতে সড়ক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব- তাদের এ বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে। তারা যদি সেটা না করে, তারা যদি ধান্দায় লিপ্ত থাকে, বাণিজ্যে লিপ্ত থাকে তাহলে সড়কে নিরাপত্তা কখনো আসবে না।
এস এম মনজুরুল হক বলেন, মালিক ভাইদের বলতে চাই- আমরা এটা করে থাকি, ওটা করে থাকি, সেটা করে থাকি, মুখে এসব বললে হবে না। আপনাকে চালকদের বাধ্য করতে হবে। আপনি মালিক, আপনি কার হাতে গাড়ি তুলে দিচ্ছেন, কোন ড্রাইভারকে গাড়ি দিচ্ছেন- তার সঠিক ড্রাইভিং লাইসেন্স আছে কী না- এসব আপনাকে এনসিউর করতে হবে। তিনি বলেন, এসব এনসিউর না করে দিনপ্রতি আড়াই হাজার, তিন হাজার টাকার জন্য লাইসেন্সবিহীন কারও হাতে গাড়ি তুলে দিলে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। প্রয়োজনে চালকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে আপনাদের। সবকিছু সরকারের উপর তুলে দিলে হবে না।
চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মাশহুদুল কবীর বলেছেন, সচেতনতার দিক দিয়ে সবাইকে লক্ষ্য রাখতে হবে। ড্রাইভারদের সড়কের সিগন্যাল মানতে হবে। মোবাইল ফোন ব্যবহারে ড্রাইভার ও পথচারীদের সচেতন হতে হবে। তিনি আরও বলেন, ট্রাফিক বিভাগকে আইন অনুযায়ী চলতে হবে। তারা যদি সড়কে সর্বোচ্চ নীতিমালা বাস্তবায়ন করেন তাহলে ড্রাইভাররা সচেতন হবে।
মোহাম্মদ শহীদুল্লাহর সভাপতিত্বে সড়ক নিরাপদ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিমূলক সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার নুরে আলম মিনা, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম নিরাপদ সড়ক চাই এর সভাপতি এসএম আবু তৈয়ব, চট্টগ্রাম জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সভাপতি মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু প্রমুখ।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, ট্রাফিক বিভাগ ফিটনেসবিহীন গাড়ির ড্রাইভারদের সাথে মাসিক চুক্তি করেন। এতে ড্রাইভাররা হয়রানি হয় না। কিন্তু যারা গাড়ি চালানোর সকল নীতিমালা মেনে সড়কে গাড়ি চালান। দিন শেষে তারাই ট্রাফিক বিভাগের কাছে বেশি হয়রানি হন ।
সেমিনারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মাসুম বলেন, আমরা বাংলাদেশের মানুষ। আমরা কেউ ভুল ত্রুটির ঊর্ধ্বে না। এখন যদি এসব অভিযোগ নিয়ে বিচার বিশ্লেষণে যাই, সড়ক নিরাপত্তার বিষয়টি যদি বিশ্লেষন করি, এবং এখানে যদি শুধু ট্রাফিক পুলিশকে দায়ী করা হয়- আমার মনে হয় এটা অন্যায় হবে। তিনি বলেন, সেমিনারে বিভিন্ন বক্তার বক্তব্যেই উঠে এসেছে, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু পুলিশ নয়, অনেকের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। সুতরাং কাউকে দোষারোপ না করে সবাই মিলে কাজ করলেই নিরাপদ সড়ক গড়ে তোলা সম্ভব হবে।