banner

শেষ আপডেট ২০ এপ্রিল ২০১৯,  ১৮:৪৮  ||   বুধবার, ২৪ই এপ্রিল ২০১৯ ইং, ১১ বৈশাখ ১৪২৬

শুরু হয়েছে চসিকের তিনব্যাপি বর্ষবিদায়- বর্ষবরণ উৎসব

শুরু হয়েছে চসিকের তিনব্যাপি বর্ষবিদায়- বর্ষবরণ উৎসব

১৩ এপ্রিল ২০১৯ | ২৩:৫০ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • শুরু হয়েছে চসিকের তিনব্যাপি বর্ষবিদায়- বর্ষবরণ উৎসব

ক্রাইম প্রতিবেদকঃ  চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে বাংলা নববর্ষ ১৪২৬ অনুষ্ঠান আজ শনিবার থেকে শুরু হয়েছে। প্রথমবারে মতো নগরীর জিমনেসিয়াম সংলগ্ন মাঠে বেলুন উড়িয়ে বর্ষ বিদায় অনুষ্ঠানসহ তিনব্যাপি কর্মসুচির উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ.জ.ম.নাছির উদ্দীন। আগামী ১৫এপ্রিল পর্যন্ত জিমনেসিয়াম সংলগ্ন মাঠে ১৪২৫ বিদায়, ১৪২৬ বর্ষ বরণ এবং বৈশাখী উৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।এই অনুষ্টানমালার মধ্যে রয়েছে কাল রোববার সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বর্ষবরণ এবং কাল সোমবার বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত বৈশাখি উৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে কর্পোরেশন পরিচালিত স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী,অতিথি শিল্পী, চট্টগ্রাম-পার্বত্য চট্টগ্রামের শিল্পীরা লোকগীতি, নৃত্য ও মরমী সঙ্গীত পরিবেশন করবে।
এই উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিটি মেয়র বলেন বাংলার আকাশে আজ বঙ্গাব্দ ১৪২৫ এর শেষ সূর্যোদয়। একইভাবে আজকের সূর্যস্তের মধ্য দিয়েই বিদায় নিবে আরো একটি বাংলা বছর। অতীত বছরের সব জরাজীর্ণ আর মলিনতাকে বিদায় জানাবে বাংঙ্গালী সমাজ। আগামীকাল থেকে শুরু হবে ১৪২৬ বঙ্গাব্দ। বাঙালির জীবনে বাংলা নববর্ষের আবেদন চিরন্তন ও সর্বজনীন। অতীতের সব গ্লানি ও বিভেদ ভুলে বাংলা নববর্ষ জাতীয় জীবনের সর্বক্ষেত্রে আমাদের ঐক্য আরো সুদৃঢ় করবে এবং বয়ে আনবে অফুরন্ত আনন্দের বারতা ।

সিটি মেয়র আরো বলেন, বাংলা নববর্ষ চিরায়ত বাংলার ঐতিহ্যে লালিত এক অনন্য দিন। এই দিনটিকে সবাই প্রবলভাবে আপ্লুত করে এবং পুরাতনকে পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা যোগায়।এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিলো এদেশের নিস্পেষিত নিপীড়িত মানুষের রাজনৈতিক স্বাধীনতার পাশাপাশি অর্থনৈতিক মুক্তি দেয়া। কিন্তু রাজনৈতিক স্বাধীনতা দিতে পারলেও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা তাঁর জীবনদর্শায় তিনি তা দিয়ে যেতে পারি নি। তারই সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর সেই লালায়িত স্বপ্ন বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। এখন তাঁরই নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের বিশ্বের রোল মডেল। বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ হতে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জন করেছে। ইনশাল্লাহ বাংলাদেশ ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের আগেই উন্নত এবং সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হবে ।

তিনি বলেন, এদেশে আমরা জন্ম নিয়েছি।এদেশ আমার আপনার সকলের।এদেশকে গড়ে তোলার দায়িত্ব আমাদের সকলের। তাই নাগরিক হিসেবে আমাদেরকে দায়িত্বশীল ভুমিকা পালন করতে হবে। আমাদের সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্ঠায় এদেশ গড়ে উঠবে ক্ষুধা,দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ। মেয়র বলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন একটি সেবামুলক প্রতিষ্ঠান। নগরবাসীর পরিসেবা নিশ্চিত করা তার নৈতিক দায়িত্ব বলে মনে করেন। এক্ষেত্রে চসিক নগরবাসীর ভালমন্দে অংশীদার হওয়া। নগরবাসী দুঃখে ব্যাথিত হওয়া,আর ্আনন্দে আনন্দিত হওয়া। তাই চসিক প্রদেয় সকল সেবা সচল রাখতে মেয়র সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
চসিক সমাজ কল্যাণ স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান কাউন্সিলর মোহাম্মদ সলিম উল্লাহ বাচ্চু এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নিবার্হী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সামসুদ্দোহ শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন চসিক প্যানেল মেয়র কাউন্সিলর চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, কাউন্সিলর নাজমুল হক ডিউক,এইচ.এম.সোহেল.হাসান মুরাদ বিপ্লব ও চসিক প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ও সদস্য সচিব সুমন বড়ুয়া ।
আগামীকালের কর্মসূচিঃ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের তিনদিন ব্যাপি বর্ষবরণ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ১৪ই এপ্রিল ২০১৯ রবিবার জিমনেসিয়াম সংলগ্ন মাঠে অনুষ্ঠিত হবে বাংলা নববর্ষ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ বরণ। এই উপলক্ষে সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বর্ষবরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে । এতে কর্পোরেশন পরিচালিত স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী,অতিথি শিল্পী, চট্টগ্রাম-পার্বত্য চট্টগ্রামের শিল্পীরা লোক গীতি, নৃত্য ও মরমী সঙ্গীত পরিবেশন করবে। এছাড়াও রয়েছে লোকসংস্কৃতি অংশ হিসেবে সাপের খেলা, মোরগ লড়াই ও পুতুল নাচ ইত্যাদি।