banner

শেষ আপডেট ২০ এপ্রিল ২০১৯,  ১৮:৪৮  ||   বুধবার, ২৪ই এপ্রিল ২০১৯ ইং, ১১ বৈশাখ ১৪২৬

চালককে হত্যা করে কার ছিনতাইয়ের চেষ্টা, মূল হোতাসহ তিন আসামি গ্রেফতার

চালককে হত্যা করে কার ছিনতাইয়ের চেষ্টা, মূল হোতাসহ তিন আসামি গ্রেফতার

১৩ এপ্রিল ২০১৯ | ২৩:৪৫ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • চালককে হত্যা করে কার ছিনতাইয়ের চেষ্টা,  মূল হোতাসহ তিন আসামি গ্রেফতার

ক্রাইম প্রতিবেদকঃ নগরীর আকবরশাহ থানা এলাকায় প্রাইভেট কার চালককে হত্যার ঘটনায় মূলহোতাসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত শুক্রবার থেকে আজ শনিবার ভোর রাত পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে এদের গ্রেওফতার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সীতাকু- থেকে চট্টগ্রাম শহর পর্যন্ত একটি প্রাইভেট কার (চট্টমেট্টো-১২-৫০২৬) ভাড়া করে চার বন্ধু। পথে চালককে খুন করে কারটি ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করে তারা। পরিকল্পনা মতো কার চালককে খুন করা হয়। এরপর চালকের লাশ পেছনের সিটে এনে যাত্রীর মতো করে দুজনের মাঝখানে বসানো হয়। টোল রোড দিয়ে তাদের পতেঙ্গায় সাগরের দিকে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু টোল রোডের পরিবর্তে ভুলবশত তারা ঢুকে পড়ে উত্তর কাট্টলী ঈশান মহাজন রোডে। এক পর্যায়ে কারটি ব্যাক দিতে গিয়ে একটি চাকা নালায় পড়ে যায়। এসময় তাদের পেছনে বসানো চালকের লাশটি হেলে পড়ে। স্থানীয়রা তা দেখে এগিয়ে আসে। এসময় ছিনতাইকারীদের দুজন পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা অপর দুজনকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উত্তর কাট্টলীর ঈশান মহাজন রোডের ঘোষ পাড়ার ময়ূরী কমিউনিটি সেন্টারের সামনে। খুনের শিকার কার চালক নুরুল কবির (২৫)। তিনি সীতাকুন্ডের বাসিন্দা। পরে গতকাল ভোরে আরো একজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার তিনজন হলো, নোয়াখালীর চাটখিল এলাকার মাহফুজুর রহমানের ছেলে মীর হোসেন নিশান (২১), সীতাকুন্ডের রহমতনগর এলাকার মো. রফিকের ছেলে রবিউল হোসেন ইমন (২০), রাউজানের উরকিরচর এলাকার আবদুল সালামের ছেলে নেওয়াজ শরীফ (২৪)। এদের মধ্যে মীর হোসেন নিশান বেসরকারি পোর্ট সিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় সেমিস্টারের ছাত্র। ছিনতাই ও খুনের ঘটনায় জড়িত পলাতক জসিম উদ্দিনকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে। জসিম উদ্দিন সীতাকুন্ডের গোলাবাড়িয়া এলাকার সাইফুল ইসলামের ছেলে।ন্ডে
আকবরশাহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন বলেন, প্রাইভেট কার চালকের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর মরদেহ বেড়িবাঁধ এলাকায় ফেলে দিতে যাচ্ছিল ওরা চারজন। ঈশান মহাজন রোড হয়ে ঘোষ বাড়ির কাছে পৌঁছলে প্রাইভেটকারের চাকা ড্রেনে আটকে যায়। গাড়ি পেছনের দিকে তুলতে গিয়ে সবিতা রাণী বিশ্বাস নামে এক নারীর বাড়ির সামনে গ্যাস লাইনের পাইপে ধাক্কা লাগে। এতে সবিতা রানীর সঙ্গে চারজনের কথা কাটাকাটি হয়। পরে তারা গাড়ি ফেলে পালাতে গেলে নিশান ও ইমনকে মারধর করে লোকজন। ওসি বলেন, পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। পরে গাড়ির ভেতর সিটে বসা অবস্থায় নুরুল গণির মরদেহ দেখতে পায় পুলিশ। তখন নিশান ও ইমনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে একপর্যায়ে তারা হত্যার ঘটনাটি স্বীকার করে। এরপর নগরের চান্দগাঁও এলাকায় অভিযান চালিয়ে নেওয়াজ শরীফকে গ্রেফতার করা হয়। নুরুল গণি শিমুল হত্যার ঘটনায় তার বাবা বাদি হয়ে আকবরশাহ থানায় মামলা দায়ের করেছেন বলে জানান ওসি জসিম উদ্দিন।