banner

শেষ আপডেট ৮ ডিসেম্বর ২০১৯,  ২২:০২  ||   সোমবার, ৯ই ডিসেম্বর ২০১৯ ইং, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

সাজার মেয়াদ শেষ হলেও চুয়াডাঙ্গা কারাগারে সাজা ভোগ করছে ৩ ভারতীয় নাগরিক

সাজার মেয়াদ শেষ হলেও চুয়াডাঙ্গা কারাগারে সাজা ভোগ করছে ৩ ভারতীয় নাগরিক

১২ এপ্রিল ২০১৯ | ১৮:৪৫ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সাজার মেয়াদ শেষ হলেও চুয়াডাঙ্গা কারাগারে সাজা ভোগ করছে ৩ ভারতীয় নাগরিক

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি: অপরাধ ছিল সীমান্ত পারি দিয়ে তারা অবৈধ ভাবে প্রবেশ করেছিল বাংলাদেশে। ফলে তাদের আটক করে পাঠানো হয় আদালতে। অবৈধভাবে সীমান্ত পারি দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের অপরাধে আদালত তাদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়। আদালতের এই রায়ের পরপরই ওই তিন ভারতীয় নাগরিককে নেয়া হয় কারাগারে। কিন্তু অবাক হলেও সত্য অনেক আগেই তাদের সাঁজার মেয়াদ শেষ হলেও এখনো তারা সাঁজা ভোগ করছে কারাগারের চার দেয়ালের ভিতর। দীর্ঘ সময় কারাগারে বন্দী থাকার ফলে তারা মানসিকভাবে অনেকটা ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছেন।

আটকৃত ভারতীয় নাগরিকরা হলেন ভারতের নদীয়া জেলার তেহট্রর কিশোরী বিশ্বাসের ছেলে ক্লিনটন বিশ্বাস(২০), ভারতের হয়ালঘাট জয়জালের রাম বিকাশের ছেলে জ্যেতিষ চৌধুরী(৩৬) ও ভারতের নদীয়া জেলার ভীমপুর রাঙ্গেরপোতার মান্দার মন্ডলের ছেলে আব্বাস মন্ডল(৩০)।

 চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারের সুপার নজরুল ইসলাম জানান, কারাগারে আটককৃত তিন ভারতীয় নাগরিক অবৈধ ভাবে সীমান্ত পারি দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করার অপরাধে আদালত তাদের কারাগারে পাঠায়। আটককৃত ভারতীয় নাগরিক ক্লিনটন হাজতী আসামী হিসেবে জেলা কারাগারে ২০১৮ সালের ১৫ আগস্ট থেকে বন্দি রয়েছেন। ক্লিনটনের সাজার মেয়াদ তিন মাস পার হলেও গত বছরের ১৪ নভেম্বর থেকে সে কারাগারেই বন্দি রয়েছে। ভারতীয় আরেক হাজতি আব্বাস মন্ডল ২০১৮ সালের ৫ জুন কারাগারে আসেন। তারও সাজার মেয়াদ তিন মাস পার হলেও ২০১৮ সালের ৫ মে থেকে কারাগারেই বন্দি রয়েছেন। কারাগারে সব থেকে দীর্ঘ সময় ধরে বন্দি রয়েছেন ভারতীয় নাগরিক জ্যেতিষ চৌধুরী। ২০১৭ সালের ৯ জুন থেকে হাজতি আসামী হিসেবে কারাগারে বন্দি রয়েছে সে। আদালত জ্যেতিষকে ১ মাস সাজা দেয়ার পর মুক্তির আদেশ দেয় একই বছরের ৪ জুলাই। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সাজার মেয়াদ ১ বছরের বেশী সময় পার হলেও জ্যেতিষ এখনো কারাগারে বন্দী রয়েছেন।

 ভারতীয় তিন নাগরিকের বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা ৬ বিজিবির পরিচালক ইমাম হাসান জানান, তিন নাগরিকের মধ্যে ক্লিনটনকে ভারতে ফেরৎ পাঠানোর জন্য বিএসএফকে চিঠি দেয়া হয় এবছরের জানুয়ারীর ২১ তারিখে। চিঠিতে ক্লিনটনকে ফেব্রুয়ারীর ১০ তারিখে ফেরৎ পাঠানোর কথা বিজিবি পক্ষ থেকে লেখা হলেও সেইদিন ক্লিনটনকে ফেরৎ নেয়নি বিএসএফ। পরবতির্তে ২৭ মার্চ ২য় দফায় বিজিবির পক্ষ থেকে ক্লিনটনকে ফেরৎ পাঠানোর জন্য বিএসএফকে চিঠি দেয়া হয়। আগামী ১৫ এপ্রিল পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ক্লিলটনকে ভারতে ফেরৎ নেয়ার কথা জানিয়ে চিঠির উত্তর দেয় বিএসএফ। তবে ভারতীয় আরও দুই নাগরিককে ফেরৎ পাঠানোর বিষয়ে তেমন কোন তথ্য নেই বিজিবির কাছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

 এ বিষয়ে জেলা লোকমর্চার সভাপতি আলমঙ্গীর হোসেন বলেন, সাজা শেষ হয়ে যাবার পরপরই আসামীকে কারাগারে রাখা মানবতা লঙ্ঘনের সমান। একজন মানবাধিকার কর্মি হিসেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আমার দাবি থাকবে অতি দ্রুত ভারতীয় এই তিন নাগরিককে দেশে ফিরিয়ে তাদের পরিবারের কাছে যেন হস্তান্তর করা হয়।

 সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে জেলা সুজনের সভাপতি অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, সাজার মেয়াদ শেষ হবার পর কারাগারে সাজা ভোগ করা সুশাসনের মধ্যে পড়ে না। অবিলম্বে ভারতীয় তিন নাগরিককে তাদের দেশে ফেরৎ পাঠিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে দেবার দাবি জানান তিনি।