banner

শেষ আপডেট ২০ অগাস্ট ২০১৯,  ২১:৩৬  ||   বুধবার, ২১ই আগষ্ট ২০১৯ ইং, ৬ ভাদ্র ১৪২৬

ভাওয়াইয়াশিল্পী ও সাংবাদিক সফিউল আলম রাজা আর নেই

ভাওয়াইয়াশিল্পী ও সাংবাদিক সফিউল আলম রাজা আর নেই

১৭ মার্চ ২০১৯ | ১৮:১১ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ভাওয়াইয়াশিল্পী ও সাংবাদিক সফিউল আলম রাজা আর নেই
না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন ‘ভাওয়াইয়া রাজা’-খ্যাত জনপ্রিয় ভাওয়াইয়াশিল্পী ও সাংবাদিক সফিউল আলম রাজা (ইন্নালিল্লাহি….. রাজিউন)। আজ মিরপুর-পল্লবীর বাসা থেকে দুপুরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্ট্রোক করে তার মৃত্যু হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিভিন্ন গণমাধ্যম ও শ্রোতা-দর্শকরা সফিউল আলম রাজাকে ডাকেন ‘ভাওয়াইয়া রাজা’। একজন ভাওয়াইয়া শিল্পীর পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতা পেশায় নিয়োজিত ছিলেন তিনি। বিশেষ করে সংস্কৃতি সাংবাদিকতায় অতি পরিচিত এক নাম সফিউল আলম রাজা। তার মৃত্যুর খবরে শিল্প-সংস্কৃতি ও সংবাদ মাধ্যমে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
 ভাওয়াইয়া গানের এই শিল্পীর জন্ম কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলায়। কৈশোরে পিতা মরহুম নাজমুল হক ও মাতা মরহুমা শামসুন্নাহার বেগমের উৎসাহ এবং অনুপ্রেরণায় তার গান শেখা শুরু। সঙ্গীতে প্রাতিষ্ঠানিক কোন শিক্ষা গ্রহণ করেননি। তবে ভাওয়াইয়ার কিংবদন্তি-গীতিকার, সুরকার এবং শিল্পী নুরুল ইসলাম জাহিদের কাছে সঙ্গীতের তাত্ত্বিক বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করেছেন রাজা।
 সফিউল আলম রাজা বাংলাদেশ বেতারের ‘বিশেষ’ ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের ‘প্রথম’ শ্রেণীর শিল্পী। এছাড়াও তিনি দেশের সব ক’টি চ্যানেলে নিয়মিত সঙ্গীত পরিবেশন করতেন। সঙ্গীত পরিবেশন করছেন বিদেশী বিভিন্ন মঞ্চ এবং মিডিয়াতেও (এরমধ্যে কলকাতার তারা মিউজিক এবং কলকাতা টিভি উল্লেখযোগ্য)। লোক সঙ্গীতের অন্যতম ধারা ভাওয়াইয়া গানের প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে শিল্পী রাজা ২০০৮ সালে রাজধানীতে ‘ভাওয়াইয়া’ গানের দল প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়াও ২০১১ সালে রাজধানীতে প্রতিষ্ঠা করেন ‘ভাওয়াইয়া স্কুল’। যে স্কুলে ভাওয়াইয়ার ওপর এক বছরের ফ্রি সার্টিফিকেট কোর্স করানো হয়।
 ২০১৭ সালের ১ জানুয়ারি সংস্কৃতির সকল শাখা নিয়ে রাজধানীর পল্লবীতে ‘কলতান সাংস্কৃতিক একাডেমি’ প্রতিষ্ঠা করেন এই শিল্পী। তিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র ‘উত্তরের সুর’-এ চারটি মৌলিক ভাওয়াইয়া গান গেয়েছেন। শিল্পী জীবনে স্বীকৃতি স্বরূপ সফিউল আলম রাজা বেঙ্গল ফাউন্ডেশন আয়োজিত বেঙ্গল বিকাশ প্রতিভা অন্বেষণে লোকসঙ্গীত বিভাগে (ভাওয়াইয়া নিয়ে) ২০০৬ সালে শ্রেষ্ঠ শিল্পী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।
 রাজধানীতে  রাজা’র ৬টি একক সঙ্গীতানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে ২টি, আঁড়িয়াল সেন্টারের উদ্যোগে একটি, আঁলিয়স ফ্রঁসেজের উদ্যোগে একটি, গুরুর চিকিৎসা সহায়তায় ‘ভাওয়াইয়া’ গানের দল-এর আয়োজনে একটি এবং ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টারের আয়োজনে একটি একক সঙ্গীতানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
 বেঙ্গল ফাউন্ডেশন থেকে রাজার একটি মিক্সড অ্যালবাম এবং ভায়োলিন মিডিয়া থেকে ২০১১ সালে প্রকাশিত হয়েছে একক ভাওয়াইয়া অ্যালবাম ‘কবর দেখিয়া যান’। সঙ্গীত নিয়ে সফর করেছেন অষ্ট্রেলিয়া, ভারত সহ বিভিন্ন দেশে। তিনি সরকারি ও বেসরকারিভাবে বিভিন্ন রিয়েলিটি শোতে ‘বিচারক’ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
 দীর্ঘ দুই যুগেরও অধিক সময়ের সাংবাদিকতা জীবনে দৈনিক যুগান্তরে সিনিয়র সাংবাদিক হিসেবে ১৪ বছরের বেশি সময় কাজ করেছেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি প্রিয়.কম-এর চিফ রিপোর্টার হিসেবে কাজ করেছেন।
 পেশাগত জীবনেও তিনি সাফল্যের স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। ইতিমধ্যে তিনি সাংবাদিকতায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পুরস্কার, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল পুরস্কার, ডেমোক্রিসি ওয়াচ হিউম্যান রাইটস অ্যাওয়ার্ড, ইউনেস্কো ক্লাব এসোসিয়েশন অ্যাওয়ার্ড, ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন অ্যাওয়ার্ড সহ অনেক পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। এছাড়াও জন্মস্থান চিলমারীর বন্দরে ঠিক শান্তি নিকেতনের আদলে একটি ভাওয়াইয়া ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠা করার স্বপ্ন দেখেছে