banner

শেষ আপডেট ২০ মে ২০১৯,  ২১:৩০  ||   মঙ্গলবার, ২১ই মে ২০১৯ ইং, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

চট্টগ্রামকে ঘিরে ব্লু ইকোনমির কার্যক্রম শুরু করতে হবে–বাণিজ্যমন্ত্রী

চট্টগ্রামকে ঘিরে ব্লু ইকোনমির কার্যক্রম শুরু করতে হবে–বাণিজ্যমন্ত্রী

৬ মার্চ ২০১৯ | ২০:৪৩ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • চট্টগ্রামকে ঘিরে ব্লু ইকোনমির কার্যক্রম শুরু করতে হবে–বাণিজ্যমন্ত্রী

ক্রাইম প্রতিবেদকঃ বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, চট্টগ্রাম আমাদের স্বপ্নের জায়গা। চট্টগ্রামকে প্রায়োরিটি দিতে হবে। চট্টগ্রামে যা আছে তাকে নার্সিং করতে হবে। ব্লু ইকোনমির ভবিষ্যৎ বিশাল। চট্টগ্রামকে ঘিরে ব্লু ইকোনমির কার্যক্রম শুরু করতে হবে।আজ বুধবার বিকেলে আগ্রাবাদের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের বঙ্গবন্ধু কনফারেন্স হলে ২৭তম চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার (সিআইটিএফ) -২০১৯ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী টানেল খনন কাজের উদ্বোধন করতে এসেছিলেন। এ সময় মন্ত্রী সোয়া কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী কাজ করছেন উলেখ করে তিনি বলেন, বাণিজ্যের রাজধানী চট্টগ্রাম অর্থনীতির লাইফ লাইন। কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসতে হবে।

 বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম চেম্বার শতবর্ষী সংগঠন। ১১৮ বছর হলো। চট্টগ্রামের গুরুত্ব অনেক ঊর্ধ্বে। ১২ আনা, ১৪ আনা ব্যবসা এখানে। সবচেয়ে বড় অফিসটা এখানে চলে আসা উচিত।
চেম্বার সভাপতির বক্তব্যের সূত্র ধরে মন্ত্রী বলেন, আইপি ইস্যু ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার যুক্তি নেই। অহেতুক করা হয়েছে। ব্যুরোক্রেটিক বাধা কাটাতে হবে যুক্তি দিয়ে। ১৩ টনের বাধা পরিবহন খাতকে অর্ধেক করে দিয়েছে। সারা দেশে ২০ টন হলে চট্টুগ্রামে কেন হবে ১৩ টন। আপনাদের সাহায্য চাই সব কিছু জানার। ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। ব্যবসায়ীরা বন্দরে স্ক্যানার চাইছেন সরকারের তরফে কেন নয়। বন্দর বোর্ডে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধি রাখার উদ্যোগ নেওয়া হবে। আমি আপনাদের সব সমস্যা জানতে চাই, সমাধান করতে চাই। তিনি বলেন, শিপবিল্ডিং আরও ভালো হতে পারে। নজর দিতে হবে। চট্টগ্রাম চ্যাম্পিয়ন পর্যটনে। এ খাতে জোরেশোরে কাজ করতে হবে। মন্ত্রী আরো বলেন, এ সরকার ব্যবসাবান্ধব। ব্যবসায়ীদের সমস্যা আমি ভালো বুঝি। জানি কোথায় কোথায় ব্যবসায়ীদের বাধা। আমরা চাই আরও বেশি বিনিয়োগ আসুক। এর জন্য সুযোগ তৈরি করতে হবে। এ সরকারের সব মন্ত্রী কাজ শুরু করেছেন।
অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশে কস্ট অব ডুয়িং বিজনেস ৫ বছরে কমবে আশা করে চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেছেন, ৫টি ব্যাংকের হেড কোয়ার্টার চট্টগ্রামে হতে হবে। ঢাকা থেকে আইপি ইস্যু হতে ৫ দিন চলে যায়। ১৩ টনের ওজন স্কেল ব্যবসায়ীদের বড় দুঃখ। চেম্বার সভাপতি বলেন, এ মেলা চট্টগ্রামবাসীর আনন্দ মেলা। সারা বছর এই মেলার জন্য অপেক্ষা করেন তারা।
তিনি বলেন, বন্দরের কোনো ক্ষমতা নেই। বন্দর বোর্ডে স্টেক হোল্ডারদের প্রতিনিধি রাখতে হবে। কাস্টম হাউসের ভবনটি আধুনিকায়ন ও জনবল বাড়াতে হবে। বন্দরে স্ক্যানার সংকট চলছে। প্রতিটি গেটে স্ক্যানার বসালে ব্যবসায়ীদের সময় বাঁচবে। বিনিয়োগ বোর্ডের জনবল বাড়াতে হবে। জলাবদ্ধতার প্রকল্প যথাসময়ে শেষ হলে সুফল মিলবে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন মেলার চেয়ারম্যান ও চেম্বারের সিনিয়র সহ-সভাপতি নুরুন নেওয়াজ সেলিম।
মহানগরীর রেলওয়ে পলোগ্রাউন্ড মাঠে হযেছে মাসব্যাপী এ মেলা। প্রথমবারের মতো এবারের দর্শনার্থীর টিকিটের মূল্য ধরা হয়েছে ১২ টাকা । কলাপাতা থেকে কীভাবে ফাইবার উৎপন্ন করা হবে সেটি দর্শনার্থীদের দেখানো হবে।
চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি আয়োজিত ২৭তম এ মেলায় দেশি-বিদেশি ৪৫০টির অধিক প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করছে। চার লাখ বর্গফুটের অধিক জায়গাজুড়ে অনুষ্ঠিতব্য মেলায় এবার ২২টি প্রিমিয়ার গোল্ড প্যাভিলিয়ন, ৩টি মেগা প্যাভিলিয়ন, ২টি প্রিমিয়ার প্যাভিলিয়ন, ৬টি স্ট্যান্ডার্ড প্যাভিলিয়ন, ১৮০টি প্রিমিয়ার মেগা স্টল , ২২টি মেগা স্টল, ১০টি প্রিমিয়ার গোল্ড স্টল, ১৪টি স্ট্যান্ডার্ড স্টল, ২টি রেস্টুরেন্টসহ মোট ৩৮টি প্যাভিলিয়ন বসবে। তিনটি আলাদা জোনে বিভক্ত হয়ে মোট ৪৫০টি’রও অধিক প্রতিষ্ঠান মেলায় অংশ নিয়েছে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত এ মেলা চলবে। অন্যান্য বছরের মতো থাইল্যান্ড মেলার পার্টনার কান্ট্রি হিসেবে অংশগ্রহণ করছে। থাইল্যান্ড ৪ হাজার ৫০০ বর্গফুট জায়গা নিয়ে মেলায় অংশ নেবে। এছাড়া ভারত, থাইল্যান্ড, কোরিয়ান ইরানসহ বেশ কয়েকটি দেশ মেলায় অংশ নিয়েছে।