banner

শেষ আপডেট ২০ মে ২০১৯,  ১৯:০৮  ||   সোমবার, ২০ই মে ২০১৯ ইং, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

মামলার চার্জশিট হলেও কর্মস্থলে বহাল পেকুয়ার তিন সরকারি কর্মচারী!

মামলার চার্জশিট হলেও কর্মস্থলে বহাল পেকুয়ার তিন সরকারি কর্মচারী!

৬ মার্চ ২০১৯ | ১২:৪০ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • মামলার চার্জশিট হলেও কর্মস্থলে বহাল পেকুয়ার তিন সরকারি কর্মচারী!

মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, পেকুয়া : মাষ্টার আবদুর রাজ্জাক (৪৪)। তিনি পেকুয়া উপজেলার শিলখালী ইউনিয়নের জারুলবুনিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং শিলখালী সবুজ পাড়া গ্রামের মৃত নুর আহমদের ছেলে। তার অপর দুই ভাই যথাক্রমে নেজাম উদ্দিন (৩৫) ও জসিম উদ্দিন (৪০) পেকুয়া সরকারী হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী হিসেবে কর্মরত রয়েছে। তারা বর্তমানে জামিনে রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শিলখালী ইউনিয়নের সবজ পাড়া গ্রামের রহমত আলীর কিছু জায়গা জোর পূর্বক দখলের জন্য ২০১৫ইং এর ৮জানুয়ারী হামলা চালায় আবদুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে একদল লোক। এ ঘটনায় মাষ্টার রাজ্জাক গংয়ের হামলায় রহমত আলী ছেলে মোরশেদ আলম প্রকাশ মোরশেদ (৩০) এর ডান পা গুরুতর জখম হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসার প্রয়োজনে মোরশেদুল আলমের ডান পা কেটে ফেলা হয়। এরপর চিরতরে পঙ্গু হয়ে যায় মোরশেদ। বর্তমানে মোরশেদ অতিকষ্টে জীবন যাপন করছেন।
ঘটনার পর মোরশেদের মা মোতাহেরা বেগম বাদী হয়ে মাষ্টার আবদুর রাজ্জাক, তার ভাই নেজাম উদ্দিন, জসিম উদ্দিন, জামাল উদ্দিন, আবদুর রাজ্জাকের স্ত্রী শফিকা বেগমের বিরুদ্ধে চকরিয়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি ফৌজদারী দরখাস্ত করেন। যার সি আর মামলা নং ৫৭/১৫। আর সেটি আদালতের বিজ্ঞ ম্যাজিষ্ট্রেট ওই দিনই পেকুয়া থানার ওসিকে এজাহার হিসেবে গ্রহণ করার জন্য নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশ পেয়ে পেকুয়া থানা পুলিশ মোতাহেরা বেগমের ফৌজদারী দরখাস্তটি থানায় রেকর্ড করেন।
জানা গেছে, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পেকুয়া থানার সাবেক এসআই শাহাজাহান কামাল মামলার তদন্ত কার্যক্রম শেষে মাষ্টার আবদুর রাজ্জাক, তার ভাই নেজাম উদ্দিন, জসিম উদ্দিন, জামাল উদ্দিন ও শফিকা বেগমের বিরুদ্ধে গত ২৭/০৪/১৫ইংরজী তারিখ চকরিয়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছিলেন। এরপর বিজ্ঞ আদালতের বিচারক বগত ০৭/০৬/২০১৫ইংরেজী তারিখ মামলার চার্জশিট গ্রহণ করে আসামীদের প্রতি গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। আদালতের পরোয়ানা জারির পর ওই তিন সরকারী কর্মচারী র্দীঘদিন ধরে পলাতক ছিল। পরে ২৭/১০/২০১৫ইংরেজী তারিখ মাষ্টার আবদুর রাজ্জাকসহ চার আসামী কক্সবাজার চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত থেকে জামিন নেন।
এদিকে মামলার চার্জশিট আদালতে গৃহীত হওয়ার দুই বছর অতিক্রম হওয়ার পরেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ওই তিন কর্মচারীকে চাকুরী থেকে সাময়িক বরখাস্ত করেনি। সরকারী চাকুরীবিধি লংঘন করে তারা তিন ভাই নিয়মিত উত্তোলন করছেন সরকারী বেতন ভাতা। অথচ সরকারী কর্মচারীদের বিরুদ্ধে মামলার চার্জশিট আদালতে গৃহীত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের বেতন বন্ধসহ সাময়িক বরখাস্তের সরকারী বিধান রয়েছে। এ তিন প্রভাবশালী সরকারী কর্মচারীর ক্ষেত্রে সরকারী সে নিয়ম রহস্যজনক কারণে প্রযোজ্য হচ্ছেনা বলে অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিভিন্ন মহল থেকে!
মামলার বাদী মোতাহেরা বেগম অভিযোগ করেছেন, রাজ্জাক মাষ্টার গংয়ের নির্মমতায় তার ছেলে মোরশেদের ডান পা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় তিনি মামলা করেছেন। পুলিশ মামলা তদন্ত করে চার্জশিট দিয়েছেন। আসামীরা বিভিন্ন সময় মামলা প্রত্যাহারের জন্য তার পরিবারকে হুমকি দিচ্ছে।
পা হারানো মোরশেদ অভিযোগ বলেন, আসামীরা তার মাকে মামলা তুলে নিতে বর্তমানে হুমকি দিচ্ছে। তাদের হুমকির কাছে অসহায় পড়েছি।
মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবি এডভোকেট বদরুদ্দোজা জানান, মামলাটি বর্তমানে স্বাক্ষ্য গ্রহণের পর্যায়ে রয়েছে। মামলার বাদী অসুস্থ থাকায় স্বাক্ষী গ্রহণের সময় কয়েকবার পেছানো হয়েছে।