banner

শেষ আপডেট ৮ ডিসেম্বর ২০১৯,  ২২:০২  ||   সোমবার, ৯ই ডিসেম্বর ২০১৯ ইং, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

বিভাগের সর্বোচ্চ রেকর্ডঃ নগরী ও জেলাতে ২ মাসে ২৮ আত্মহত্যা !

বিভাগের সর্বোচ্চ রেকর্ডঃ নগরী ও জেলাতে ২ মাসে ২৮ আত্মহত্যা !

২৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৯ | ২২:১৬ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • বিভাগের সর্বোচ্চ রেকর্ডঃ নগরী ও জেলাতে ২ মাসে ২৮ আত্মহত্যা !

রাজিব শর্মাঃ নগরী ও চট্টগ্রাম জেলাতে একের পর এক আত্মহত্যার ঘটনা ঘটছে। যার বেশির ভাগই প্রেমঘটিত কিংবা পারিবারিক কলহের জের । সর্বশেষ গত ৬ মাসে নগরী ও তার আশপাশের এলাকায় ২৮টি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। যার মধ্যে নারী পুলিশ সদস্যও রয়েছে।

মোঃ খলিলের আত্মহত্যাঃ

পারিবারিক কলহের জের ধরে চট্টগ্রামে বিষপান করে আত্মহত্যা করেছেন মো. খলিল (৩৩) নামে এক যুবক।আজ মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টার দিকে নগরীর কোতোয়ালী থানার আসকার দীঘির পশ্চিমপাড়ে এ ঘটনা ঘটে।
খলিল একই এলাকার রফিক কমিশনারের বাড়ির আবদুল জলিলের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মা ও স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া করে বাসার ভেতরেই বিষপান করেন খলিল। পরে তাকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই আলাউদ্দিন তালুকদার।

মাকে তালাক দেওয়ায় মেয়ের আত্মহত্যাঃ

৪তলা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে মারিয়া আকতার (১৬) নামের এক কিশোরী মৃত্যু হয়েছে। নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা জানায়, ওই কিশোরী আত্মহত্যা করতেই ভবনের ছাদ থেকে লাফ দিয়েছিল।

মারিয়া হালিশহর পাবলিক স্কুল এ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্রী এবং সেই হালিশহর আবাসিকের ১ নম্বর লেইনের ৪ নম্বর রোডের জামাল উদ্দিনের কন্যা। নিজেদের ভাড়া বাসার অদূরের ৩৬নং ভবনের ছাদ থেকে নিচে পড়ে মৃত্যুবরণ করে মারিয়া।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক জহিরুল ইসলাম বলেন, সোমবার দিনগত রাত প্রায় সোয়া ৯টার দিকে মারিয়াকে হাসপাতালে নিয়ে আসে কিছু লোক। আনার পর পরই জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে পরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত মারিয়ার বাবা জামাল বলেন, ঘরে কখনও সমস্যা দেখতে পাইনি। কেনো বা কোন কারণে আত্মহত্যা করতে গেল বুঝতে পারছি না।
এলাকার খবর নিয়ে জানা গেছে, মারিয়ার বাবা তার মাকে তালাক দিয়েছেন অনেক আগে। ঘরে এখন সৎমা। মারিয়ার বাবা এক সময়ের সরকারি চাকরিজীবী জামাল উদ্দিন এখন হালিশহরে স্থানীয় একটি দোকানে চাকরি করেন। ৬ মাস আগে জামাল দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। এরপর থেকেই ঝামেলা শুরু হয়।
হালিশহর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম ওবায়দুল হক বলেন, স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানাগেছে সৎ মায়ের সাথে মেয়েটির ঝামেলা চলছিল।

শ্রাবন্তী দাশের আত্মহত্যাঃ

চট্টগ্রামে গলায় ফাঁস লাগিয়ে শ্রাবন্তী দাশ (২৬) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছে। আজ মঙ্গলবার ভোরে নগরীর পাহাড়তলী থানার জালিয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।নিহত শ্রাবন্তী সাতকানিয়া উপজেলার পশ্চিম ঘাটিয়াডাঙ্গা এলাকার রুপন দাশের স্ত্রী।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মো. আলাউদ্দিন তালুকদার গণমাধ্যমকে বলেন, পাহাড়তলী থানার জালিয়াপাড়া থেকে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করা এক গৃহবধূর মরদেহ নিয়ে আসা হয়েছে।

লিটন বনিকের আত্মহত্যাঃ

চট্টগ্রামে স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া করে আত্মহত্যা করেছেন লিটন বণিক নামের আরও এক ব্যবসায়ী। সকাল হাটহাজারীর জোবরা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি ঠিকাদারি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ফ্যানের সঙ্গে তাকে ঝুলানো অবস্থায় দেখতে পেয়ে প্রতিবেশীরা পুলিশকে খবর দেয়।

এইচএসসির ছাত্র ওসমান গণির আত্মহত্যাঃ

চট্টগ্রাম নগরীর সদরঘাট থানার পূর্ব মাদারবাড়ি এলাকায় ওসমান গণি (১৯) নামে এক কলেজ ছাত্র আত্মহত্যা করেছে। বুধবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ওসমান পূর্ব মাদারবাড়ির আবদুল কুদ্দুস মাস্টার বাড়ির ফারুক শেখের ছেলে। ওসমান বন্দর থানা এলাকার ব্যারিস্টার সুলতান আহমদ চৌধুরী ডিগ্রি কলেজের ‌উচ্চ ‍মাধ্যমিক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির কর্তব্যরত নায়েক আবুল বাশার বলেন,বাসার ফ্যানের সঙ্গে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায় ওসমান গণি। পরিবারের লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে গুরুতর আহতবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। সদরঘাট থানার উপ পরিদর্শক মুজিবুর রহমান বলেন, দুপুরের দিকে ওসমানকে নাস্তা খাওয়ানোর পর তার মা বোনের বাসায় যায়। সেখান থেকে এসে দেখে ওসমান তার কক্ষে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলছে। পরিবারের লোকজন তাড়াতাড়ি তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। ওসমান ব্যারিস্টার কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।
সিএমপি পুলিশ ইসরাতের আত্মহত্যাঃ

নগর পুলিশের একটি সূত্র জানায়, গত ১৭ই জানুয়ারি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের পটিয়ায় কর্মরত ইশরাত জাহান (১৯) নামে এক নারী সদস্য গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মো. নেয়ামত উল্লাহ বলেন, দুপুরের দিকে ইশরাত জাহান গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তিনি সিএমপিতে ছিলেন। বাড়িতে এসে মায়ের সঙ্গে অভিমান করে ইশরাত আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি।

জয়ার আত্মহত্যাঃ

এই ঘটনার কয়েক মাস আগে চট্টগ্রাম মহানগরীর পাহাড়তলি থানার বাচা মিয়া সড়কের ব্যাংক কলোনি এলাকায় গলায় ফাঁস দিয়ে তাহমিনা আক্তার জয়া (২৬) নামের আরেক যুবতী আত্মহত্যা করেন। শাহরিয়ার হোসেন ও সাকিবুল ইসলাম আকন্দ নামে দুটি ছেলে আছে তাহমিনার।
পাহাড়তলি থানার ওসি জানান, পাঁচ মাস আগে জয়ার সঙ্গে স্বামী ফরহাদ হোসেনের ছাড়াছাড়ি হয়। দুই ছেলে ফরহাদের সঙ্গে থাকত। বিচ্ছেদের পর থেকে মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছিলেন জয়া।

জোহরা বেগমের আত্মহত্যাঃ
প্রতিবেদন থেকে আরও জানা গেছে, চড় মারার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিয়ের সাত মাসের মাথায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন জোহরা বেগম (২৫) নামে এক গৃহবধূ। পাহাড়তলির সরাইপাড়া চৌধুরী মসজিদ এলাকায় গরুর মাংস কিনে না আনায় স্বামী-স্ত্রীর মাঝে ঝগড়ার জের ধরে এ ঘটনা ঘটে।

চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রী সায়মার আত্মহত্যাঃ

চট্টগ্রামের গরীবউল্লাহ হাউজিং সোসাইটিতে সায়মা আক্তার (২০) নামে এক কলেজছাত্রী আত্মহত্যা করেছেন। বুধবার দিবাগত রাতে নিজ বাসায় সায়মা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে জানায় পুলিশ।

নিহত সায়মা গরীবউল্লাহ হাউজিং সোসাইটি এলাকার মো. মহিউদ্দিনের মেয়ে এবং চট্টগ্রাম কলেজের মনোবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই জহিরুল ইসলাম জানান পারিবারিক কলহের জের ধরে অভিমান করে নিজ বাসায় ফ্যানের সাথে ফাঁস লাগিয়ে ঝুলতে থাকলে পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসে। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার লাশ মর্গে রাখা হয়েছে।

ডাঃ আকাশের আত্মহত্যাঃ

চট্টগ্রামের চন্দনাইশ  থানার অন্তর্গত চট্টগ্রাম হাসপাতালের চিকিৎসক ও ত্রি ডক্টরস কোচিং এর শিক্ষক ডাঃ মোস্তফা মোরশেদ আকাশ তার ফেসবুকে স্টাটাস  “ভালো থেকো আমার ভালোবাসা, তোমার প্রেমিকদের নিয়ে” লিখে আত্মহত্যা করেন। কারণ হিসেবে জানা যায়, ডা তাহমিনা হক চৌঃ মিতুর একাধিক পরকীয়া প্রেমিক, অতিআধুনিকতা নামে বিভিন্ন লোকের সাথে অবাধে মেলামেশা, আমেরিকান প্যাটেল নামক এক ব্যক্তির সাথে স্ত্রী মিতুর দৈহিক প্রেমের সম্পর্ক ছিল যার জেরে পরকীয়ায় বলি হন ডাঃ মোস্তফা মোরশেদ আকাশ। তিনি আত্মহত্যা করেন শরীরে ইনজেকশন (বিষাক্ত মেডিসিনটির নাম জনগনের অনুকরণ না করার জন্য গোপন রাখা হয়) পুশ করে আত্মহত্যা করেন। উক্ত ঘটনায় ডাঃ মিতুকে ৩ দিনের রিমান্ডে ঘটনার অকাট্য  তথ্য বের হয় এবং তার সাথে যে একাধিক ব্যক্তির সাথে সম্পর্ক ছিল তা প্রমাণিত হলে ডাঃ আকাশের মা চাঁদগাও থানায় বাদি হয়ে  ডাঃ মিতুসহ তার পরকীয়া প্রেমিক ডাঃ মাহবুবুল আলম ও আমেরিকান প্যাটেল সহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করলে আসামিরা পলাতক রয়েছেন। বর্তমানে ৩০২ ধারা মতে পলাতক ডাঃ মিতুর পরকীয়া প্রেমিক দুজনের গ্রেপ্তারি দেন আদালত। বর্তমানে ৩ দিনের রিমান্ড শেষে ডাঃ মিতুকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়, অনান্য আসামিরা গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত মামলা প্রক্রিয়াধীন চলবে বলে জানা যায়।

আঁখি আক্তারের আত্মহত্যাঃ

স্ত্রী’র পরকীয়ায় অভিমান করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক মোস্তফা মোরশেদ প্রকাশ আকাশের আত্মহত্যার রেশ কাটতে না কাটতেই বন্দর নগরীতে স্বামীর ওপর অভিমান করে আঁখি আক্তার (১৮) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন। শুক্রবার (১ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে নগরীর বায়েজিদ থানার বালুরচরা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ওই গৃহবধু নেত্রকোনা সদরের শিবপ্রসাদপুর এলাকার বাসিন্দা রবিউল আওয়ালের স্ত্রী।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই আলাউদ্দীন তালুকদার জানান, পারিবারিক কলহের জেরে বাসায় ছাদের লোহার সাথে ওড়না পেচিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায় আঁখি।
এ সময় পরিবারের সদস্যরা তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আঁখিকে মৃত ঘোষণা করেন।

সুইসাইডনোট লিখে উপজাতি মিমির আত্মহত্যাঃ

‘আমি নিজের ইচ্ছায় এই পথ বেছে নিলাম। আমার মৃত্যুর জন্য এই বাসার বা আমার পরিবারে কেউ দায়ী নয়। জাহিদের সঙ্গে অন্যান্য সমস্যা থাকার কারণে নিজে আর বাঁচার স্বপ্ন দেখি না। আমার যদি কিছু হয়ে যায় জাহিদকে ধরলে সব কথা বের হবে।’
চট্টগ্রামে মৃত্যুর আগে সুসাইড নোটে এসব লিখে আত্মহত্যা করেন আদিবাসী তরুণী ওয়াইনুচিং মারমা ওরফে মিমি (২৩)।
এ ঘটনায় রোববার আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে জাহেদুল হক নামে মিমির কথিত এক প্রেমিককে আসামি করে খুলশী থানায় মামলা করা হয়েছে।
শনিবার খুলশী থানাধীন দক্ষিণ খুলশী আবাসিক এলাকার নিজ বাসায় ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আÍহত্যা করেন মিমি। রাঙ্গামাটি জেলার কাউখালী থানাধীন বেতবুনিয়া এলাকার অংশিউ মারমার মেয়ে মিমি। তিনি রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী হিসাবে কাজ করতেন।
মিমির পিতা অংশিউ মারমা মামলার এজাহারে উলে­খ করেন, জাহিদ নামের এক ছেলে আমার মেয়েকে মোবাইলে বিরক্ত করাসহ বিভিন্ন ভুয়া ফেসবুক আইডি খুলে আপত্তিকর ছবি পোস্ট করে মানসিকভাবে নির্যাতন করত। দিনের পর দিন মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে মিমি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে।
খুলশী থানার ওসি শেখ মো. নাসির উদ্দিন জানান, ‘আত্মহত্যার বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মৃত্যুর আগে যে সুসাইড নোটটি পাওয়া গেছে সেটি মিমির কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ব্যবসায়ী সুজয় মজুমদার আত্মহত্যাঃ

ডাঃ আকাশের আত্মহত্যার একমাস পার না হওয়াতেই গত ২৪শে ফ্রেব্রুয়ারি রবিবার বিকাল ৪ টায় বিষপানে নিজ বাসভবনে আত্মহত্যার চেষ্টা করলে  স্থানীয়রা চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করালে রাত ১১ টায় মৃত্যুবরণ করেন। জানা যায় সুজয় মজুমদার    চট্টগ্রাম আন্দরকিল্লার “মজুমদার এন্টারপ্রাইজ” এর মালিক। তার নিজ বাড়ি রাউজান হলেও দীর্ঘদিন প্রায় ১০ বছরের অধিক চাকরির সুবাধে তার দুইবোন ও মা সহ চট্টগ্রামে বসবাস করেন। জানা যায় কোতোয়ালির আছাদগঞ্জের প্রিয়া দাশ নামক এক মেয়ের সাথে দীর্ঘদিন প্রেমের সম্পর্ক ছিল। প্রেমের প্রতারণা ও একাধিক প্রেমিকের সাথে সম্পর্ক ছিল বলে জানা যায় স্থানীয়সূত্রে। তার এক বন্ধু নাম প্রকাশ্যে অনিশ্চুক সুজয় মজুমদারের সাথে প্রায় ৫ বছর ধরে মেয়েটির সম্পর্ক ছিল। মেয়েটি অনান্য প্রেসিকদের সাথে ফেসবুকে সম্পর্ক গড়ে তুলেন তা সুজয়ের হাতে ধরা পড়লে, সুজয় মেয়েটি থেকে জানতে চাইলে মেয়েটি মিথ্যা স্বীকার করেন এবং তা সত্যতা সুজয় প্রমাণ করলে মেয়েটি তার সাথে প্রেমের সম্পর্ক রাখবেন না বলে স্পস্ট জানান, যার অপমান সইতে না পেরে সুজয় আত্মহত্যা করেন।

বাকলিয়া সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রের আত্মহত্যাঃ

চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশ থানাধীন শ্যামলী আবাসিক এলাকার ভাড়া বাসায় গলায় ফাঁস দিয়ে আবরার মাহমুদ (১৩) নামের এক স্কুলছাত্র আত্মহত্যা করেছে। সে বাকলিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। তাদের বাড়ি হাটহাজারীর ছিপাতলী এলাকায়।  আজ মঙ্গলবার বিকালে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই আলাউদ্দিন তালুকদার।
তিনি বলেন, বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে উক্ত শিক্ষার্থীকে হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষনা করেন। তার গলায় ফাঁস দেয়ার চিহ্ন দেখা গেছে। নিহতের বাবা মো. নূর নবী দুবাই প্রবাসী। মা সোলতানা রাজিয়া একটি মাদ্রাসার শিক্ষক। তার বড় বোন কলেজ ছাত্রী। তবে কি কারণে ওই শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে, তা বিস্তারিত জানা যায়নি।