banner

শেষ আপডেট ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯,  ২২:১৭  ||   সোমবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর ২০১৯ ইং, ১ আশ্বিন ১৪২৬

নগরীতে সবজির সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মাছ-মাংসের দাম

নগরীতে সবজির সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মাছ-মাংসের দাম

১৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৯ | ২০:২৬ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • নগরীতে সবজির সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মাছ-মাংসের দাম

ক্রাইম প্রতিবেদকঃ  শীতের বিদায় লগ্নে নগরীতে সবজির সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়ে চলেছে মাছ ও মাংসের দাম। বাজারগুলোতে শীতকালীন সবজির সরবরাহ কম থাকায় দিনের পর দিন দাম বেড়ে চলেছে। অন্যদিকে মাছ ও মাংসের দামও আকাশচুম্বী। মহানগরীর বহদ্দারহাট, চকবাজার, কর্ণফুলীসহ কয়েকটি কাঁচা বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

এদিকে গত দুই সপ্তাহ ধরে বেড়ে চলা মুরগির দাম চলতি সপ্তাহের প্রখমদিন থেকে আবার বেড়েছে। আগের সপ্তাহে ১৩৫-১৪০ টাকায় বিক্রি করা ব্রয়লার মুরগি চলতি সপ্তাহে বিক্রি হচ্ছে ১৪৫-১৫০ টাকা। একইভাবে কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়ে পাকিস্থানি লাল মুরগি (সোনালি) ২৫০-২৬০ টাকা ও দেশি মুরগি ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে কেজিতে ২০-৫০ টাকা বেড়ে হাড়সহ গরুর মাংস ৫৫০-৫৬০ টাকা, হাড়ছাড়া গরুর মাংস ৬৫০ ও ছাগলের মাংস কেজিতে ৭৫০-৭৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। মাংসের মতো দাম বেড়েছে ডিমেরও। ডজনে ১০ টাকা বাড়তিতে গতকাল ব্রয়লার মুরগির ডিম বিক্রি হয়েছে ১০৫-১১০ টাকা, ডজনে ১২-১৫ টাকা বাড়তিতে হাঁসের ডিম বিক্রি হয়েছে ১৬০ থেকে ১৬৫ টাকা।
গতকাল বাজারে সরেজমিনে আরো দেখা গেছে, প্রতিকেজি কাকরোল বিক্রি হয়েছে ৮০ টাকা, বরবটি ৭০ টাকা, চিচিঙ্গা ও ঝিঙ্গা ৮০-৯০ টাকা, শিম ৫০ টাকা, শিমের বিচি ৬০-৭০ টাকা, বেগুন বড়-ছোট আকারভেদে ৪০-৫০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৪০ টাকা, পটল ৫০ টাকা, নতুন আলু ৩০ টাকা, ললিত আলু ২০ টাকা, দেশি লাউ ২৫-৩০ টাকা, কাঁচা মিষ্টি কুমড়া ৩৫ টাকা, পাকা মিষ্টি কুমড়া ২০-২৫ টাকা, শসা ৩৫ টাকা, ক্ষিরা ৪০ টাকা, ফুলকপি ৩০ টাকা, বাঁধাকপি ২৫ টাকা, মুলা ২০ টাকা, টমেটো ২০-৩০ টাকা, ধনিয়া পাতা ৭০ টাকা এবং প্রতিকেজি কাঁচা পেঁপে ২০-২৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। অন্যদিকে সবজির মতো বাড়তি দাম লক্ষ্য করা গেছে মাছের বাজারেও। গতকাল প্রতিকেজি বড় লাক্ষ্যা মাছ (কাটা) বিক্রি হয়েছে ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা, ধাতিনা কোরাল ৭২০ থেকে ৮০০ টাকা, কই কোরাল ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, বোল পোয়া ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, লইট্টা ১৪০-১৫০ টাকা, কালো ও সাদা জাতভেদে রূপচান্দা ৫০০ থেকে ৬৫০ টাকা, কালিচান্দা ৪৫০ টাকা, চইক্কা ২৫০-২৮০ টাকা, ইলিশ ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা ও ছুরি মাছ কেজিপ্রতি ২৫০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহের তুলনায় মিঠা পানির মাছের দাম কেজিতে ২০ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গতকাল আকারভেদে রুই মাছ বিক্রি হয়েছে ২০০-২৬০ টাকা, কাতলা ২২০-৩৫০ টাকা, চিংড়ি ৪৮০-৮০০ টাকা, তেলাপিয়া ১৩০-১৫০ টাকা, পাঙ্গাস ১৫০ টাকা, মলা মাছ ১৫০-২০০ টাকা, জাতভেদে পুঁটি ১৪০-১৬০ টাকা, কেঁচকি ১৫০ টাকা, বাইলা মাছ ৩৫০-৪০০ টাকা, কই ৩৫০-৪০০ টাকা এবং বাটা মাছ ৪৫০-৫০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পেশায় গৃহকর্মী খতিবের হাটের বাসিন্দা রানু আক্তার বহদ্দারহাট কাঁচা বাজারে এসেছিলেন কিছু তরিতরকারি ও মাছ-মাংস কিনতে। দুপুরে বাজার থেকে যখন বের হয়ে যাচ্ছিলেন তখন তার থলিতে মাছ কিংবা মাংস কোনটাই ছিল না। তিনি বাসায় ফিরছেন কিছু সবজি ও দুই আঁটি মিষ্টি কুমড়া শাক নিয়ে। এর কারণ হিসেবে রানু আক্তার বলেন, শীত শেষ হতে না হতেই বিক্রেতারা মাছ-মাংস-সবজি সব কিছুর দাম চাচ্ছে অনেক বেশি । তিনি যে বাজেট নিয়ে বাজারে এসেছেন তা দিয়ে কোনমতে মাছ বা মাংস কোনটাই নেয়া যায় না। কম দামের মধ্যে মিলছে কেবল ফুলকপি, বাঁধাকপি কিংবা মুলার মত তিন-চার পদের শীতকালীন সবজি। বাকি সবকিছুর দাম আকাশচুম্বী। তাই তিনি কম দামে পাওয়া যায় ওরকম কয়েকপদের সবজি ও শাক নিয়ে বাসায় ফিরে যাচ্ছেন।
বহদ্দারহাট কাঁচা বাজারের সবজিবিক্রেতা হেলাল উদ্দীন বলেন, বাজারে শীতকালীন সবজির সরবরাহ কমে এসেছে। ধীরে ধীরে বাড়ছে গ্রীষ্মকালীন সবজির সরবরাহ। পুরোদমে গ্রীষ্মকালীন সবজির সরবরাহ না বাড়া পর্যন্ত দাম একটু বাড়তিই থাকবে বলে তিনি জানান।