banner

শেষ আপডেট ২০ অগাস্ট ২০১৯,  ২১:৩৬  ||   বুধবার, ২১ই আগষ্ট ২০১৯ ইং, ৬ ভাদ্র ১৪২৬

নগরীর ফুটপাতে সৃষ্ট গর্তে দুর্ঘটনায় পতিত হচ্ছে পথচারীরা

নগরীর ফুটপাতে সৃষ্ট গর্তে দুর্ঘটনায় পতিত হচ্ছে পথচারীরা

৯ ফেব্রুয়ারী ২০১৯ | ২০:৪৬ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • নগরীর ফুটপাতে সৃষ্ট গর্তে  দুর্ঘটনায় পতিত হচ্ছে পথচারীরা

 বিশ্বজিৎ পালঃ নগরীর কয়েকটিস্থানে ফুটপাতে গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় যে কোন মূহুর্তে পথচারীরা দূর্ঘটনায় পতিত হচ্ছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে ফুটপাত ঠিক করার জন্য কাজ চলার কথা বললেও কয়েকটিস্থানে দৃশ্যমান হওয়া ফুটপাতের গর্তে ছোট-খাট দূর্ঘটনা ঘটে আসছে। মহানগরীর চকবাজার, বহদ্দারহাট, মুরাদপুর ও কাপাসগোলাসহ বেশ কয়েকটি এলাকার ফুটপাতের চিত্র এমনই।

আজ শনিবার চকবাজারে বাজার করতে আসা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডাকঘরের এক কর্মকর্তা বলেন, এক বছরের বেশি সময় ধরে ফুটপাতটিতে ছোট-বড় অনেক গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু মেরামতের কোনো উদ্যোগ নেই। প্রতিদিন ডাকঘরে সেবাগ্রহীতাসহ স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থী ও পথচারীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। গণি বেকারি হয়ে আসা আইডিয়্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ সংলগ্ন ফুটপাতটির বিভিন্ন অংশে ৭-৮ ছোট বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। এই ফুটপাত দিয়ে প্রতিদিন স্কুল ও কলেজের শিড়্গার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে আসা-যাওয়া করছে বলে তিনি জানান।

তবে সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা বলেন, ফুটপাত ঠিক করার জন্য কাজ চলছে। এ নিয়ে আমাদের প্রোগাম চলমান আছে এবং একই সাথে চলছে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজও। আশা করছি আগামী জুন মাসের মধ্যে নগরীর ফুটপাতগুলোর একটা পরিবর্তন আসবে এবং ঝুঁকিপূর্ণ ফুটপাতগুলো দ্রুত মেরামত করা হবে বলে তিনি জানান।
এদিকে, নগরীর বহদ্দারহাট রহমান কমপ্লেক্স, মানিক প্লাজা ও ইয়াছিন বিল্ডিংয়ের সামনের ফুটপাতের দুই জায়গায় স্ল্যাব নেই। দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে ড্রেনের পানি চলাচল। এছাড়া বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সামনের ফুটপাতে লোহার তৈরি ঢাকনা ভেঙে পড়েছে। সতর্কতার জন্য দুটি বাঁশ খাড়াভাবে বসানো আছে। হক মার্কেট থেকে স্বজন সুপার মার্কেটের ফুটপাত মোটামুটি ভালো থাকলেও হাঁটাচলা দায় হকারদের দখলের কারণে।

অন্যদিকে, শুলকবহর সিডিএ অ্যাভেনিউ আততালীমুন নব্বী মাদরাসার সামনে ফুটপাতে লোহার তৈরি ঢাকনা ভেঙে ভেতরে ঢুকে গেছে। একই জায়গার রুবেল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সামনে বেশ কিছুদূর ফুটপাতের অর্ধেক অংশ ভাঙা অবস্থায় রয়েছে। মুরাদপুর এলাকার হাসিনা বেকারির সামনে ফুটপাতে দেওয়া লোহার তৈরি স্ল্যাব ভেঙে গেছে এবং এসএন বিল্ডিংয়ের সামনের ফুটপাতের স্ল্যাব নেই।
জানা গেছে, পথচারীদের নির্বিঘ্নে চলাচলের জন্য ফুটপাত। কিন্তু সেই ফুটপাত এখন মত্যুকূপ। ফুটপাতের বিভিন্ন অংশ ভেঙে ছোট, মাঝারি ও বড় আকারের গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। অনেক স্থানে বসানো স্ল্যাবও নেই।

সরেজমিনে বহদ্দারহাট এলাকার এক পথচারী জানান, ফুটপাত মেরামতের দায়িত্ব চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের। কিন্তু দিন, মাস ও বছর গেলেও ফুটপাতে সৃষ্ট গর্ত মেরামত হয় না। এর মাশুল গুনতে হয় পথচারীদের। এলাকার কাউন্সিলরদেরও এসব বিষয়ে তেমন কোনো ভূমিকা নেই।
সরেজমিনে দেখা যায়, চকবাজার এলাকার চট্টগ্রাম কলেজের পশ্চিম গেটের পরে এবং ক্যান্টিন গেটের সামনে ফুটপাতটির এক জায়গায় স্ল্যাব উঠানো অন্য জায়গায় গর্ত সৃষ্টি হয়ে লোহার রড দৃশ্যমান। দিনের বেলায় গর্ত চোখে পড়লেও রাতে গর্ত দেখা যায় না। ফলে যেকোনো সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। ফুটপাতটি দিয়ে প্রতিদিন ৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হাজারো শিক্ষার্থী চলাচল করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চট্টগ্রাম কলেজের এক অধ্যাক্ষ বলেন, ফুটপাতটি এখন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবকসহ পথচারীদের চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ। অসাবধানতাবশত মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। কাজেই ফুটপাতগুলো পথচারীদের জন্য নিরাপদ চলাচল উপযোগী করা প্রয়োজন। কলেজের সামনে সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য কাউন্সিলরকে একটি চিঠি দিয়েছি গত এক মাস আগে।
এদিকে চট্টগ্রাম কলেজ রোডের ফুটপাতটির চেয়ে ভয়ংকর অবস্থা চকবাজার ডাকঘরের সামনের ফুটপাতটির। ডাকঘর থেকে বিজ্ঞান পরিষদ পর্যন্ত ছোট-বড় ৭টি গর্ত সৃষ্টি হয়ে আছে দীর্ঘদিন। মেরামতের উদ্যোগ নেই।
চিটাগাং আইডিয়্যাল কলেজ এর অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন ফুটপাতটি শিক্ষার্থীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আমি গতকাল (গত শুক্রবার) রাতেও এই ফুটপাত দিয়ে এসেছি। দেখলাম ৭-৮টি ছোট বড় গর্ত সৃষ্টি হয়ে মরণফাঁদ তৈরি হয়ে আছে। এগুলো দ্রুত মেরামত করা প্রয়োজন। না হলে যেকোনো মুহূর্তে ঘটতে পারে মারাত্মক দুর্ঘটনা।