banner

শেষ আপডেট ১০ ডিসেম্বর ২০১৯,  ১৯:৪৮  ||   মঙ্গলবার, ১০ই ডিসেম্বর ২০১৯ ইং, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

চট্টগ্রাম বন্দরে রাজস্ব ফাঁকিতে ৫০ ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট

চট্টগ্রাম বন্দরে রাজস্ব ফাঁকিতে ৫০ ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট

১৪ জানুয়ারী ২০১৯ | ২০:১৯ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • চট্টগ্রাম বন্দরে রাজস্ব ফাঁকিতে ৫০ ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট

রাজিব শর্মা : চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সিএন্ডএফ ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে গড়ে উঠা ৫০ ব্যবসায়ীর একটি সিন্ডিকেট বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এ সিন্ডিকেটের অপতৎপরতায় মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানি-রফতানিতে রাজস্ব ফাঁকি দিতে চট্টগ্রাম বন্দরে প্রতিনিয়ত অপতৎপরতা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ সিন্ডিকেটের সদস্যদের কারসাজিতে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে কোটি কোটি টাকা শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আসছে আমদানিকারকগণ ও সিএন্ডএফ এজেন্টরা। ফলে এ অপতৎপরতা রোধে বন্দরে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে কন্টেনার স্ক্যানার বসানো হলেও কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। এতে সরকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতর ও কাস্টমসের এআইআর (অডিট ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড রিসার্চ) শাখার তৎপরতায় এ চক্রের কয়েকটি চালান ধরা পড়লেও অধিকাংশই থাকে ধরাছোঁয়ার বাইরে। কাস্টমসের কিছু অসৎ কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে এ চক্র পণ্য খালাস করছে বলে একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম কাস্টমস লোক দেখানো দু’ একটি চালান আটকের পদক্ষেপ নিতে দেখা গেলেও প্রতিনিয়ত ঘটছে মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি রফতানির কাজ। এদিকে চট্টগ্রাম বন্দরে স্থাপিত কন্টেনার স্ক্যানারে ঘোষণা বহির্ভূত পণ্য ও আমদানি নিষিদ্ধ পণ্য থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হবার পরও ছেড়ে দেয়ার নজির রয়েছে। অথচ কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বিষয়গুলো জানার পরও স্ক্যানারে দায়িত্বপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। চলতি অর্থ বছরের ১০ মাসে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের রফতানি গোয়েন্দা শাখা ৪৫ টি চালান আটক করেছে।

এদিকে সর্বশেষ গত ২৫ জুন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম কাস্টমসের শুল্ক গোয়েন্দা তদন্ত বিভাগের কর্মকর্তারা বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের ইয়ার্ড থেকে মিথ্যা ঘোষণায় আনা ১৮ বস্তা পোস্তদানা আটক করেছে ।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম কাস্টমসে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে পণ্য আনা-নেওয়া করছে ৫০ ব্যবসায়ীর একটি আসাধু সিন্ডিকেট। শুক্র ও শনিবার পণ্য খালাসের দিন হিসেবে বেছে নেয় এ সিন্ডিকেট। পণ্যের কোড পরিবর্তন বা সিল-স্বাক্ষর জাল করে চক্রটি প্রতি বছর ছাড়িয়ে নিচ্ছে শতকোটি টাকার পণ্য।

সূত্র জানায়, কাস্টম অ্যাক্ট ১৯৬৯-এর ৩২ ধারায় উল্লেখ আছে, মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আনা হলে সংশ্লিষ্ট পণ্যমূল্যের অনধিক তিনগুণ অর্থদন্ড এবং ওই পণ্য বাজেয়াপ্ত হবে। অপরাধ গুরুতর হলে ফৌজদারি মামলা করা যাবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আমদানিকারককে অনধিক পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয়দন্ড দেয়া যাবে। এ সিন্ডিকেটের কারোরই এখন পর্যন্ত কারাদন্ড কিংবা সর্বোচ্চ অর্থদন্ড হয়নি। আইনি জটিলতার কারণে কাস্টম ফৌজদারি মামলা না করায় ধরা পড়া চালানের সবগুলোতে জরিমানা গুণেই পার পেয়ে গেছে তারা।

এ বিষয়ে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক সুলতান মোহাম্মদ ইকবাল স্বীকার করে বলেন, চক্রটি কখনও এইচএস কোড পরিবর্তন করে কখনও জাল সনদ ব্যবহার করে পণ্য খালাস করে নিচ্ছে।

কাস্টমস সূত্র জানায়, বিগত অর্থ বছরের ১০ মাসে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের রফতানি গোয়েন্দা শাখা ৪৫টি চালান আটক করেছে। আটককৃত এসব চালানের বিপরীতে রাজস্ব ও জরিমানা করা হয়েছে ৩ কোটি ২০ লাখ ৮৭ হাজার ৯২০ টাকা।

যার মধ্যে ২৮টি আটককৃত চালান থেকে রাজস্ব ও জরিমানা আদায় করা হয়েছে ৩ কোটি ৭৮ লাখ ৯২ হাজার ৫০৮ টাকা। ৯টি আটককৃত চালানের আমদানিকারক ও রফতানিকারকের কাছে ৯২ লাখ ৯৫ হাজার ৪১২ টাকা আদায়ের চেষ্টা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।