banner

শেষ আপডেট ১৮ অক্টোবর ২০১৯,  ২১:০২  ||   শুক্রবার, ১৮ই অক্টোবর ২০১৯ ইং, ৩ কার্তিক ১৪২৬

সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাংলাদেশের মর্যাদা বাড়িয়েছে

সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাংলাদেশের মর্যাদা বাড়িয়েছে

২২ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২২:৫৬ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাংলাদেশের মর্যাদা বাড়িয়েছে

সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি বাংলাদেশের মর্যাদা বাড়িয়েছে এবং বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি অনেক উজ্জ্বল করেছে। ২০১৮ সালের বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ সূচকে (জিটিআই) বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের চেয়েও পাঁচ ধাপ এগিয়ে গেছে। ১৬৫টি দেশকে নিয়ে তৈরি এই সূচকে এ বছর ১২ ধাপ পিছিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান হয়েছে ২০তম। অন্যদিকে পাঁচ ধাপ এগিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান হয়েছে ২৫তম। এই তালিকার শীর্ষে থাকা পাঁচটি দেশ হলো—ইরাক, আফগানিস্তান, নাইজেরিয়া, সিরিয়া ও পাকিস্তান। নিঃসন্দেহে যেকোনো বাংলাদেশির জন্য এর চেয়ে বড় স্বস্তির খবর আর কিছু হতে পারে না।

যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম ফর দ্য স্টাডি অব টেররিজম অ্যান্ড রেসপন্সেস ইন টেররিজম (্এসটিএআরটি) এবং বৈশ্বিক সন্ত্রাসবিষয়ক তথ্যভাণ্ডার গ্লোবাল টেররিজম ডাটাবেইসের তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে সিডনিভিত্তিক ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড পিস প্রতিবছর এই সূচক প্রকাশ করে। সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো তালিকার শীর্ষে স্থান পায়। দক্ষিণ এশিয়ায় পাকিস্তানের (পঞ্চম) পরেই রয়েছে ভারতের অবস্থান (সপ্তম)। দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হলো ভুটান (১৩৫তম)। এই সূচক তৈরিতে গত ২০ বছরে কোনো দেশে সংঘটিত সন্ত্রাসী ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা বিবেচনা করা হয়। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় দেশে সবচেয়ে বেশি সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে ও প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়। এতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিও চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বাংলাদেশ একটি সন্ত্রাসকবলিত দেশ হিসেবে পরিচিতি পায়। অনেক দেশ তাদের নাগরিকদের বাংলাদেশ ভ্রমণে বিশেষ সতর্কতা জারি করে। এতে বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্য যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তেমনি বিদেশি বিনিয়োগ মুখ থুবড়ে পড়ে। অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে যায়। সেই সময়ে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে যে নেতিবাচক নম্বর যোগ হয়েছিল, তা না থাকলে বাংলাদেশ আজ এই সূচকে আরো অনেক ভালো অবস্থানে থাকত। বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিও অনেক উজ্জ্বল হতো।

শান্তি ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। স্বাধীনতার আগে তৎকালীন পশ্চিম ও পূর্ব পাকিস্তানের মধ্যে সম্পদের বৈষম্য ছিল পাহাড়প্রমাণ। সেই পাকিস্তান সন্ত্রাসকবলিত হয়ে ক্রমেই পিছিয়ে পড়ছে। অর্থনীতির প্রায় সব সূচকে বাংলাদেশের পেছনে পড়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী তাই দুঃখ করে বলেন, সব দিক দিয়ে আমরা আজ বাংলাদেশের তুলনায় পিছিয়ে পড়েছি। সন্ত্রাসকবলিত থাকলে বাংলাদেশের এই অগ্রগতি কল্পনাও করা যেত না। শুধু পাকিস্তান নয়, একই চিত্র আমরা দেখি আফগানিস্তান, ইরাক, সিরিয়া, নাইজেরিয়া ও সোমালিয়ার ক্ষেত্রেও। একদা সমৃদ্ধিশালী এ দেশগুলো আজ অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে।

দেশ আমাদের, দেশের ভালো-মন্দ দেখার দায়িত্বও আমাদের। আমাদের এবং আমাদের ভবিষ্যৎ বংশধরদের এখানেই থাকতে হবে। তাই শুধু রাষ্ট্রীয়ভাবে নয়, সামাজিকভাবেও জঙ্গিবাদসহ যেকোনো সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে হবে এবং দেশকে ক্রমেই এগিয়ে নিতে হবে। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রকে আরো কঠোর হতে হবে এবং বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ সূচকে আরো উন্নতির লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে।