banner

শেষ আপডেট ১২ ডিসেম্বর ২০১৮,  ২০:০৯  ||   বৃহষ্পতিবার, ১৩ই ডিসেম্বর ২০১৮ ইং, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

বিএনপির ভোটে আসার ঘোষণা

বিএনপির ভোটে আসার ঘোষণা

১১ নভেম্বর ২০১৮ | ১৮:২৫ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • বিএনপির ভোটে আসার ঘোষণা
ডেস্ক রিপোর্টঃ দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করা বিএনপির আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এসেছে। বিএনপি, গণফোরাম, জেএসডি ও নাগরিক ঐক্যের সমন্বয়ে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রধান নেতা ড. কামাল হোসেন এই ঘোষণা দিয়েছে। তবে তফসিল একমাস পেছানোর দাবি করেছে তারা।
জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে বিএনপির আরেক জোট ২০ দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই নির্বাচনে দুই জোটের মধ্যে সমন্বয় থাকবে। তবে কী ধরনের সমঝোতা হবে, সেটি জানানো হয়নি।
ফলে এটা স্পষ্ট যে ঐক্যফ্রন্ট নেতারা জামায়াতকে সঙ্গে নিয়েই ভোটে যাচ্ছেন। যদিও এতদিন তারা দাবি করছিলেন, স্বাধীনতাবিরোধী দলটির সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখবেন না তারা।
আবার ঐক্যফ্রন্ট কোন প্রতীকে নির্বাচন করবে- সেটিও জানাননি নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে এ সংক্রান্ত প্রশ্নে ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘এ বিষয়টি আমরা পরে জানাব।’
রবিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের তৃতীয় তলায় এক সংবাদ সম্মেললে জোটের ভোটে আসার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন ড. কামাল হোসেন। এর আগে কামাল হোসেনের বেইলি রোডের বাসভবনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষনেতাদের নিয়ে বৈঠক করেন তিনি। নির্বাচনের পাশাপাশি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আন্দোলনেও থাকবে জানান কামাল।
দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করা বিএনপি-জামায়াত জোটের প্রধান দাবি নির্বাচনকালীন সরকারের দাবি পূরণ হয়নি। আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে এবার ২০ দলীয় জোটের বাইরে শক্তি বাড়াতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টও গঠন করে বিএনপি।
এই ফ্রন্ট গঠনের পর আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দুই দফা সংলাপেও বসেন ঐক্যফ্রন্ট নেতারা। তবে আলোচনার টেবিলে সুবিধা করতে না পারার পরও বিএনপির ভোটে আসার ইচ্ছার কথা জানা যাচ্ছিল নানাভাবে। দলের ভেতর দুই দফা বৈঠকে বেশিরভাগ নেতাই নির্বাচনে অংশ নেয়ার পরামর্শ দেন।
বিষয়টি নিয়ে শনিবার রাতে বিএনপি কথা বলে তার দুই জোটের সঙ্গেই। ২০ দলীয় জোটের ছোট পাঁচ শরিক বাদে বাকি সবাই ভোটে অংশ নেয়ার পক্ষে বলেন। আর জামায়াতে ইসলামী একদিন সময় নেয়।
আবার ঐক্যফ্রন্ট নেতারাও ভোট বর্জনের বিরুদ্ধে বলেন। দায়িত্ব দেয়া হয় জোটের প্রধান নেতা ড. কামাল হোসেনকে সিদ্ধান্ত জানাতে।
ওদিকে ২০ দলীয় জোটও আলাদা সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে।  সেখানে জানানো হয়, ভোট বর্জনের বিরুদ্ধে নয় তারাও। আর এই নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এবং ২০ দলের মধ্যে আসন নিয়ে সমঝোতা থাকবে।
ঐক্যফ্রন্টের সংবাদ সম্মেলন
সংবাদ সম্মেলনে প্রথমে ঘোষণাপত্র পাঠ করেন মির্জা ফখরুল। সেখানে নির্বাচনে আসার ঘোষণা এবং কোন প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, তা তুলে ধরেন তিনি। জানান, তফসিল পেছানোর দাবি।
ফখরুল জানান, তাদের সাত দফা দাবিতে আন্দোলন এবং নির্বাচন এক সঙ্গেই চলবে। বলেন, ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষে নির্বাচনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া খুবই কঠিন। কিন্তু এরকম ভীষণ প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনের অংশ হিসেবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
এরপর শুরু সাংবাদিকরা প্রশ্ন করতে শুরু করেন। আর কামাল হোসেনকে প্রতিবার জবাব বলে দিচ্ছিলেন আ স ম আব্দুর রব।
একবার ড. কামাল আটকে গেলে রব বলেন, ‘আমি যা বলেছি তাই রিপিট করে নেন।’
দাবি মানা না হলে ঐক্যফ্রন্টের আন্দোলনের ঘোষণার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিলে কামাল বলেন, ‘অবস্থা বুঝে সিদ্ধান্ত আমাদের নিতে হবে। আমরা অবস্থা বুঝে সেটা বিবেচনা করব। তবে আন্দোলন চলবে। নির্বাচনে অংশগ্রহণের পাশাপাশি আন্দোলন চলবে। আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে।’
এবারের ভোটে নিশ্চিত জয় দেখছেন ঐক্যফ্রন্টের প্রধান নেতা। বলেন, ‘জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। তারা বলছে, আমরা পরিবর্তন চাই। জনগণের শক্তি ঐক্যবদ্ধ হয়ে নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের সরকার প্রতিষ্ঠিত করবে।’
নির্বাচন পেছানোর দাবি করে ফখরুল বলেন, ‘সে ক্ষেত্রেও বর্তমান সংসদের মেয়াদকালে নির্বাচন করা সম্ভব হবে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তৎকালীন চার দলীয় জোটের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার স্বার্থে নির্বাচনের তফসিল দুই দফা পিছিয়ে দেয়া হয়েছিল।’
সংবাদ সম্মেলন চলাকালে প্রেসক্লাবের ভেতরে বিএনপির নেতারা মিছিল করেন। দলীয় প্রধান খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ নানা স্লোগানও দেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, জমির উদ্দিন সরকার, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি আবদুল কাদের সিদ্দিকী, জেএসডির আ স ম আবদুল রব, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।