banner

শেষ আপডেট ৯ ডিসেম্বর ২০১৮,  ২৩:২০  ||   সোমবার, ১০ই ডিসেম্বর ২০১৮ ইং, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

সড়ক দুর্ঘটনা নয়, লাল মিয়াকে পরিকল্পিত হত্যার দাবি পরিবারের

সড়ক দুর্ঘটনা নয়, লাল মিয়াকে পরিকল্পিত হত্যার দাবি পরিবারের

৭ নভেম্বর ২০১৮ | ২১:২৯ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সড়ক দুর্ঘটনা নয়, লাল মিয়াকে পরিকল্পিত হত্যার দাবি পরিবারের

গাজীপুর জেলা প্রতিনিধিঃ সড়ক দুর্ঘটনায় লাল মিয়া (৪০) মারা যায়নি। তাকে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। পূর্ব শক্রতা ও জমি সংক্রান্ত বিরোধ এবং মারামারি মামলার জের ধরে লাল মিয়াকে তার আপন চাচাতো ভাই সবুজ হত্যা করেছে বলে নিহত পরিবারের দাবি।
গত ৫ নভেম্বর সোমবার কালীগঞ্জ-ঘোড়াশাল বাইপাস সড়কের বালীগাঁও চৌধুরী বাড়ি সংলগ্ন নাভানা কোম্পানীর পশ্চিম পাশে ট্রাকের ধাক্কায় লাল মিয়া নিহত হয়। পরিবারের লোকজন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌছলে লাল মিয়ার লাশ দেখে থানায় খবর দিলে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। তখন পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়- এটা কোনো দুর্ঘটনা নয়, তাকে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যাকান্ডের সাথে সবুজ জড়িত আছে বলে লাল মিয়ার পরিবারের লোকজন জোর দাবি জানান। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোঃ সুলতান উদ্দিন খান ওই দিন দুপুরে সবুজকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। নিহত লাল মিয়ার লাশ প্রাথমিক সুরতহাল রিপোর্ট করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মর্গে প্রেরণ করেন।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোঃ সুলতান উদ্দিন খান বলেন, নিহত লাল মিয়ার সাথে সবুজের জমি সংক্রান্ত ও মারামারি বিষয়ে পাল্টাপাল্টি মামলা রয়েছে। সবুজ সেভেন রিং সিমেন্ট ফ্যাক্টরিতে যেই গাড়িটি চালাতো সেই গাড়িতে রক্ত ও মগজের ছাপ লেগে থাকে। এতে বুঝা যায় সবুজ পরিকল্পিতভাবে লাল মিয়াকে হত্যা করেছে।
এ সংক্রান্ত বিষয়ে সোমবার রাতে নিহত লাল মিয়ার স্ত্রী মোসাঃ ঝুমা আক্তার বলেন, ড্রাইভার সবুজ ও তার গাড়ির হেলপার রুবেলের নামে ৩০২/৩৪ ধারায় কালীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং-৮(১১)১৮। সবুজের বিরুদ্ধে ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ ৭ নভেম্বর বুধবার দুপুরে তাকে আদালতে প্রেরণ করেছে।
ঝুমা আক্তার আরো বলেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গত ১৪ জানুয়ারি সবুজসহ অন্যান্য আসামিরা আমার স্বামীকে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর করে। এ সংক্রান্ত বিষয়ে আমার স্বামী বাদী হয়ে মামলা করেন। পরে আসামিরা জামিনে মুক্তি পেয়ে মামলাটি তুলে নেওয়ার জন্য স্বামীকে ভয়ভীতি ও হত্যার হুমকি দিয়ে আসছে।
কালীগঞ্জ পৌরসভাধীন চরমিরপুর এলাকায় সেভেন সার্কেল (বাংলাদেশ) সেভেন রিং সিমেন্ট ফ্যাক্টরিতে গিয়ে সবুজের চালিত গাড়িটি পর্যবেক্ষণ করে গাড়িতে রক্ত ও মগজ লেগে থাকতে দেখে পুলিশ তা আলামত হিসেবে থানায় নিয়ে আসেন। নিহত লাল মিয়ার এক ছেলে জাহিদ হাসান ও এক মেয়ে পুষ্মিতা আক্তার তাদের বাবার হত্যাকারীর ফাঁসির দাবি জানান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কালীগঞ্জ পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ড চৈতরপাড়া গ্রামের নিহত লাল মিয়ার পিতা মৃত আব্দুল বারেক ও আসামি সবুজের পিতা মোঃ আফজাল হোসেন আপন দুই ভাই। সে মতে নিহত লাল মিয়া ও আসামি সবুজ আপন চাচাতো ভাই। তাদের মধ্যে পূর্ব থেকেই জমি সংক্রান্ত ও পারিবারিক বিরোধ রয়েছে।
এ সংক্রান্ত বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আবু বকর মিয়া বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি সবুজই পূর্ব শক্রতার জেরে লাল মিয়াকে হত্যা করেছে। পূর্বে সবুজের বিরুদ্ধে কালীগঞ্জ থানায় মারামারির মামলা রয়েছে। লাল মিয়া বাদী হয়ে গত ১৬ জানুয়ারি সবুজসহ ৫জন এবং অজ্ঞাতনামা ৩/৪ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করেন, যার মামলা নং-০৭(১)১৮। বর্তমানে মামলাটি গাজীপুর বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। সবুজের বিরুদ্ধে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে তাকে বুধবার গাজীপুর কোর্টে প্রেরণ করা হয়েছে।