banner

শেষ আপডেট ১২ ডিসেম্বর ২০১৮,  ২০:০৯  ||   বৃহষ্পতিবার, ১৩ই ডিসেম্বর ২০১৮ ইং, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

দেশীয় শিপিং সেক্টরের দুরবস্থায় হতাশ আমদানী-রপ্তারিকারক

দেশীয় শিপিং সেক্টরের দুরবস্থায় হতাশ আমদানী-রপ্তারিকারক

১৬ অক্টোবর ২০১৮ | ১১:৪১ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • দেশীয় শিপিং সেক্টরের দুরবস্থায় হতাশ আমদানী-রপ্তারিকারক

 

আন্তর্জাতিক সমুদ্র পরিবহনে হ্রাস পাচ্ছে বেসরকারি মালিকানায় পরিচালিত বাংলাদেশি পতাকাবাহী জহাজের সংখ্যা। বিশ্বের অন্যান্য দেশে যেখানে আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহনে শিপিং খাত ক্রমশ উন্নতি করছে সেখানে দেশীয় শিপিং সেক্টরের এই দুরবস্থা নিয়ে হতাশ আমদানী-রপ্তারিকারক প্রতিষ্ঠানসমূহ।২০১৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ ছিলো ৬৩টি। চার বছরের ব্যবধানে জাহাজের সংখ্যা কমেছে ২৪টি ।

 চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জাতীয় পতাকাবাহী জাহাজের সংখ্যা ৩৭ টি। এর মধ্যে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশেনের মাত্র ৩টি জাহাজ রয়েছে। বাকী ৩৪ টি বিভিন্ন বেসরকারী কোম্পানীর। দেশের অনেক প্রতিষ্ঠিত শিপিং কোম্পানী তাদের ব্যবসা গুটিয়ে ফেলেছেন। এইচআরসি শিপিং ১০টি জাহাজ পরিচালনা করলেও এখন তাদের একটি জাহাজও নেই। সিএলএ কন্টেইনার লাইনারের ১০টি জাহাজের মধ্যে টিকে আছে ২টি। সিলভিয়া শিপিং এর প্রায় ১০টি জাহাজের মধ্যে একটিও অবশিষ্ট নেই। এছাড়া রতনপুর স্টিল, ট্রান্স ওশান ক্রিস্টাল শিপিং ‘সহ অনেক নামিদামী শিপিং কোম্পানীর জাহাজ পুরাতন হওয়ায় তা স্ক্র্যাপ হিসেবে বিক্রি করে দিয়ে নতুন কোনো জাহাজ ক্রয় করেনি।এসআর শিপিং, বসুন্ধরা গ্রুপ, ক্রাউন সিমেন্ট কোম্পানী, আকিজ গ্রুপ , ভ্যানগার্ড শিপিং, মেঘানা শিপিং ‘সহ বিভিন্ন শিপিং কোম্পানীর বেসরকারি পর্যায়ে ৩৪টি জাতীয় পতাকাবাহী জাহাজ আন্তর্জাতিক সমুদ্র পরিবহন ব্যবসায় নিয়োজিত রয়েছে।

একটি জাহাজ সমুদ্রে চালু অবস্থায় দৈনিক খরচ পড়ে প্রায় ৫ থেকে ৭ হাজার ডলার। যেসব প্রতিষ্ঠান জাহাজ কিনেছেন তাদের অনেকের এ খাতে ব্যবসার তেমন অভিজ্ঞতা ছিল না। আর  নিয়োগ দেওয়া লোকবলও তেমন দক্ষ নয়। তাছাড়া কার্গো জাহাজ না পাওয়া, পর্যাপ্ত ভাড়া না পাওয়া, মিস-ম্যানেজমেন্ট, দুর্নীতি’সহ নানা কারণে মুখ থুপড়ে পড়েছে এই খাত। ক্রমাগত লোকসান দিতে দিতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে শিপিং কোম্পানীগুলো।

এদিকে সরকারি-বেসরকারি শিপিং কোম্পানীগুলোতে জাহাজের সংখ্যা কমে যাওয়ায় বিভিন্ন মেরিন একাডেমিতে পাশ করা ক্যাডেট এবং ক্রু’দের কাজের ক্ষেত্রও সংকুচিত হয়ে আসছে। এই সেক্টরে পড়াশোনা শেষ করে অনেকেই কাজ না পেয়ে হতাশাগ্রস্ত হয়ে উঠেছে।

সরকারি বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়ে রয়েছে আরো ১৬টি মেরিন একাডেমি। সব মিলিয়ে ১৭টি মেরিন একাডেমিতে পাশ করে প্রতিবছর প্রচুর সংখ্যক ক্যাডেট বের হচ্ছে। পাশাপাশি মেরিটাইম ইন্সটিটিউট থেকে প্রশিক্ষণ শেষে ক্রু হিসেবে জাহাজে যোগদানের জন্য অপেক্ষায় রয়েছে। কাজের ক্ষেত্র না থাকায় পাশ করা এসব ক্যাডেট এবং ক্রু বেকারত্ব সংখ্যায় যোগ হচ্ছে।চলতি বছরের ৩১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন মেরিন একাডেমি থেকে পাশকরা ৩৫৯ জন অপেক্ষায় আছে কাজে যোগ দেওয়ার জন্য। এর মধ্যে বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির ৪৯, ৫০ এবং ৫১ তম ম্যাচের ৮৫ জন ক্যাডেট কাজে যোগ দেওয়ার জন্য অপেক্ষমাণের তালিকায় রয়েছে।

জাহাজের সংখ্যা কমে যাওয়ায় ভালো নেই সীফ্যারার্স রিক্রুটিং এজেন্টগুলো। কাজ না থাকায় অনেক রিক্রুটিং এজেন্ট তাদের প্রতিষ্ঠান গুটিয়ে ফেলেছেন। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ৬৯টি ম্যানিং এজেন্ট জাহাজে বিভিন্ন পদে জনবল নিয়োগের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে। এর মধ্যে হক এন্ড সন্স, ব্রেইভ রয়েল শিপ ম্যানেজমেন্ট বাংলাদেশ লি., ইউনিকর্ন শিপিং সার্ভিস, রিলায়েন্স শিপিং সার্ভিস ‘সহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ক্যাডেট এবং সী-ম্যান নিয়োগ করা গেলেও বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের নিয়োগের হার খুবই কম। অনেক প্রতিষ্ঠান এই সময়ের মধ্যে একজন সী-ম্যানও নিয়োগ দিতে পারেনি।

উচ্চ মাধ্যামিক পাশ করার পর ২০১৩ সালে ন্যাশনাল মেরিটাইম ইন্সটিটিউট থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে অপেক্ষায় আছি জাহাজে যোদ দেওয়ার জন্য। অনেক চেষ্টা-তদবিরের পর ২০১৭ সালে রোস্টারভুক্ত হয় হয়ে চলতি মাসের তৃতীয় সপ্তাহের দিকে ক্রু পদে জাহাজে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। একবার জাহাজ থেকে নামার পর দীর্ঘ অপেক্ষায় থাকতে হয় তাদের। এ সময় কাজ না পেয়ে তারা চরম আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন। তারা ক্ষোভের সাথে জানায়, দিন দিন জাহাজে কাজের পরিধি কমে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে সমুদ্র পরিবহন সেক্টরে কর্মসংস্থানে চরম বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।

অতীতে প্রতি বছর শত শত লোক রিক্রুট করা হয়েছে। জাহাজের সংখ্যা কমে যাওয়ায় সী-ম্যান রিক্রুটের সংখ্যা প্রায় শুন্যের কোটায় নেমে এসেছে। এ অবস্থায় কর্মকর্তাদের বেতন ও অফিস ভাড়ার ব্যয়ও নির্বাহ করতে কষ্ট হচ্ছে। সমুদ্রে দেশীয় পতাকাবাহী জাহাজের সংখ্যা বৃদ্ধি না পেলে এই খাত টিকিয়ে রাখা যাবে না।