banner

শেষ আপডেট ১১ ডিসেম্বর ২০১৮,  ২২:৪৫  ||   বুধবার, ১২ই ডিসেম্বর ২০১৮ ইং, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

চমেক হাসপাতালের মানসিক বিভাগ ৩ কোটির মানুষের চিকিৎসায় একমাত্র ভরসা ২৩ শয্যা

চমেক হাসপাতালের মানসিক বিভাগ ৩ কোটির মানুষের চিকিৎসায় একমাত্র ভরসা ২৩ শয্যা

১১ অক্টোবর ২০১৮ | ২০:০১ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • চমেক হাসপাতালের মানসিক বিভাগ  ৩ কোটির মানুষের চিকিৎসায় একমাত্র ভরসা ২৩ শয্যা

ক্রাইম প্রতিবেদকঃ  চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মানসিক বিভাগে মাত্র ২৩টি শয্যা রয়েছে। একই সাথে চট্টগ্রাম বিভাগের উপজেলা ও জেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে কোনো মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই। বিশেষ করে মানসিক রোগের চিকিৎসায় চট্টগ্রামের ১১ জেলার প্রায় ৩ কোটির মানুষের একমাত্র ভরসা ২৩ শয্যার চমেক হাসপাতালের মানসিক বিভাগ। এদিকে এ রোগে আক্রান্ত রোগীদের বিজ্ঞানসম্মত চিকিৎসা না দিয়ে ঝাড়ফুঁক বা তাবিজ-কবজ দেওয়ার ফলে রোগীরা আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে চিকিৎসকরা অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

চমেকের চিকিৎসকরা জানান, দেশে ২০ শতাংশ মানসিক সমস্যায় ভুগছে। এ ছাড়া শিশু-কিশোরদের মধ্যে প্রতি হাজারে আটজন অটিজমে আক্রান্ত। এর মধ্যে সারাদেশে সিজোফ্রেনিয়া রোগীর সংখ্যা দুই কোটি ৬০ লাখ। অথচ বিশাল এই জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবায় দেশে মাত্র ১৯৫ জন মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ রয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রায় একশত চিকিৎসক রাজধানীতে অবস্থান করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চট্টগ্রামে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল মিলে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ রয়েছেন মাত্র ৯ থেকে ১১ জন। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেলে কলেজ ও হাসপাতালের মানসিক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক মহিউদ্দীন এ সিকদার বলেন, মানসিক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিকে বিজ্ঞানসম্মত চিকিৎসা না দিয়ে ঝাড়ফুঁক বা তাবিজ-কবজ দেওয়া হয়। ফলে রোগীরা আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েন।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বিভাগে সরকারি কোন বিশেষায়িত মানসিক হাসপাতাল নেই। এই বিভাগের সব মানুষের ভরসা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মানসিক বিভাগ। এই বিভাগে অধ্যাপকের কোন পদ নেই। আমরা মাত্র ৩ জন চিকিৎসক রয়েছি। আমাদের ২ জন চিকিৎসকের পদ খালি রয়েছে।
চমেক হাসপাতালে ও চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চট্টগ্রাম বিভাগের উপজেলা ও জেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে কোনো মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই। এছাড়া ৫ জেলার সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালেও নেই মানসিক বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক । তবে চাদঁপুর সরকারি হাসপাতালে মানসিক বিভাগ করার প্রস্তাবনা আছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন আজিজুর রহমান সিদ্দিকী।

তিনি বলেন, বলেন, উপজেলা, জেলা সদর ও জেনারেল হাসপাতালে মানসিক রোগের চিকিৎসক হয় না। একমাত্র চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মানসিক রোগের চিকিৎসা হয়।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে মানসিক বিভাগে চিকিৎসা নিতে রাঙামাটি থেকে আসা রোগীর এক স্বজন বলেন, অনেক দিন যাবত ভাই ঠিক মত কাজ কর্ম করে না। ঠিকমত খাওয়া দাওয়াও করে না। ঝাড়ফুঁক ও তাবিজ-কবজের আশ্রয় নিয়ে কাজ হয়নি। পরে রাঙামাটি সদর হাসপাতালে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে প্রেরণ করেন। এখানে চিকিৎসা হচ্ছে। কিন্তু রোগী অনেক বেশি। সাতকানিয়া থেকে চমেক হাসপাতালে মানসিক বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর মা মরিয়ম বেগম বলেন, প্রথমে মেয়ে মানসিক রোগ হয়েছে বুঝতে পারিনি। অনেক টাকা পয়সা খরচ করে ঝাড়ফুঁক, তাবিজ-কবজ করেছি। শেষ বেলায় হাসপাতালে নিয়ে এসেছি। এখন আগের চেয়ে অনেক ভাল হয়েছে। কক্সবাজার থেকে মানসিক বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর স্বজন নাছির বলেন, চমেক হাসপাতালে মানসিক রোগের চিকিৎসক আছে সেটা জানতাম না। বর্তমানে এখানকার চিকিৎসায় অনেক ভাল হয়েছে।