banner

শেষ আপডেট ১১ ডিসেম্বর ২০১৮,  ২২:৪৫  ||   বুধবার, ১২ই ডিসেম্বর ২০১৮ ইং, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

আনোয়ারায় চলছে জমজমাট ইয়াবা ব্যবসা

আনোয়ারায় চলছে জমজমাট ইয়াবা ব্যবসা

৮ অক্টোবর ২০১৮ | ২২:৩৮ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আনোয়ারায় চলছে জমজমাট ইয়াবা ব্যবসা

রাজিব শর্মাঃ আনোয়ারায় চলছে জমজমাট ইয়াবা ব্যবসা। মায়ানমারের মংডু হতে আসা ইয়াবার বড় বড় চালান এখন সরাসরি সাগরপথে প্রবেশ করছে আনোয়ারায়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের তালিকা ও গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট পর্যবেক্ষণে দেখা গিয়েছে আনোয়ারায় রয়েছে ইয়াবার ৩ জন ডিলার, ১৪ জন গডফাদার, ৩ টি সিন্ডিকেট ও একটি বিশাল গ্রুপ। যারা আনোয়ারা হতে সারাদেশে ইয়াবা ছড়িয়ে দিচ্ছে।

দুই বছর আগে টেকনাফ হতে সড়কপথে ইয়াবার চালান আসতো আনোয়ারার ৩ টি স্পটে। সেখান হতে সিন্ডিকেটের লোকজন তা দেশের বিভিন্ন জায়গায় পাচার করে ব্যবসা করতো। এখন প্রশাসনের নজরদারী বাড়ায় রুট পরিবর্তন করেছে ব্যবসায়ীরা। সেন্টমার্টিন বা শাহপরীর দ্বীপ হয়ে ইয়াবার চালান এখন জলপথে সরাসরি আনোয়ারায়  প্রবেশ করছে প্রতি সপ্তাহে। সাধারণত আনোয়ারা উপকূলের বিভিন্ন ঘাটে এই চালান পৌঁছে যাচ্ছে। টেকনাফের বড় ব্যবসায়ীরা তাদের চালানের বড় অংশ পাঠিয়ে দিচ্ছে আনোয়ারায়, আর তা প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে সারাদেশে ছড়িয়ে যাচ্ছে।

বিগত বছর সমূহের তুলনায় ২০১৭ ও ২০১৮ সালে আনোয়ারা থানা পুলিশ কার্যকরী ভূমিকা রেখে চলছেন মাদক নির্মূলে। বর্তমান ওসি দুলাল মাহমুূদ কর্তৃক পরিচালিত একাধিক অপারেশনে এক বছরে ধরা পড়েছে ৭,৪২,০৯৯ পিস ইয়াবা, দেশীয় চোলাই মদ ৪৬০৭ লিটার, গাঁজা ৯,৯০০ গ্রাম, বিদেশী মদের বোতল ৮২৩ টি। এক বছরে আনোয়ারা থানায় মাদক মামলা হয়েছে ৯৮ টি। গ্রেফতার হয়েছে ১৬৭ জন। ৩ জন গডফাদার সহ বেশ কিছু তালিকাভুক্ত অপরাধী পলাতক রয়েছে।

 ওসি আবদুল লতিফের সময় এমন দমন পীড়ন দৃশ্যমান না থাকায় মাদকের আকড়ায় পরিণিত হয়েছে আনোয়ারা। সে সময়ে ৩ সিন্ডিকেটের সকলেই বিনা বাঁধায় ব্যবসা চালিয়েছে। তাছাড়া উক্ত ওসির বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসায়ীদের পশ্রয়সহ বিভিন্ন ধরনের উৎকোচ নিতেন বলে গোপন সূত্র দি ক্রাইমকে জানান স্থানীয় সচেতন যুবসমাজ। তাছাড়া  ওসি আব্দুল লতিফের কাছে মাদক সংক্রান্ত্র বিষয়ে সাক্ষাৎকার নিতে গেলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে যমুনা টিভির অনুসন্ধানি টিম সাংবাদিকের গাড়ি ভাংচুরসহ ৩ জন সাংবাদিককে লাঞ্ছিত করেন।

বর্তমানে  মাদক, চোরাচালানিসহ বিভিন্ন অপরাধীদের ধরতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অভিযানে সাফল্য দেখিয়েছে এএসআই রেজাউল করিম মামুন। মাদক সংক্রান্ত একাধিক অভিযানে সে আসামী গ্রেফতার ও ইয়াবা উদ্ধার করে সকলের নজর কেড়েছে। মাদক ব্যবসায়ীদের হাতে একবার আহত ও হয়েছেন তিনি। তাছাড়া একবার  আসামি ধরতে গিয়ে নিজেই নদীতে ঝাঁপ দেন, প্রাণপ্রণ লড়ায়ের মধ্যে দিয়ে মাদকের আসামিদের গ্রেপ্তারে তিনি অনড়। জীবনের ঝুকি জেনেও গভীর রাতে গহিরা উপকূলীয় এলাকায় অভিযান চালান এই পুলিশ কর্মকর্তা। তবু মাদক নির্মূলে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কাজ করে যাওয়ার আশ্বাস দি ক্রাইমের এক প্রশ্নে উটে এসেছে তার কাছ হতে।

দি ক্রাইমের একান্ত সাক্ষাৎকারে এএসআই রেজাউল করিম মামুন বলেন, “আনোয়ারায় মাদক চোরাকারবারিরা আড়ালে থেকে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করেন বলে একাধিক সূত্রে জানতে পারলেও ওসি দুলাল মাহমুদ আমাকে যতেষ্ট সাহায্য করেছেন মাদক অভিযানে সফল হতে।  আর এই মাদক নিরসনে প্রায় শতাধিক অভিযানে গিয়ে বুঝেছি আনোয়ারায় কি পরিমাণ মাদক ডুকছে প্রতিদিন। প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ, যুবসমাজ,  যদি এসময়ে জেগে না উঠে তাহলে সে পরিণাম হবে ভয়াবহ । আর আশা করছি সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা সফল হব”

অন্যধিকে সাধারণত মামলা বা কোন অভিযোগ প্রমাণ না থাকায় গডফাদারদের বিরুদ্ধে অপারেশনে যেতে পারছে না থানা পুলিশ। তবে অভিযুক্ত কয়েকজনকে আটক করেছে ইতিমধ্যে। অভিযুক্ত আরো ৩ জন গডফাদারকে ধরতে কাজ করছে থানা পুলিশ। তবে এখনো তারা অভিযুক্ত ৩ জন গডফাদারকে ধরতে পারছে না। এই দিক থেকে থানা পুলিশ অনেকটা ব্যর্থ বলা যায়।
চলতি বছরে অভিযানে ইয়াবা আটক হলেও পার পেয়ে যাচ্ছে বড় বড় অনেক চালান। বড় মাদক ব্যবসায়ীরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে ধরা পড়ছে অন্যরা। আসামীর পরিবর্তে ইয়াবা পাওয়াই আটক হচ্ছে মা বাবা ভাই বোন।

ইয়াবা খেতে না পারাই সম্প্রতি বেশ কয়েকটি ঘর পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ এসেছে মাদকাসক্তদের বিরুদ্ধে। একের পর এক চালান ধরা হচ্ছে উপকূলীয় এলাকায়। বন্ধ হচ্ছে না মাদক ব্যবসা। এই ব্যবসায় বেশ কিছুদিন আগে আনোয়ারা উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান(১০ ট্রাক অস্ত্র মামলার খালাসপাপ্ত) মরিয়ম বেগম ওরফে বদনীর ছেলের কারগাড়িতে ৩১৭ পিছ বিদেশি মদসহ চাতরী চৌমহনী এলাকা হতে গ্রেপ্তার করেন থানা পুলিশ। তার বিরুদ্ধে আরো ১১ মামলা আছেন বলে জানা যায়।

তাই আনোয়ারার সাধারণ মানুষ এই অপরাধীদের শেষ করতে ক্রসফায়ারের দাবী ও জানিয়েছে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেইসবুকে স্থানীয় জনপ্রসাশনমহল। সঠিক গোয়েন্দা রিপোর্ট, অভিযোগ প্রমাণিত হলে এসব মাদক ব্যবসায়ীদের ক্রসফায়ারের আওতায় আনলে আনোয়ারা হতে মাদক নির্মূল হবে ভাবছে অনেকে।