banner

শেষ আপডেট ১৬ অক্টোবর ২০১৮,  ২২:২৪  ||   বুধবার, ১৭ই অক্টোবর ২০১৮ ইং, ২ কার্তিক ১৪২৫

নিখোঁজ হওয়ার ৪৮ঘন্টা পর স্কুলছাত্রী তুহিনের লাশ উদ্ধার

নিখোঁজ হওয়ার ৪৮ঘন্টা পর স্কুলছাত্রী তুহিনের লাশ উদ্ধার

১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ১৯:০২ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • নিখোঁজ হওয়ার ৪৮ঘন্টা পর স্কুলছাত্রী তুহিনের লাশ উদ্ধার
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ হাটহাজারী পৌরসভার ফটিকা গ্রামের শাহজালাল পাড়া এলাকার থেকে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ৪৮ ঘন্টা পর হাটহাজারী গার্লস হাই স্কুল এন্ড কলেজের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী তুহিনের(১৩) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
সূত্রে জানা যায়, গতকাল রোববার ( ১৬সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে ওই এলাকার সালাম ম্যানশন নামে একটি ভবনের চতুর্থ তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে পুলিশ তুহিনের লাশ উদ্ধার করে। সে(তুহিন) ওই ভবনের মালিক উপজেলার গড়দুয়ারা ইউনিয়নের নেয়ামত আলী সারাং বাড়ির আবু তৈয়ব ও ফিরোজা বেগমের কন্যা। সালাম ম্যানসনের ৪র্থ তলা ফ্ল্যাটের ড্রয়িং রুমের সোফা সেটের নিচ থেকে রবিবার  রাত সাড়ে ৮টায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়। তুহিনের পিতামাতা বর্তমানে হজ্ব পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব অবস্থান করছেন। শুক্রবার মাগরিবের নামাজ শেষে নানুর নিচ তলার ফ্ল্যাট থেকে ২য় তলায় শিক্ষকের কাছে পড়তে যায়। কিন্তু এরপর থেকে তাকে আর পাওয়া যায়নি। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রাইভেট শিক্ষক তুহিনকে পড়াতে আসেন। এ সময় ভবনের নিচ তলা থেকে ২য় তলায় পড়তে যাওয়ার কথা থাকলেও সে যায় নি। পরে অনেক খোঁজাখুঁজি করে তাকে পাওয়া যায়নি। ওই দিন সন্ধ্যায় সে নিখোঁজ হওয়ার পর এ ঘটনায় থানায় ডায়েরি করা হয়। এর ঘন্টাখানেক পর সন্দেহজনকভাবে ৪র্থ তলার ভাড়াটিয়া মুন্নাকে তুহিনের মামারা আটক করে থানা পুলিশে সোপর্দ করে।এই মুন্না হাটহাজারী পৌর এলাকার চন্দ্রপুর বানু বাপের বাড়ির(শাহজাহান ডাক্তারের বাড়ি) গ্রাম্য ডাক্তার শাহজাহান সিরাজের পুত্র। সে সালাম ম্যানশনের ৪র্থ তলায় তার পিতামাতার সাথে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছে। এই মুন্নার কাছ থেকে কোন তথ্য না পাওয়ায় তাকে তার পিতামাতার জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুহিনের সন্ধানে পোস্ট দেওয়া হয়।পরিবার ও প্রশাসন সবাই তার সন্ধান করতে থাকে। এমনকি খুনী মুন্না নিজেও তুহিনকে তাদের সাথে খোঁজার ভান করে। সর্বশেষ  ভবনের ৪র্থ তলা থেকে রবিবার সন্ধ্যায় হঠাৎ পঁচা গন্ধ বের হয়। মুন্নার পিতামাতা ও সে ঘর থেকে সটকে পড়ে। খবর দেওয়া হলে পুলিশ হাটহাজারী বাজার এলাকা থেকে মুন্নাকে আটক করে । তার দেওয়া তথ্যানুযায়ী  দরজা খুলে সোফার নিচ থেকে প্লাস্টিকের বস্তা মোড়ানো তুহিনের লাশ উদ্ধার করা হয়। এসময় ভবনের বাইরে হাজারো উৎসুক জনতার ভীড় লেগে যায়। পরে লাশটির সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মময়নাতদন্তেরর জন্য চমেকে প্রেরণ করা হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আসামী থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী পুলিশের এক কর্মকর্তা জানায়, মুন্নার পিতামাতা শুক্রবার ঘরে ছিলনা। সন্ধার সময় সে তুহিনকে ২য় তলা থেকে ৪র্থ তলায় নিয়ে ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে চিৎকার দিলে মুন্না তাকে আঘাত করে। এসময় মুখ এবং গলা চেপে শ্বাসরোধ করে তুহিনকে খুন করে মুন্না। পরে লাশটি সে টেবিলের নিচে লুকিয়ে রাখে।স্থানীয়রা জানায়, মুন্না একজন ইয়াবাসক্ত, বখাটে ও ইয়াবা বিক্রেতা। সে ও তার সঙ্গীরা নিয়মিত ইয়াবা সেবন করে
এদিকে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়ার পরপর রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিক্ষুদ্ধ জনতা চট্টগ্রাম–খাগড়াছড়ি মহাসড়কে হাটহাজারী থানার সামনে ব্যারিকেড দেয় এবং হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবি করে। ফলে দুই পার্বত্য এলাকা চট্টগ্রাম–খাগড়াছড়ি–রাঙামাটি মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এ সময় ওই দুই মহাসড়ক ব্যবহারকারী হাজার হাজার যাত্রী সাধারণ চরম দুর্ভোগে পড়েন। প্রায় ১৫ মিনিট পর হাটহাজারী মডেল থানার ওসি ঘটনাস্থলে গিয়ে হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দিলে তারা(বিক্ষুদ্ধ জনতা) ব্যারিকেড তুলে নেয়। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই আকিব জাবেদ বাদি হয়ে হাটহাজারী মডেল থানায় একটি মামলা রুজু করেছেন।