banner

শেষ আপডেট ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮,  ২৩:১১  ||   মঙ্গলবার, ২৫ই সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং, ১০ আশ্বিন ১৪২৫

মুসলিম হল সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স চট্টগ্রামবাসীর জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহার

মুসলিম হল সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স চট্টগ্রামবাসীর জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহার

১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ১৯:৫০ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • মুসলিম হল সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স  চট্টগ্রামবাসীর জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহার

গ্রুপ থিয়েটার ঐক্য পরিষদ-চট্টগ্রামের আয়োজনে পাঁচ দিনব্যাপী ‘স্মৃতি সত্তায় ভাঙ্গা গড়ার নাট্য উৎসব ২০১৮’ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠান গতকাল আজ বুধবার বিকাল ৫টায় নগরীর স্টুডিও থিয়েটার মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয়। মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বালন ও ‘আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে’ কোরিওগ্রাফির মাধ্যমে কর্মসূচির শুভ সূচনা করেন শ্লোগান সাংস্কৃতিক স্কোয়ার্ড।
বিকাল সাড়ে ৫টায় নাট্য উৎসবের আহ্বায়ক নাট্যজন শেখ শওকত ইকবাল চৌধুরীর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী আলোচনা সভায় উদ্বোধক ছিলেন প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও সমাজবিজ্ঞানী ড. অনুপম সেন। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী লাকী। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সেক্রেটারী জেনারেল কামাল বায়েজিদ। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতিম-লীর সদস্য নাট্যজন মোসলেম উদ্দিন সিকদার লিটন। উৎসব উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব সুচরিত চৌধুরী টিংকুর সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন নাট্যজন শাহ তামরাজ উল আলম ও লালন দাশ।
উদ্বোধক ড. অনুপম সেন বলেন, মুসলিম হলকে চট্টগ্রামের নাট্য ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের চারণক্ষেত্র বলে অভিহিত করলে তিলমাত্র অত্যুক্তি হবে না। তবে দীর্ঘকাল এই মুসলিম হলের পাশাপাশি নাট্যকর্মীদের চর্চার জন্য একসময়ের একমাত্র নির্ভরযোগ্য থিয়েটার হল ‘স্টুডিও থিয়েটার’ চলছিল অনেকটা খুড়িয়ে, জোড়াতালি দিয়ে। দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামের নাট্যকর্মীরা এই হলের সংস্কার দাবি করে এলেও তা পরিপূরণে ষোল আনা উদ্যোগ কার্যকর হয়নি। অতঃপর চট্টগ্রামের এই ঐতিহ্যবাহী হলের প্রতি সদয় হলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে তিনি এই হলগুলোর শুধু সংস্কার নয়, বহুতল ভবন সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স তৈরীর সিদ্ধান্ত গ্রহণপূর্বক জরুরী নির্দেশনা দিয়েছেন। এটি প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে চট্টগ্রামের সর্বস্তরের সংস্কৃতিপ্রেমী জনগোষ্ঠীর জন্য অনুপম ও যুগান্তকারী উপহার। চট্টগ্রামবাসী এজন্য তাঁর কাছে চিরকৃতজ্ঞ থাকবে। তবে এই হল পরিচর্যা ও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বও সকলকে নিতে হবে। মুসলিম হলের নবযাত্রার ইতিহাস সৃষ্টির লগ্নে দাঁড়িয়ে গ্রুপ থিয়েটার ঐক্য পরিষদ ‘স্মৃতি সত্তায় ভাঙ্গা গড়ার নাট্য উৎসব’ শিরোনামে যে অসাধারণ আয়োজন করেছে, তা আমাদের হৃদয়ের মণিকোঠায় বহুদিন অনুরণিত হবে।
প্রধান অতিথি লিয়াকত আলী লাকী বলেন, বহু ইতিহাস সমৃদ্ধ কালের সাক্ষী চট্টগ্রামের মুসলিম হল। এখানকার ইট-পাথরে, মলিন পর্দায়, ধূলো-বালিতে মিশে আছে অনেক স্মৃতি। মিশে আছে বহু গুণীজনের পদধূলি, শিল্পী-নাট্যকর্মীর সুর মূর্ছনা আর সংলাপের মায়া-উৎকর্ষ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সেই অনুভবের সম্মান দিলেন তার কলেবরে নব সৌন্দর্যদানের মধ্য দিয়ে। আমার বিশ্বাস, এতদঞ্চলের নাট্যকর্মী, শিল্পীর প্রাণের প্রণোদনা এতে বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্সের একাধিক মিলনায়তন অবশ্যই যুগপৎ শিল্পচর্চায় এক অভিনব হারমনি সৃষ্টি করবে এখানে। নিটোল ও বুদ্ধিদীপ্ত সংস্কৃতি চর্চায় সবার জন্য বিনোদনের দশ দিগন্ত খুলে যাবে এই নতুন অট্টালিকায়।
বিশেষ অতিথি কামাল বায়েজিদ বলেন, আমরা মঞ্চে সংলাপ উড়িয়ে সমাজ বাস্তবতা জাগাই। সমাজের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, প্রেম-বিরহ বুকে ধারণ করে মুখের অভিব্যক্তি ফুটিয়ে তুলতে যুতসই মঞ্চ, লাইট, ম্যাকআপ, কস্টিউম, সেট অপরিহার্য। তবে সবচেয়ে প্রয়োজন উপস্থাপনযোগ্য হল। মুসলিম হল নবরূপে সেজে উঠবে নাট্যকর্মীদের প্রয়োজনমাফিক। এজন্য সংশ্লিষ্টরা অবশ্যই প্রশংসা পাবার যোগ্য।
সভাপতির ভাষণে শেখ শওকত ইকবাল চৌধুরী বলেন, আমাদের এই আয়োজনের ভেতরে আছে দীর্ঘ সময়ের স্মৃতিময়তা আবার নতুন দিনের হাতছানি। যারা এই উৎসব আয়োজনে ঐকান্তিক ঔদার্য প্রদর্শন করেছেন, তাদের জানাই অশেষ কৃতজ্ঞতা। পাঁচদিনব্যাপী অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামের সকল সংস্কৃতিকর্মীর অংশগ্রহণকে আমরা সমন্বয়ের মাধ্যমে সুনিশ্চিত করার চেষ্টা করেছি। স্মৃতিবিজড়িত মুসলিম হলকে ঘিরে আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে নাট্য উৎসব। সভা শেষে কাজী নজরুল ইসলামের গল্প অবলম্বনে চট্টল থিয়েটারের প্রযোজনায় শেখ শওকত ইকবাল চৌধুরী নির্দেশিত নাটক ‘রাক্ষসী’ মঞ্চস্থ হয়।
এছাড়া আজ ১৩ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার বিকেল ৫ টায় আলোচনা সভা। থিয়েটার সন্দীপনা পরিবেশনায় মঞ্চস্থ হবে ‘বিয়ে বিয়ে খেলা’, সন্ধ্যা পৌনে সাতটায় আসর নাট্য সম্প্রদায় পরিবেশনায় ‘এই কি স্বাধীনতা ’। ১৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সকাল ১০ টায় উচ্চারণ নাট্য সম্প্রদায় পরিবেশনায় ‘আর একটি যুদ্ধ’, সকাল ১১ টায় থিয়েটার স্লোগান পরিবেশনায় ‘একাত্তরের রামদাস ’, বিকেল ৫টায় স্মৃতি চারণ, সম্মিলিত আবৃত্তি পরিষদ এর পরিবেশনায় ‘বৃন্দ আবৃত্তি’, নাটক থেকে পাঠ কালপুরুষ নাট্য সম্প্রদায় পরিবেশনা ‘বিনোদ’, নাটক থেকে পাঠ নান্দিমুখ এর পরিবেশনায় ‘তবুও মানুষ ’, সন্ধ্যা পৌনে সাতটায় নান্দিকার পরিবেশনা মঞ্চস্থ হবে ‘কোর্ট মার্শাল’, চট্টগ্রাম থিয়েটার পরিবেশনায় ‘চাটগাইয়া নওজোয়ান’। ১৫ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫ টায় আলোচনা সভা, সম্মিলিত আবৃত্তি জোট এর পরিবেশনায় ‘বৃন্দ আবৃত্তি’, সন্ধ্যা পৌনে সাতটায় মঞ্চ মুকুট নাট্য সম্প্রদায় পরিবেশনায় ‘লেখা পাড় করে যে ’ নাট্য ধারা পরিবেশনায় ‘ ৩২ ধানমন্ডি এবং ….’. ১৬ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টায় আলোচনা সভা, নাট্যকর্মী সম্মিলন, নাটক থেকে পাঠ অরিন্দম নাট্য সম্প্রদায় পরিবেশনায় ‘রাইফেল’, সন্ধ্যা পৌনে সাতটায় কথক নাট্যসম্প্রদায় পরিবেশনায় ‘জীবন যাপন’, অনন্য থিয়েটার পরিবেশনায় ‘ভূত’ মঞ্চস্থ হবে। স্মৃতিবিজড়িত মুসলিম হলকে ঘিরে আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই নাট্য উৎসবে সবার উপস্থিতি কামনা করেছেন উৎসব উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব সুচরিত চৌধুরী টিংকু।