banner

শেষ আপডেট ১৪ নভেম্বর ২০১৮,  ১১:৩৩  ||   বুধবার, ১৪ই নভেম্বর ২০১৮ ইং, ৩০ কার্তিক ১৪২৫

জাতির জনক

জাতির জনক

১৬ অগাস্ট ২০১৮ | ২০:৩৮ |    নিজস্ব প্রতিবেদক

সেলিম আকতার পিয়াল :  ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস। জাতির জনক, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, বঙ্গবন্ধুকে স্ব পরিবারে হত্যা করা হয় ১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্ট। যখন এই কলংকজনক ঘটনা ঘটে, তখন কলকাতার লেখক অন্নদাশংকর রায় টেলিফোনে তার বন্ধু বিখ্যাত কথা সাহিত্যিক মনোজ বসুকে বলেন, “আসুন, আমরা দুজনে বসে কাঁদি”। উনার কান্না পেয়েছিল। আর বাংলাদেশের মানুষ স্তম্ভিত ও হতবাক হয়ে গিয়েছিল। আমি সম্মান ও শ্রদ্ধার সাথে জাতির পিতা সহ সেদিনের নিহত সকলের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। আজ আমরা সকল বাঙ্গালী পিতৃহীন। বঙ্গবন্ধু ‘জয় বাংলা’ দিয়ে বাঙ্গালী জাতিকে একসূত্রে গেঁথেছিলেন। আর এই কারণে হয়তোবা বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন-“কোনো জেল জুলুমই কোনোদিন আমাকে টলাতে পারেনি, কিন্তু মানুষের ভালবাসা আমাকে বিব্রত করে তুলেছে”।
টুংগীপাড়ার শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৩৮ সাল থেকে রাজনীতির খোলা প্রাঙ্গণে এলেন। তখন থেকে শেষদিন (১৫ আগস্ট ১৯৭৫ সাল) পর্যন্ত এক ঠাঁয়, এক চিন্তা ও এক স্বপ্নের মধ্যেই স্থির থাকলেন। যত চিন্তা, স্বপ্ন, সংকল্প, সাধনা সবই তাঁর বাংলা আর বাঙ্গালির জন্যই। নেলসন ম্যান্ডেলা যেমন দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য সর্বকালের বন্ধু, শেখ মুজিব তেমনি চিরকালের জন্য বাংলার বন্ধু। যখনই এই বাংলা তাঁর মুখে, তখনই তিনি সূর্যের মত দিপ্ত, আকাশের মত নীল আর চাঁদের মত স্নিগ্ধ। তাঁর হৃদয়ের সবখান জুড়ে ছিল কেবল বাংলার জন্যই ভালবাসা। তিনি দাঁড়ালেন বলেই, আমরা বাঙ্গালীরা দাঁড়ালাম। ঁিতনি ভালবাসা শিখালেন বলেই আমরা বাংলার জন্য জীবন দিলাম, এবং পেলাম আজকের এই বাংলাদেশ।
বাংলার ইতিহাসে অনিবার্য একটি নাম জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ৫৮ এর সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলন, ‘৬২ এর শিক্ষা সাংস্কৃতিক আন্দোলন, ‘৬৬ এর ছয় দফা, ‘৬৯ এর-গণ-অভ্যুত্থান, ‘৭০ এর নির্বাচন, ‘৭১ এর ৭ মার্চে ভাষণ সহ স্বাধীনতার ঘোষণা পত্র প্রেরণ ও মুক্তিযুদ্ধ প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে তিনি এই জাতিকে নেতৃত্ব দেন। তিনি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের প্রতীক, স্বাধীনতার প্রতীক, সাহস ও শৌর্যের প্রতীক।
এই কারণে কবি অন্নদাশঙ্কর রায় বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লিখেছিলেন-
যতদিন রবে পদ্মা মেঘনা
গৌরি যমুনা বহমান
ততদিন রবে কীর্তি তোমার
শেখ মুজিবুর রহমান
দিকে দিকে আজ অশ্র“গঙ্গা
রক্তগঙ্গা বহমান
নাই নাই ভয় হবে হবে জয়
জয় মুজিবুর রহমান।
শুধু এই বাংলার কবি বা লেখকরা নয় বরং চিত্রশিল্পী, সংঙ্গীত শিল্পী থেকে শুরু করে সকলেই ব্যথিত চিত্তে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে যুগে যুগে শিল্পকর্ম রচনা করে চলেছেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর দুঃখদায়ক নির্মম হত্যাকান্ডের পরে “ শেখ মুজিবুর রহমান স্মরণে” নামক কবিতায় কবি অন্নদাশংকর রায় উচ্চারণ করেছিলেন-
“নরহত্যা মহাপাপ
তার চেয়ে পাপ আরো বড়ো
করে যদি তাঁর
পুত্রসম বিশ্বাসভাজন
জাতির জনক যিনি
অতর্কিতে তাঁরেই নিধন
নিধন সবংশে হলে
সেই পাপ আরো গুরুতর”।
কবি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ তার “আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি” কবিতায় বলছেন-
“ আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি
আমি-আমার পূর্ব পুরুষের কথা বলছি
তাঁর করতলে পলিমাটির সৌরভ ছিল
তাঁর পিঠে রক্তজবার মতো ক্ষত ছিল
তিনি অতিক্রান্ত পাহাড়ের কথা বলতেন
অরণ্য এবং শ্বাপদের কথা বলতেন
পতিত জমি আবাদের কথা বলতেন
তিনি কবি ও কবিতার কথা বলতেন”।
কবি নির্মলেন্দু গুন” আমি আজ কারো রক্ত চাইতে আসিনি” কবিতায় বলেছিলেন-
সমবেত সকলের মতো
আমিও গোলাপ ফুল খুব ভালোবাসি
রেসকোর্স পার হয়ে যেতে যেতে
সেইসব গোলাপের একটি গোলাপ
গতকাল আমাকে বলেছে,
আমি যেন কবিতায়
শেখ মুজিবের কথা বলি।
শুধু তাই নয় বঙ্গবন্ধুর স্বপরিবারে হত্যাকান্ডকে তিনি মেনে নিতে পারেন নি কখনো। আর এই কারণেই এই একই কবিতায় কবির আরো দৃঢ় উচ্চারণ ছিল-
“শত বছরে শত সংগ্রাম শেষে
রবীন্দ্রনাথের মত দৃপ্ত পায়ে হেঁটে
অতঃপর কবি এসে জনতার মঞ্চে দাঁড়ালেন।
তখন পলকে দারুণ ঝলকে উঠিল জল,
হৃদয়ে লাগিল দোলা
জনসমুদ্রে জাগিল জোয়ার
সকল দুয়ার খোলা
কে রোধে তাঁহার বজ্রকণ্ঠ বাণী?
গণসূর্যের মঞ্চ কাঁপিয়ে
কবি শোনালেন তাঁর অমর কবিতাখানি:
‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম,
এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।।”
তখনই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জাতির জনক রূপের অবগুন্ঠন খুলছে ধীরে ধীরে। সেই থেকে স্বাধীণতা শব্দটি আমাদের। কবি মহোদেব সাহার লেখা“শেখ মুজিব আমার নতুন কবিতা”শীর্ষক কবিতায় আমরা শুনি-
“আমি আমার সমস্ত কবিত্ব শক্তি উজাড় করে
যে কবিতা লিখেছি
তার নাম শেখ মুজিব,
এই মুহুর্তে আর কোন নতুন কবিতা
লিখতে পারবো না আমি
কিন্তু এই যে প্রতিদিন
বাংলার প্রকৃতিতে ফুটছে নতুন ফুল
শাপলা-পদ্ম-গোলাপ
সেই গোলাপের বুক জুড়ে
ফুটে আছে মুজিবের মুখ”
এইভাবেই বহু কবির কবিতায় জাতির জনক বার বার উঠে এসেছেন। এবং আসবেনও যুগে যুগে।
তিনি কখনোই বইয়ের পাতা থেকে কিছুই আহরণ করতে যাননি, কিংবা একান্ত মৌলিক বা অভিনব কোনো রাষ্ট্রচিন্তা দিয়ে পৃথিবীকে চমকে দিতেও চাননি। ১৯৭১ সালের ৫ এপ্রিল তারিখে ঘবংি ডববশ পত্রিকায় সংবাদভাষ্যকারের নিন্মোক্ত মন্তব্যটি মুজিবের রাষ্ট্রচিন্তার স্বরূপটিকে সঠিকভাবেই অনাবৃত করেছে বলা যেতে পারে। মন্তব্যটি হলো- “সঁলঁন ফড়বং হড়ঃ ঢ়ৎবঃবহফ ঃড় নব ধহ ড়ৎরমরহধষ ঃযরহশবৎ. ঐব রং ধ ঢ়ড়বঃ ড়ভ ঢ়ড়ষরঃরপং হড়ঃ ধহ বহমরহববৎ. নঁঃ ঃযব ইবহমধষরং ঃবসফ ঃড় নব সড়ৎব ধৎঃরংঃরপ ঃযধহ ঃবপযহরপধষ, ধহু যড়,ি ধহফ ঃযরং ংঃুষব সধু নব লঁংঃ যিধঃ ধিং হববফবফ ঃড় ঁহরঃব ধষষ ঃযব পষধংংবং ধহফ রফবড়ষড়মরবং ড়ভ ঃযব ৎবমরড়হ-।” যার বঙ্গনুবাদ করলে দাড়ায় “মুজিব মৌলিক চিন্তার অধিকারী বলে ভান করেননি। তিনি একজন রাজনীতির কবি, প্রকৌশলী নন। শিল্পকৌশলের প্রতি উৎসাহের পরিবর্তে শিল্পকলার প্রতি ঝোঁক বাঙ্গালিদের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক। কাজেই সকল শ্রেণী ও আদর্শের অনুসারীদের একতাবদ্ধ করার জন্য তাঁর ‘স্টাইল’ বা পদ্ধতি সবচেয়ে বেশি উপযোগী ছিল।”-
স্বদেশেপ্রেম একটি মহৎ আবেগের নাম, আবেগহীন মানুষ স্বদেশপ্রেমিক হতে পারে না। শেখ মুজিবের সেই আবেগ প্রচুর এবং প্রবলই ছিল। কিন্তু আবেগের তোড়ে ভেসে গিয়ে শুধু স্বদেশপ্রেম কেন, কোনো প্রেমেরই সফল ও কাক্সিক্ষত পরিণতি দেওয়া যায় না। আবেগের ওপর কান্ডজ্ঞানের নিয়ন্ত্রণ চাই। শেখ মুজিবের ছিল সেই সবল কান্ডজ্ঞান। কান্ডজ্ঞান-নিয়ন্ত্রিত স্বদেশপ্রেমই মুজিবের রাষ্ট্রচিন্তাকে ধাপে ধাপে পরিপক্ক করে তুলেছে, তাঁকে বঙ্গবন্ধু বানিয়েছে।
শেখ মুজিবুর রহমান থেকে বঙ্গবন্ধু ও জাতির জনক হতে তাকে কেউ তরান্বিত করেন নি। বাংলা ও বাঙ্গালীদের প্রতি ভালবাসা  তাকে জাতির জনকের আসনে বসিয়েছে বাঙ্গালীরাই।
স্বদেশপ্রেমের আবেগেই তিনি প্রথম যৌবনে পাকিস্তান আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন।  কিন্তু পাকিস্তান-প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁর সঠিক ও সবল কান্ডজ্ঞানের কারণে পাকিস্তানের প্রতারণাটি তিনি ধরে ফেলতে পেরেছিলেন। স্বদেশপ্রেম মানেই তো স্বদেশের মাটি, মানুষ, ভাষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য সহ সবকিছুর প্রতিই প্রেম ও ভালবাসা। আর এ সবের প্রতি সংগ্রামী ও একনিষ্ঠ দৃষ্টিপাতেই তিনি উপলদ্ধি করে ফেললেন যে পাকিস্তানের মতো একটি অদ্ভুত ও কৃত্রিম রাষ্ট্রের থাবা থেকে স্বদেশকে মুক্ত করতে না পারলে তাঁর মাতৃভূমির মুক্তিলাভ ঘটবে না। ’৪৮ সালে যখন বাঙ্গালির ভাষার ওপর আঘাত এলো, তখন  থেকেই বিষয়টি তাঁর চেতনাকে আলোড়িত করতে শুরু করেছিল।
শেখ মুজিবুর রহমান নামের মানুষটি আবাল্য রাষ্ট্র ও রাজনীতি নিয়েই ভাবনাচিন্তা করেছেন। শুধু অলস ভাবনাচিন্তা নয়, প্রচন্ড সক্রিয়তা নিয়ে নিজের সমগ্র সত্ত্বাকে দেশের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত করে দিয়েছেন। সেই রাজনীতি নিয়ে গেছে ত্যাগের পথে, দুঃখ বরণের পথে। দুঃখ তাঁকে বিচলিত করতে পারেনি, দেশের দুঃখ বরণের ব্রত তাঁর নিজের দুঃখকে তুচ্ছ করে দিয়েছে। রাজনৈতিক সংগ্রাম করে করেই তাঁর দেশকে তিনি স্বাধীনতার উপল উপকূলে পৌঁছিয়ে দিয়েছেন। একটি স্বাধীন  রাষ্ট্রের জাতির জনক ও স্থপতি হয়েছেন এবং সেই স্বাধীন রাষ্ট্রটিকে আধুনিক ও প্রগতিশীল করে তোলার জন্য নীতিমালা প্রণয়ন করেছেন তিনি, দিয়েছেন আত্মবিসর্জন। এই যে একটি নতুন রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা দান, রাষ্ট্রটির জন্য নীতিমালা প্রনয়ণ সহ প্রয়োগ-পদ্ধতি নির্ধারণ, এর পেছনে ক্রিয়াশীল ছিল বঙ্গবন্ধু -রাষ্ট্রচিন্তা। এর উৎস বা এক কথায় এর দ্ব্যর্থহীন জবাব-‘স্বদেশপ্রেম’। মুজিবের ছিল খাঁটি, নির্ভেজাল, নিরঙ্কুশ ও আপসহীন স্বদেশপ্রেম।
১৯৭২ সালেই খোন্দকার মোহাম্মদ ইলিয়াসের ‘কতিপয় প্রশ্নের জবাবে’ নিজের চিন্তা সম্পর্কে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন,-“ছাত্রজীবন থেকে আজ পর্যন্ত আমার এই সুদীর্ঘ কালের রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা ও সংগ্রাম কতিপয় চিন্তাধারার উপর গড়ে উঠেছে। এদেশের কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র, মধ্যবিত্ত বুদ্ধিজীবী তথা সকল মেহনতী মানুষের জীবনে শান্তি, সমৃদ্ধি ও সাম্য প্রতিষ্ঠাই আমার চিন্তাধারার মূল বিষয়বস্তু। একটি মধ্যবিত্ত পরিবারে আমার জন্ম। কাজেই কৃষকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থেকে আমি দেখেছি শোষণ কাকে বলে। এদেশে যুগ যুগ ধরে শোষিত হয়েছে বুদ্ধিজীবীসহ সকল মেহনতী মানুষ। শোষণ চলেছে ফড়িয়া ব্যবসায়ী ও পুঁজিবাদের। শোষণ চলেছে সাম্রাজ্যবাদ,  উপনিবেশবাদ ও নয়া-উপনিবেশবাদের। এ দেশের সোনার মানুষ, এদেশের মাটির মানুষ শোষণে শোষণে একেবারে দিশেহারা হয়ে অসহায় হয়ে পড়েছে। কিন্তু তাদের মুক্তির পথ কী? এই প্রশ্ন আমাকেও দিশেহারা করে ফেলে। পরে আমি পথের সন্ধান পাই। আমার কোনো কোনো সহযোগী রাজনৈতিক দল ও প্রগতিশীল বন্ধুবান্ধব বলেন- শ্রেণীসংগ্রামের কথা। কিন্তু আমি বলি- জাতীয়তাবাদের কথা। জিন্নাহবাদ এদেশের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়েছে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প। তার জবাবে আমি বলি- যার ধর্ম তার তার-এরই ভিত্তিতে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের কথা। শোষণহীন সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায়- সমাজতন্ত্র চাই। কিন্তু রক্তপাত ঘটিয়ে নয়-গণতান্ত্রিক পন্থায়, সংসদীয় বিধিবিধানের মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠা করতে চাই সমাজতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা। আমার এ মতবাদ বাংলাদেশের বাস্তব অবস্থা ও ঐতিহাসিক পরিস্থিতি বিচার-বিশ্লেষণ করেই দাঁড় করিয়েছি। সোভিয়েত ইউনিয়ন, চীন, যুগোশ্লোভিয়া প্রত্যেকে নিজ নিজ পথে, নিজ নিজ অবস্থান মোতাবেক গড়ে তুলেছে নিজস্ব সমাজতন্ত্র। আমি মনে করি বাংলাদেশকেও অগ্রসর হতে হবে জাতীয়বাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র এই চারটি মূলসূত্র ধরে, বাংলাদেশের নিজস্ব পথ ধরে।”
১৯৭৪ সালে আওয়ামীলীগের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে দেওয়া এক ভাষণে তিনি দলত্যাগীদের ব্যাপারে দৃঢ় কন্ঠের উচ্চারণ করেছিলেন – “কিছু কিছু লোক আওয়ামী লীগ ত্যাগ করে চলে গেল। ভালই হল। আবর্জনা যতই যায়, ততই মঙ্গল। কয়েকবারই এরকম হয়েছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের কোন ক্ষতি হয় না। যাদের আদর্শ নাই, যাদের নীতি নাই, যারা দুর্নীতিবাজ, যারা দেশকে ভালবাসেন নাা, তারা যদি প্রতিষ্ঠান থেকে বের হয়ে যায়; তাতে প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয় না; প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী হয়। তাই ভবিষ্যৎতেও এ ধরনের লোক প্রতিষ্ঠান থেকে বের  করে দিয়ে আওয়ামী লীগকে আপনাদের আরো শক্তিশালী করতে হবে”। ঐ একই সম্মলনে ধর্ম নিয়েও তার স্পষ্ট উক্তি ছিল “যে মানুষকে ভালবাসে, সে কোনদিন সাম্প্রাদায়িক হতে পারে না। আপনারা যাঁরা এখানে আছেন- তাঁরা জানেন যে, “খোদা যিনি আছেন, তিনি রাব্বুল আলামিন, রাব্বুল মুসলেমিন নন”। হিন্দু হোক, খ্রিস্টান হোক, মুসলমান হোক, বৌদ্ধ হোক- সমস্ত মানুষ তার কাছে সমান”।
বস্তুুত জাতির জনকের দীর্ঘ সংগ্রামের কাহিনী নিয়ে শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি পরিবেশিত ও রচিত হয়েছে। তাঁর দেশপ্রেম তর্কাতীত। তিনি ১৯৭২ থেকে দেশের উন্নয়নে সাধ্যানুযায়ী চেষ্টা করেছেন। তাঁর শাসনকালে সংবিধান প্রণীত হয়েছে। ৭৫ এর নিমর্ম হত্যাকান্ডের পরও সেই ভয়াবহ দুঃসময়ে বাংলার মানুষের জাতির পিতার প্রতি অকৃপণ ভালোবাসা প্রদর্শন থেমে থাকেনি। মানুষ উজ্জীবিত হয়েছে তাঁর নামে বার বার, এখনও হচ্ছে, এবং আগামীতেও হবে। সেই পাশবিক নৃশংসতায় আমাদের প্রাণপুরুষ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বাংলা ও বাঙ্গালীর কর্ণধারাকে হারিয়েছি আমরা। তাই আজও বাঙ্গালীর কাছে শোষিত জনতার নেতা নাম শেখ মুজিবুর রহমান। প্রতিটি আন্দোলনে আজও বাঙ্গালীর পথপ্রদর্শক বঙ্গবন্ধু, এবং এই কারণে আজীবন বাঙ্গালীর জাতির একমাত্র জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
বাংলার সংস্কৃতি মাটি ও মানুষকে তিনি এতই ভালবাসতেন যে, হোটেল পূর্র্বাণীতে ১৯৭০ সালের ৩১ ডিসেম্বর তার দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন-
যে সংস্কৃতির সাথে দেশের মাটি ও মনের সম্পর্ক নেই
তা বেশিদিন টিকে থাকতে পারে না।
আজ বাংলা ভাষা আছে। বাঙ্গালী আছে। বাংলাদেশ আছে। শুধু তুমি নেই-
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান