banner

শেষ আপডেট ১৪ নভেম্বর ২০১৮,  ১১:৩৩  ||   বুধবার, ১৪ই নভেম্বর ২০১৮ ইং, ৩০ কার্তিক ১৪২৫

ঈদ-উল-আজহাকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম রেল স্টেশনে সক্রিয় টিকেট কলোবাজারী চক্র

ঈদ-উল-আজহাকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম রেল স্টেশনে সক্রিয় টিকেট কলোবাজারী চক্র

১২ অগাস্ট ২০১৮ | ১৮:০৬ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ঈদ-উল-আজহাকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম রেল স্টেশনে সক্রিয় টিকেট কলোবাজারী চক্র
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ঈদ-উল-আজহাকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম রেলের বুকিং কাউন্টারে আবারো টিকেট কালোবাজারী চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ঈদে ঘর মূখো মানুষের যাত্রাকে পুঁজি করে একাধিক টিকেট কালোবাজারি সিন্ডিকেট সাধারন যাত্রীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে দ্বিগুন টাকা। রেলষ্টেশনে বুকিং ক্লার্ক ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী(আরএনবি)এর কিছু অসাধু সদস্যদের হাত থেকেই কালোবাজারিদের হাতে যাচ্ছে ট্রেনের টিকেট। কালোজাজারিদের অপতৎপরতার কারণে যাত্রীরা ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাড়িয়ে থেকে ও টিকেট না পেয়ে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছে। কাউন্টারে টিকেট না পেয়ে চড়া দামে কারোবাজারিদের কাছ থেকে কিনতে হচ্ছে ট্রেনের টিকেট। গত ৯ জুলাই রাতে বিভিন্ন ট্রেনের ২৬৭ আসনের ১৮৭টি টিকেট সহ দুই কালোবাজারিকে গ্রেফতার পর বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর এসব তথ্য। গ্রেফতারকৃতরা গোয়েন্দা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে টিকেট কালোবাজারীতে অন্তত ১২ থেকে ১৫ জন আরএনবি সদস্য ও বুকিং ক্লার্ক জড়িত থাকার তথ্য দিয়েছে। আটক টিকেট কালোবাজারীদের দেয়া তথ্য সটিক আছে কিনা তা যাচাই-বাচাই করছেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। এর আগে ও নগর গোয়েন্দা পুলিশ সহ অপর একটি গোয়েন্দা সংস্থা ট্রেনের টিকেট কলোবাজারীর তালিকা তৈরী করেছিল। এতে একাধিক বুকিং ক্লার্ক ও আরএনবি সদস্যেও নাম উঠে আছে। এসমস্ত অভিযোগের পর ও তাদেও কেউ কেউ এখনো বহাল তরবিয়তে আছে চট্টগ্রাম রেল ষ্টেশনে।
নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার অলক বিশ^াস দি ক্রাইমকে জানান গত ৯ জুলাই রাতে নগরীর কাজির দেউরি এলাকার গোলাম হোসেন এন্ড সন্স নামে একটি ডেকোরেটার্স এর দোকানে অভিযান চালিয়ে রুস্তম আলী ওরফে জাহাঙ্গীর(৪৫) ও মাহাবুবুল হক(৪৪)নামে দুই জনকে ২৬৭ টি আসনের ১৮৭ টি টিকিট সহ গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছে টিকেট কালোবাজারীতে মো. হেলাল চট্টগ্রাম রেল ষ্টেশনের সাদেক, মিজান ও সাইমন সহ অরো কয়েকজন জড়িত রয়েছে। তারা ষ্টেশনের টিকেট বুকিং ক্লার্ক এবং আরএনবির কিছু সদস্যদের মাধ্যমে এসব টিকেট সংগ্রহ করে থাকে। তিনি বলেন অভিযোগের সত্যতা পেলে তাদেও বিরুদ্ধে ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
চট্টগ্রাম রেল ষ্টেশন সূত্র জানায় নিয়ম অনুযায়ী ১০ দিন আগে থেকে কাউন্টারে ট্রেনের অগ্রিম টিকেট দেয়া হয়। তবে এসময় কাউন্টারে গিয়ে যাত্রীরা টিকেট পান না বলে অভিযোগ রয়েছে। কাউন্টার থেকে বলা হয় টিকেট বিক্রি হয়ে গেছে। অতচ কাউন্টারে টিকেট পাওয়া না গেলেও আরএনবি সদস্য, ষ্টেশন সংলগ্ন রিয়াজ উদ্দিন বাজার, নিউ মার্কেট, পুরান গীর্জা এলাকার কিছু হোটেল ও দোকানে দ্বিগুন দামে সবসময় ঠিকেটি মিলে। বুকিং ক্লার্ক থেকে এসব টিকেট ও দোকান ও হোটেল গুলোতে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে যাওয়া ট্রেনের মধ্যে ঢাকাগামী সুবর্ণ এক্সপ্রে, সোনার বাংলা, মহানগর গোধুলী, তূর্ণা নিশিতা, প্রভাতী, সিলেট গামী পাহাড়িকা, উদয়ন, চাদঁপুরগামী মেঘনা এক্সপ্রেসের টিকেটের চাহিদা যাত্রীদেও কাছে বেশী।
চট্টগ্রাম স্টেশনের ম্যানেজার আবুল কালাম আজাদ দি ক্রাইমকে বলেন, গত বুধবার থেকে রেলের আগাম টিকেট বিক্রি শওরু হয়েছে। রাত থেকে সকাল পর্যন্ত লাইনে দাড়িয়ে শুয়ে- বসে অপেক্ষা কওে অনেকে টিকেট সংগ্রহ করছেণ। প্লাট ফর্মে আগাম টিকিটের দ্বিতীয় দিন চট্টগ্রাম থেকে বিভিন্ন গন্তব্যের ৯টি আন্তঃনগর ট্রেন, একটি এক্সপ্রেস ট্রেন ও চট্টগ্রাম-চাঁদপুর রুটের এক জোড়া স্পেশাল ট্রেনের মোট ৮ হাজার ৯৯৩টি টিকিট রয়েছে। স্পেশাল ছাড়া বাকি ট্রেনগুলো হচ্ছে-সুবর্ণ, তূর্ণা, মহানগর, সোনার বাংলা, মেঘনা, পাহাড়ীকা, গোধূলী, উদয়ন, চট্টলা ও বিজয়।
এসব টিকিটের মধ্যে কাউন্টারে বিক্রির জন্য রাখা হয়েছে ৬ হাজার ৭২৫টি। অনলাইনে বিক্রি হচ্ছে ২৫ শতাংশ। ভিআইপি ও রেলওয়ের কর্মীদের জন্য ৫ শতাংশ করে মোট ১০ শতাংশ সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। অতিরিক্ত কোচ (বগি) রাখা হয়েছে ১৫টি।
তিনি জানান, টিকিট কালোবাজারি রোধে রেলওয়ের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী ছাড়াও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছে। গত বুধবার বিক্রি হয়েছে ১৭ আগস্টের টিকিট। ১০ থেকে ১২ আগস্ট বিক্রি হচ্ছে ১৯ থেকে ২১ আগস্টের টিকিট। একজন সর্বোচ্চ ৪টি টিকিট কিনতে পারছেন। সুবর্ণ ও সোনার বাংলা ট্র্রেনে আসনবিহীন টিকিট ইস্যু হবে না। অন্য ট্রেন গুলোতে যাত্রার দিন আসনবিহীন টিকিট পাওয়া যাবে।
টিকিট কিনতে আসা ওয়ান ব্যাংক কর্মকর্তা নাঈমুর রহমান বলেন, সবাই ঈদের ছুটির সঙ্গে মিলিয়ে টিকিট কিনতে চাইছেন। তাই আগাম টিকিটের জন্য ক্রমে ভিড় বাড়ছে। ঈদযাত্রায় ট্রেনের টিকিট পাওয়ার আনন্দ বলে বোঝাতে পারবো না।