banner

শেষ আপডেট ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮,  ২৩:১১  ||   মঙ্গলবার, ২৫ই সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং, ১০ আশ্বিন ১৪২৫

কোরবানের ঈদকে সামনে রেখে চট্টগ্রামে উত্তপ্ত মসলার বাজার

কোরবানের ঈদকে সামনে রেখে চট্টগ্রামে উত্তপ্ত মসলার বাজার

১২ অগাস্ট ২০১৮ | ১৮:০৪ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • কোরবানের ঈদকে সামনে রেখে চট্টগ্রামে উত্তপ্ত মসলার বাজার
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ আর কয়েকদিন পরেই ঈদ-উল-আযহা। কোরবানির ঈদ মানেই মাংসে রকমারি মশলায় পসরা। তাই স্বাভাবিকভাবেই কোরবান আসলে অন্যান্য সময়ের তুলনায় রান্নায় মশলার ব্যবহারটা থাকে বেশি। আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়েই বন্দরনগরী চট্টগ্রামে ঈদের আগেই উত্তপ্ত মশলার বাজার। এদিকে কোরবাণকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে বেড়েছে মসলা আমদানি। তবে আর্ন্তজাতিক বাজারে দামের অস্থিরতা এবং গুটি কয়েক আমদানী কারকের হাতে মসলার বাজার কুক্ষিগত থাকায় কোরবানীর ঈদের প্রয়োজনীয় বেশীর ভাগ মসলার দামই গত বছরের চেয়ে এ বারে বেড়ে গেছে।
চট্টগ্রামে মসল্লার বৃহত্তর পাইকারী বাজার চাক্তাই,খাতুনগঞ্জ, কোরবানীগঞ্জ, বক্সিরহাট ঘুরে দেখা গেছে,  প্রতি কেজি এলাচ পাইকারীতে বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৬শ থেকে ২ হাজার টাকায়, জিরা প্রতি কেজি ৩১৮-৩৫০ টাকায়, লবঙ্গ ৯৫০ টাকায়, আর দারুচিনি বিক্রি হচ্ছে ২শ ৬০ টাকায়। গুলমরিচ বিক্রি হচ্ছে ৬শত টাকায়। পেঁয়াজ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫২ টাকা কেজি দরে যা আগের সপ্তাহের চেয়ে কিছুটা বেশি। এলাচ আর জিরার দাম কিছুটা বাড়লেও অন্যান্য মসলার দাম তেমন বাড়েনি বলে জানান বিক্রেতারা।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, আমদানি করা রসুনের চাহিদাই বেশি। বর্তমানে এ ধরনের রসুন পাইকারীতে ১২০-১৩০টাকা এবং দেশি রসুন ১০০ টাকা থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এক মাসের ব্যবধানে কেজিতে প্রায় ৪০ টাকা বেড়েছে রসুনের দাম। এছাড়া গুঁড়ো মসলার মধ্যে হলুদ প্রতি কেজি ২০০-২২০, মরিচ ১৫০-২০০, ধনে ১৮০-২২০ টাকা এবং তেজপাতা ১৭০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আদা বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকায়।
চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ আড়তদার-কল্যান সমিতির সভাপতি সোলায়মান বাদশা দি ক্রাইমকে জানান, ‘ঈদ সামনে রেখে ব্যবসায়ীদের প্রস্তুতি আরো আগেই শুরু হয়ে গেছে। কারণ, মসলার বাজার অনেকটাই আমদানি নির্ভর। সেক্ষেত্রে এলসি সংক্রান্ত প্রক্রিয়া আগে থেকেই শুরু করতে হয়।’ তবে মসলার বাজার এখন অনেকটাই ভারত নির্ভর। বর্তমানে পাইকারী বাজারে প্রতি কেজি এলাচ ১ হাজার ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অতচ গত বছর বিক্রি হয়েছিল ১০০০-১১০০টাকায়। গত বছরের তুলনায় এ বছর একটু বেশী।
তিনি বলেন, ‘কোরবানির ঈদে মসলার চাহিদা বাড়ার কারণে আমদানি ও সরবরাহ বাড়াতে হয়। এ কারণে অনেক সময় বাড়তি দামেও এসব পণ্য আমদানি করতে হয়। এবারো চাহিদার দিকে লক্ষ রেখে আমদানি হচ্ছে। ঘাটতির কোনো আশঙ্কা নেই।’
খাতুনগঞ্জের বিক্রেতা মো. জামাল হোসেন দি ক্রইমকে বলেন, বন্যার কারণে বাজারে মশলার ঘাটতি রয়েছে। মূলত ঈদ নয়, দেশে চলমান বন্যা, অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে মশলার দাম বেড়েছে। তিনি জানান দেশে মসলার উপর আমদানি শুল্ক৬৫-৭০ শতাংশ যা ভারতের ১৫-২০ শতাংশ। এ কারণে মসলা ভারত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। দু’একটি ছাড়া প্রায় সব মসলা পন্যের দাম গত বছরের ছেয়ে এবছর বেশী। বর্তমানে এলাচ ৪০০-৫০০টাকা বাড়তি দরে বিক্রি হচ্ছে। গুল মরিচের দাম একটু কম আছে।
আয়েশা বেগম নামের এক ক্রেতা বলেন, ঈদ আসতে আর খুব বেশি সময় বাকি নেই। তাই ঈদের আগেই মশলার কেনাকাটা শেষ করতে বাজারে আসা। তিনি আরো বলেন, এখন মশলার কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আছে। কিন্তু ঈদের কয়েকদিন আগে মশলার দোকানের সামনেও আসা যায় না।
তবে মসলার দাম নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কেউ কেউ অভিযোগ করলেও অনেকে বলছেন দাম অনেকটা সহনীয়। ঈদের আর অল্প কিছুদিন বাকি। সামনের দিনগুলোতে যথাযথ নজরদারি থাকলে বাজার স্বাভাবিক থাকবে বলে আশা ক্রেতা-বিক্রেতার।
চট্টগ্রাম কাষ্টমস সূত্রে জানাগেছে চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিন মাসে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে দশ রকমের মসলা জাতীয় পন্য এসেছে ৫৬ হাজার ৬০৭ মেট্রিকটন। যার আনুমানিক মূল্য ৫৪৭ কোটি টাকা। মসলা চট্টগ্রাম কাষ্টমসের রাজস্ব আয় হয়েছে ১৪৮ কোট টাকা। আমদানিকৃত মসলার মধ্যে রয়েছে জিরা, এলাচ, দারুচিনি, গোলমরিচ, যত্রিক, হলুদ ও রসুন। তবে এ সাপ্তাহে মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আরো মসলা আসবে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। প্রতিবছর কোরবানের দুই একমাস আগে মসলার আমদানিটা একটু বেড়ে যায়। বাংলাদেশে মসলার চাহিদার সিংহভাগই আসে চীন,পাকিস্তান, সিরিয়া, ইরান,আফগানিস্তান, কলম্বিয়া, ভিয়েতনাম, গুয়েতমালা, মালেশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর, আরব আমিরাত থেকে।
ব্যবসায়ীরা জানান গত কয়েক বছর থেকে ভারত থেকে বৈধ-অবৈধ পথে মসলা আসে বেশী। এসব মসলার গুনগত মান কম হওয়ায় বাজারে দামও কম। ফলে অন্যান্য দেশের মসলা ভারতীয় মসলার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছেনা। এতে মসলা আমদানির আগ্রহ হারাচ্ছে অনেক ব্যবসায়ী। আবার আর্ন্তজাতিক বাজারে ও মসলার দাম বেশী। এ ছাড়া মাত্র হতে গুনা কয়েকজন ব্যবসায়ী মসলা আমদানী করে থাকেন। এ কারনে মসলার বাজার সবসময় আমদানী কারকদের নিয়ন্ত্রনে থাকে।