banner

শেষ আপডেট ১৪ নভেম্বর ২০১৮,  ১১:৩৩  ||   বুধবার, ১৪ই নভেম্বর ২০১৮ ইং, ৩০ কার্তিক ১৪২৫

সঙ্গীত যাদের জীবন

সঙ্গীত যাদের জীবন

১২ অগাস্ট ২০১৮ | ১৭:৫৭ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
সেলিম আকতার পিয়াল: সঙ্গীত শিল্পকলার একটি প্রাচীন মাধ্যম। যুগে যুগে বহু সঙ্গীত সাধক সঙ্গীতের উন্নতিতে সাধনা করে গেছেন। এ সঙ্গীতকে নিয়ে আজও পৃথিবীতে প্রতিটি মানুষ তার মানষিক আনন্দে মূল খুঁজে পায়। বর্তমানে বাংলাদেশে সঙ্গীত নিয়ে যারা কাজ করছেন এবং এর আগেও যারা কাজ করে গেছেন তারা সকলেই সঙ্গীত শিল্পী শুধু নয়, সাধকও বটে। মিয়া তানসেন থেকে শুরু করে সঙ্গীতকে উচ্চাঙ্গের পর্যায়ে নিয়ে যেতে সকলেই যার যার অবস্থান থেকে সৃষ্টি করে গেছেন সঙ্গীতের নতুন নতুন ধারা। বর্তমানে আমাদের বাংলাদেশে সঙ্গীতকে বহুধারায় দেখা যায়। রবীন্দ্র, নজরুল, লালন, হাসান সহ পল্লী ও আঞ্চলিক সহ আধুনিক গানে এক বিশাল ভাণ্ডার রয়েছে আমাদের। পাশাপাশি আছে সে সঙ্গীতকে যারা স্রোতার মনের মনিকোঠায় আশ্রয় করে দিয়েছে সে সঙ্গীত শিল্পীরা। তেমনি দু’জন সঙ্গীত শিল্পী যারা চট্টগ্রাম সহ সারা দেশে আপন স্বকীয়তায় নিজেদের পরিচিত করিয়েছেন সকলের মাঝে। তাদের একজন হচ্ছেন প্রখ্যাত সঙ্গীত শিল্পী ইকবাল পিন্টু এবং অন্যজন এস.বি সুমি।
ইকবাল পিন্টু
শৈশবে রাঙ্গামাটিতে এক সঙ্গীত পিপাসু পরিবারে জন্ম নেয়ায় ইকবাল পিন্টু চট্টগ্রামসহ সারা দেশে তার কন্ঠের যাদুতে মোহিত করেছেন সকলকে। ছোট বেলাতেই রাঙ্গামাটিতে শিশু একাডেমী, উপজাতীয় সাংস্কৃতিক একাডেমীতে তালিম নেয়া শুরু করেন তিনি উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের উপর। ওস্তাদ হিসেবে তিনি সুনীতিরঞ্জন বড়ুয়া, প্রভাকর বড়ুয়া ও মনোজ বাহাদুরের কাছে সঙ্গীতের তালিম নেন। এছাড়াও তিনি আঞ্চলিক পর্যায়ে এসব প্রতিষ্ঠান থেকে এবং বিদ্যালয় থেকে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে পুরস্কৃত হয়ে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন। যখন পিন্টু ক্লাস নাইনে তখন রাঙ্গামাটিতে ফাইন ফিঙ্গার্ড নামে একটি ব্যান্ড’র সাথে জড়িত ছিলেন এবং নিয়মিতভাবে ব্যান্ড ও সলো শিল্পী হিসেবে নিয়মিত প্রোগ্রাম করতেন। মুলত তিনি আধুনিক ও ফোক গানের শিল্পী, পাশাপাশি রবীন্দ্র ও নজরুল গীতির প্রতি তার সমদক্ষতা আছে। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের ছাত্র হিসেবে ২৬তম ব্যাচে  পাশ করেন। সঙ্গীত পুজারী পরিবারে তাঁর দু’বোন ডা. আজমা হক সুমি ও সালমা হক এরা দু’জন নাচ এবং গানে সমান পারদর্শী ছিলেন।
36285921_10216244900333227_7490846070042263552_n
বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে তিনি তালিকাভুক্ত শিল্পী হিসেবে এযাবত প্রায় ৮০ থেকে ৯০টি মৌলিক গান করেছেন। ১৯৯৩ সালে পার্থ বড়ুয়ার সঙ্গীত পরিচালনায় তাঁর একক এ্যালবাম কোকিলা, হযবরল-১, হযবরল-২ বের হয়। যা শ্রোতারা আন্তরিকভাবে গ্রহণ করে। এছাড়াও আধুনিক ফোক ও আঞ্চলিক গানে চল ও ডুয়েট কিছু এ্যালবাম তার আছে। ১৯৮৫ থেকে নিয়মিতভাবে পেশাদার সঙ্গীত শিল্পী হিসেবে তিনি গান করে চলছেন। বর্তমানে তিনি নজরুল একাডেমি চট্টগ্রামে নির্বাহী সদস্য পদে আসীন আছেন । এছাড়াও মঞ্চ শিল্প সংস্থার তিনি ফাউন্ডার ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন। আগামীতে ঈদুল আযহা উপলক্ষ্যে তার বেশ কয়েকটি ডুয়েট এ্যালবাম ও সলো এ্যালবাম বাজারে আসবে বলে শিল্পী বলেন। ইকবাল পিন্টু আগামীতে তিনি নিজস্ব একটি সঙ্গীত প্রতিষ্ঠান স্থাপনের জন্য কাজ করে চলছেন যেখান থেকে শুদ্ধ সঙ্গীতের সাধনা করে সঙ্গীতকে বিশ্ব দরবারে পৌছে দিতে পারবে আগামী দিনের প্রজন্ম।
এস বি সুমী
সুফিয়া বেগম সুমি যিনি এস বি সুমী নামে সঙ্গীতাঙ্গণে বেশ পরিচিত। সেই ১৯৮৭ সাল থেকে নিয়মিতভাবে সঙ্গীত নিয়ে কাজ করে চলছেন। শিল্পীর কথায়, “আমি এখনও কিছুই শিখে উঠতে পারিনি শুধু চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি”। ছোট বেলায় বেতারের আঞ্চলিক গানের শিল্পী মা মমতাজ ইসলাম এর গান শুনে এবং বিক্রম পুরের বিখ্যাত সঙ্গীত পরিবারের সন্তান হওয়ায় তার রক্তেই গানের প্রতি ছিল ভালবাসা ও টান। যার কারণে সঙ্গীতাঙ্গণে তার পদচারণা হয়েছে জলের মত। সুমির দাদার বাবা ওস্তাদ ডেঙ্গুর আলী মিয়া, এবং দাদা উপমহাদেশের বিখ্যাত ক্লারিওনেট বাদক ওস্তাদ মোহাম্মদ শুক্কুর আলী মিয়া এবং পিতা বাংলাদেশ বেতারের মুখ্য প্রযোজক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা এম.এম. নজরুল ইসলাম এদের কাছেই তার সঙ্গীতে হাতেখড়ি পারিবারিকভাবে খেলাচ্ছলে।
37817178_2013784352265000_1078528732555116544_n
এছাড়াও উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতে তিনি প্রখ্যাত ওস্তাদ অমিতাভ বড়ুয়া, মিহির লালা, সুরবন্ধু অশোক চৌধুরী এবং গজলে সাইদুল ভাইয়ের কাছে তালিম নেন। তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে নিয়মিত সঙ্গীতশিল্পী এবং চট্টগ্রাম নজরুল একাডেমির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক। এছাড়া শিশু কিশোর মেলা সহ বহু সংগঠনের সাথে তিনি জড়িত ছিলেন। তার বেশ কিছু গানের এ্যালবাম সে সময় থেকে বাজারে চলছে। যেমন ডাঙ্গাচরের মাঝি (ডুয়েট), সাম্পান ওয়ালা, মনগহীনে ও না বলা ভালবাসা সহ তার আরও অনেক সলো ও ডুয়েট এ্যালবাম রয়েছে। আগামী ঈদের জন্য আরেকটি সলো এ্যালবামের কাজ চলছে। নজরুল, রবীন্দ্র, আঞ্চলিক ও ফোক এবং আধুনিক গান সহ সকল শাখায় তিনি সমানভাবে নিজেকে উজাড় করে দিচ্ছেন। এযাবত কাল পর্যন্ত প্রায় ৭০/৮০টি মৌলিক গান তিনি স্বকণ্ঠে গেয়েছেন। মিউজিককে আরও গতিশীল ও আধুনিকায়নে তার চিন্তা চেতনা নিয়ে তিনি এখনও চট্টগ্রাম সহ সারা দেশে কাজ করে চলেছেন।
লেখকঃ সাংবাদিক এবং শিল্প ও সংস্কৃতি প্রতিবেদক।