banner

শেষ আপডেট ১৪ নভেম্বর ২০১৮,  ১১:৩৩  ||   বুধবার, ১৪ই নভেম্বর ২০১৮ ইং, ৩০ কার্তিক ১৪২৫

চট্টগ্রাম সমুদ্র তীরবর্তী বঙ্গোপসাগরে বেপরোয়া জলদস্যূরাঃ আতংকে বোট মালিক ও জেলে পরিবার

চট্টগ্রাম সমুদ্র তীরবর্তী বঙ্গোপসাগরে বেপরোয়া জলদস্যূরাঃ আতংকে বোট মালিক ও জেলে পরিবার

১২ অগাস্ট ২০১৮ | ১৭:৪৯ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • চট্টগ্রাম সমুদ্র তীরবর্তী বঙ্গোপসাগরে বেপরোয়া জলদস্যূরাঃ আতংকে বোট মালিক ও জেলে পরিবার
বশির আলমামুনঃ চট্টগ্রাম জেলার বঙ্গোপসাগর উপকূলের সন্বীপ, কুতুবদিয়া,মহেশখালী ও সোনাদিয়া চ্যানেলে ও গভীর সমুদ্রে মাছ ধরা রত ফিশিং ট্র্রলারে উদ্বেগ জনক হারে বেড়ে গেছে জলদস্যূদের তৎপরতা। ইলিশ ধরার মৌসুমকে কেন্দ্র করে জলদস্যুরা বেপরোয়া হয়ে উঠায় জেলে পরিবারে আতংক বিরাজ করছে। সাগরে মাছ ধরার উপর দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে চলতি মাসের শুরুতে সাগরে গিয়ে জেলেরা জল দস্যূদের কবলে পড়ছেন। জলদস্যূরা অর্তর্কিত আক্রমন করে জেলেদের বিম্মি করে মাছ সহ বোট নিয়ে চলে যাচ্ছে অজ্ঞাত স্থানে। সেখান থেকে মালিকদের খবর দিয়ে টাকা আদায় করছে।
জেলেদের সূত্রে জানাগেছে বঙ্গোপসাগরে এসব চ্যানেলে জলদস্যূরা মাছধরা ট্রলারে জেলেদের জিম্মি করে বোট প্রতি দেড় থেকে দুই লাখ টাকা আদায় করছে। জেলেদের জীবন বাঁচাতে ও বোট ফিরে পেতে মালিকরা ডাকাতদের কাছে হাতে হাতে, কখনো মোবাইল ব্যাংকিং চ্যানেলে নগদ অর্থ পাঠাচ্ছেন। জেলেরা প্রতিনিয়ত ডাকাতদের হাতে নির্যাতনের শিকার হলেও ভয়ে বোট মালিকরা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে ডাকাতির অভিযোগ করছেন না।
জেলেরা জানান, চট্টগ্রামের আনোয়ারা, বাশঁখালী,সন্দ্বীপ, মহেশখালী,সোনাদিয়া,কুতুবদিয়া চ্যানেলের ও বিভিন্ন এলাকা থেকে জড়ো হওয়া জলদস্যূদের উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ায় সাগরের জেলেরা চরমভাবে আতংকে রয়েছে। যে কোন মুহুর্তে ঘটে যেতে পারে অপ্রতিকর ঘটনা।
গত ২৮ জুলাই দুপুর ২টার দিকে বঙ্গোপসাগরে ১৬ বিউ নামক স্থানে ছোট মহেশখালী ইউনিয়নের এক ব্যক্তির মালিকানাধিন এফ, বি আল মদিনা নামক ফিশিং ট্রলারে জলদস্যূরা হামলা চালিয়ে ৫জনকে গুলিবিদ্ধও প্রায় ২০জনকে পিঠিয়ে আহত করেছে। আহত করার পর জেলেদের জিম্মি করে ফিশিং ট্রলারের সব সরঞ্জমাদি লুট এবং ২লক্ষ টাকা মুক্তিপণ আদায় করেছে। ঠিক এ ভাবে প্রতিনিয়ত বঙ্গোপসাগরে ঘটেই যাচ্ছে নানান ঘটনা।
জেলেরা জানান, নিয়মিত মাসোহারা দিতে অপারগ হলে পরবর্তিতে এই ট্রলার সাগরে আর মাছ ধরার জন্য যেতে পারেনা, তাদের অবাধ্য হওয়া কোন ফিশিং ট্রলার সাগরে মাছ শিকারে গেলে ট্র্রলারের ইঞ্জিন, জাল, আহরনকৃত মাছ, তৈল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি লুট করে নিয়ে যায় পরিশেষে খালি ট্রলারটি ফুটো করে সাগরে ডুবিয়ে দেয়।
বোট মালিক সূত্রগুলো জানায়,সাগরে ইলিশ ধরার মৌসুমেই ফিশিং ট্রলারগুলো বেশির ভাগ ডাকাতের কবলে পড়ে। তাদের অভিযোগ চট্টগ্রামের আনোয়ারা ,বাশখালী ও কুতুবদিয়ার ৪টি প্রধান ডাকাত গ্রুপ সাগরে সক্রিয়। এদের অনেকগুলো শাখা গ্রুপ রয়েছে। এরা স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে ‘বাহিনী’ হিসেবেও পরিচিত। এছাড়া মহেশখালী,সোনাদিয়ার ডাকাত গ্রুপগুলো বেশ সক্রিয়।
ক্ষতিগ্রস্ত বোট মালিকরা জানান, বোট ও জেলেদের মুক্ত করতে কুতুবদিয়ার ধুরং বাজারে গিয়ে হাতে হাতে কিংবা কোনো বিকাশ একাউন্টে টাকা পাঠাতে হয়। ধুরং ও লেমশিখালি ডাকাতদের শক্ত ঘাঁটি। প্রশাসন ডাকাতদের নির্মূলে যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলেও মনে করছেন বোট মালিকরা।
মহেশখালী উপজেলা ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবু বক্কর ছিদ্দিক জানান, সাগরে জলদস্যুতা বৃদ্ধি পাওয়ায় আমাদের জেলে পরিবার গুলো চরম ভাবে আতংকে দিনাতিপাত করছে তাই জলদস্যুতা বন্ধে কোস্টগার্ড সহ প্রশাসনের সার্বিক সহযোগীতা কামনা করছি কেননা মহেশখালীর বেশীর ভাগ লোকজন ফিশিং এর উপর নির্ভর করে।
জেলা বোট মালিক সমিতির এক নেতা বলেন, প্রায় প্রতিদিনই ফিশিং ট্রলারে ডাকাতি হচ্ছে। বোটের মালিককে ফোন করে মুক্তিপণের টাকা দাবি করে। কোস্টগার্ড-র‌্যাবকে জানালে মাঝিমাল্লাদের হত্যা করারও হুমকি দেয় তারা। কিন্তু বোট মালিকরা এ ব্যাপারে এগিয়ে না আসায় প্রশাসনও কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছেন না।
আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দুলাল মাহমুদ জানান সাগরে ডাকাতি রোধে আনোয়ারা উপকুলে প্রতিদিন অভিযান চালানো হচ্ছে। এর ফলে জলদস্যূদের তৎপরতা অনেকাটা কমে গেছে। বেশ কয়েকজন জলদস্যূদের গ্রেফতারকরা হয়েছে।
এদিকে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র মৎসজীবি জেলে সমিতি চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি সুধীর জলদাশ জানান সাগরে যে ভাবে জলদস্যূদের তৎপরতা বেড়ে গেছে তাতে মনে হয় কোন জেলেরই নিরাপত্তা নেই। তিনি নৌবাহিনী ও কোষ্ট গার্ডের নিয়মিত টহল জোরদার করার আহব্বান জানান।