banner

শেষ আপডেট ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮,  ২৩:১১  ||   মঙ্গলবার, ২৫ই সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং, ১০ আশ্বিন ১৪২৫

গুলজার মোড়ের মিনি চাইনিজঃ রঙ্গিন পর্দার আঁড়ালে অন্ধকার ভবিষ্যৎ!

গুলজার মোড়ের মিনি চাইনিজঃ রঙ্গিন পর্দার আঁড়ালে অন্ধকার ভবিষ্যৎ!

১২ অগাস্ট ২০১৮ | ১৭:৪৬ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • গুলজার মোড়ের মিনি চাইনিজঃ রঙ্গিন পর্দার আঁড়ালে অন্ধকার ভবিষ্যৎ!
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বানিজ্যিক নগরী চট্টগ্রামের চকবাজারস্থ গুলজার মোড়, পাঁচলাইশ ও চট্টেশ্বড়ী রোডে ব্যাঙের ছাতার মতো বেশ কিছু মিনি চাইনিজ রেস্টুরেন্ট গড়ে উঠেছে। আলো-আঁধারি এ সব রেষ্টুরেন্টগুলোর আঁড়ালে চলছে অসামসজিক কার্য্যকলাপ।
চকবাজার গুলজার মোড় এলাকায় যথাক্রমে,কাশেম টাওয়ারের ২য় তলায় লেগুন মিনি চাইনিজ,নীচ তলায় হারমোনি মিনি চাইনিজ,মদিনা মার্কেটের ৪র্থ তলায় প্যারাডাইস মিনি চাইনিজ, ফুলকলি মিষ্টির দোকানের ২য় তলায় সিটি হার্ট মিনি চাইনিজ,ফরচুন টাওয়ারের ৩য় তলায় নাইস মিনি চাইনিজ, গুলজার মোড়ের শাহেন শাহ মার্কেটের ২য় তলায় কফি আইল্যান্ড মিনি চাইনিজ। এই কফি আইল্যান্ড মিনি চাইনিজটি সি. আই. ডি’র ইন্সপেক্টর আনোয়ার কামালের ছোট ভাই জনৈক সুজার বলে পরিচয় দিল কর্মচারীরা। এ ছাড়া মতি টাওয়ারের তৃতীয় তলায় শাপলা ফুডস, বনসাই, রেড রোজ, ওয়ান মিনিট, চকবাজার বৌদ্ধ মন্দিরের পাশে পিজা হাউস মিনি চাইনিজ,চট্টেশ্বড়ী রোডে কপি ম্যাক্স,গুলজার টাওয়ারে মামা ক্যাপ,ও ৪র্থ তলায় গ্রীন চিলি,কেয়ারীর সামনে পালভিউ মিনি চাইনিজ, গুলজার টাওয়ারের তৃতীয় তলায় তৃপ্তি ফুডস,সিগাল, রিসতা মিনি চাইনিজ রেস্টুরেন্ট, রাকিব মিনি চাইনিজ সহ আরো অনেক মিনি চাইনিজ রেষ্টুরেন্ট রয়েছে।
স্কুল-কলেজ ও কোচিং সেন্টারগুলোতে পড়তে আসা শিক্ষার্থীরাই এসব রেস্টুরেন্টের মূল গ্রাহক বলে জানা গেছে। তাদের টার্গেট করেই গড়ে উঠেছে এসব মিনি চাইনিজ রেস্টুরেন্ট। এসব মিনি চাইনিজ রেষ্টুরেন্টে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে স্কুল-কলেজের নানা বয়সী ছাত্র-ছাত্রীরা ভিড় করছে। এসব মিনি চাইনিজ রেস্টুরেন্টগুলোতে নানা রঙ্গের কাপড়ের পর্দা দিয়ে আটকানো ছোট ছোট রুম এবং রুমে খুবই মৃদু আলোর ডিম লাইট দেওয়া হয়েছে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত, মৃদু আলো আর ছোট টুল-টবিলে পরিবেষ্টিত এসব রুম। ওই এলাকার দেড় কিলোমিটারে প্রায় ১৫টি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। কলেজগুলোর মধ্যে প্রাচীন চট্টগ্রাম কলেজ ও মহসিন কলেজ এবং ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়।এছাড়া রয়েছে পুরনো আরো দুটি বিদ্যাপীঠ যেগুলো সম্প্রতি কলেজে উন্নীত হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান ছাড়া বাকি ১১টি প্রতিষ্ঠানই বেসরকারি। আর রয়েছে অসংখ্য কোচিং সেন্টার।
এসব মিনি চাইনিজে প্রবেশ করে শুরুতে ফুচকা-চটপটি বা নুডুলস খেলেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা চলে সময় অতিবাহিত এবং সময় শেষ হলেই বিভিন্ন হারে ঘণ্টা প্রতি রাখছে টাকা। বাইরে ঝলমলে আলো দেখা গেলেও ভেতরের মৃদু আলোতে বসে ছেলে-মেয়েরা অবাধ মেলামেশা ও অসামাজিক কার্য্যকলাপ জড়িয়ে পড়ছে।আর স্কুল-কলেজ ছুটির সময় হিসাব করে ছেলে-মেয়েরা ছুটির সময় অনুযায়ী সঙ্গে সঙ্গে বেরিয়ে যায়।
উঠতি বয়সের শিক্ষার্থীরা বাড়ি থেকে স্কুল-কলেজের জন্য বের হয়ে ওইসব মিনি চাইনিজ রেষ্টুরেন্টগুলোর রঙ্গিন পর্দার আড়ালে তাদের অন্ধকার ভবিষ্যৎ তৈরি করছে। শিক্ষার্থীদের এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে উস্কে দিচ্ছে  ওইসব মিনি চাইনিজ রেষ্টুরেন্টগুলোর ব্যবসায়ীরা। তারা ব্যবসার নামে করছে সময় বিক্রি। কারণ শিক্ষার্থীরা যত বেশি সময় অতিবাহিত করছে তারা ততবেশি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। চটপটি, ফুচকা বা নুডুলস ব্যবসার আঁড়ালে ব্যবসায়ীরা শিক্ষার্থীদের কাছে সময় বিক্রি করছে। তারা প্রতি ঘণ্টায় ১ প্লেট চটপটি বা ১ প্লেট নুডুলস এর মূল্য রাখছে ৪/৫শ’ টাকা। প্রতিদিন শত শত স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীদের সরব উপস্তিতিতে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সরগরম থাকে এলাকাটি। এতে একদিকে যেমন শিক্ষার্থীরা দিনের পর দিন রঙ্গিন পর্দার আঁড়ালে নিজের ভবিষ্যৎ নষ্ট করছে। অন্যদিকে তাদের এহেন কর্মকাণ্ডে বিভ্রান্ত হচ্ছে সচেতন মহল। প্রশাসনের নীরবতা ও কোনোরকম অভিযান না থাকার কারণে বিপথে পরিচালিত হচ্ছে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শত শত ছাত্র-ছাত্রী। আবার এখানে শুধু যে স্থানীয় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা আসে তা নয়। দূর-দূরান্ত থেকেও আসছে নানা বয়সী মানুষ।
থানা পুলিশের নাকের ডগায় এই অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে কতিপয় ব্যবসায়ী। মাসোহারার কারণে থানা-পুলিশের নীরবতা বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহলে । এ ব্যাপারে চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালামকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান,”এ গুলোর ব্যাপারে আমি আরো অভিযোগ পেয়েছি। পুলিশ পাঠিয়ে যাতে পর্দা না রাখে সেটা ব্যবস্থা করে দেবো।”
এ ব্যাপারে নগর গোয়েন্দা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার(উত্তর) মোঃ শওকত আলী’কে জানালে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান।