banner

শেষ আপডেট ১৫ অক্টোবর ২০১৮,  ২২:৩৪  ||   সোমবার, ১৫ই অক্টোবর ২০১৮ ইং, ৩০ আশ্বিন ১৪২৫

রাজপথ দাফিয়ে বেড়াচ্ছে ২৫ হাজার ফিটনেসবিহীন যানবাহন

রাজপথ দাফিয়ে বেড়াচ্ছে ২৫ হাজার ফিটনেসবিহীন যানবাহন

৮ অগাস্ট ২০১৮ | ২০:৪০ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • রাজপথ দাফিয়ে বেড়াচ্ছে  ২৫ হাজার ফিটনেসবিহীন যানবাহন

বিশ্বজিৎ পাল : নগরীতে একের পর এক ক্রটিপূর্ণ যানবাহনের সংখ্যা বাড়ছে। একই সাথে প্রশাসনের কোনো কঠোর তেমন কোন পদক্ষেপ না থাকায় ফিটনেসবিহীন যানবাহনগুলো রাজপথ দাফিয়ে বেড়াচ্ছে। সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) হিসাবে চট্টগ্রামে ফিটনেসবিহীন প্রায় ২৫ হাজার যানবাহন চলাচল করছে। ফলে সরকার বছরে প্রায় ২০ কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে। এদিকে পরিবহন খাতে এই অনিয়ম নিয়ে বিআরটিএ, ট্রাফিক পুলিশ ও পরিবহন মালিক একে অপরের উপর দোষ চাপাচ্ছে।

বিআরটিএ সূত্রে জানা গেছে, নগরীতে ১০/১২ বছর যাবত ফিটনেস নবায়ন করছে না এ ধরনের বিভিন্ন যানবাহনের সংখ্যা প্রায় ১২ হাজার।

আর জেলায় রয়েছে এ ধরনের যানবাহন প্রায় ১৩ হাজার। এসব যানবাহনের মধ্যে রয়েছে ট্রাক, বাস, মিনিবাস, টেম্পো, সিএনজি অটোরিকশা, মাইক্রোবাস ইত্যাদি।

তবে অটোরিকশা সবচেয়ে বেশি। অনেক অটোরিকশা ১৬/১৭ বছর অতিক্রম করেছে, তারপরও জোড়াতালি দিয়ে চলছে। ফিটনেসবিহীন যানবাহনের দ্বিতীয় পর্যায়ে রয়েছে ট্রাক, মিনি ট্রাক, বাস, হিউম্যান হলার ও টেম্পু। ক্রুটিপূর্ণ যানবাহন চলছে লাইসেন্সবিহীন চালক দিয়ে।

নগরীর বিভিন্ন সড়কে ১৪/১৫ বছর বয়সী কিশোর গণপরিবহনের গাড়ি চালাচ্ছে।

দেখা যাচ্ছে নগরীর হিউম্যান হলার ও টেম্পুর মধ্যে কম বয়সী চালকের সংখ্যা বেশি। তবে নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের পর এ সংখ্যা কমে আসছে।
জানা গেছে, চট্টগ্রামে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের সংগঠন এক ডজনের বেশি। বাস মালিকদের মধ্যে বৈধ ও অবৈধ মিলিয়ে প্রায় ৮টি সংগঠন রয়েছে।

এত ফিটনেসবিহীন যানবাহন সড়কে বছরের পর বছর কীভাবে চলাচল করছে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পরিবহন মালিক গ্রুপের মহাসচিব বেলায়েত হোসেন বলেন, অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে বিআরটিএ-এর কোনো মোবাইল কোর্ট নেই। রাস্তায় মাঝে মধ্যে পুলিশ কিছু মামলা দিয়ে দায়িত্ব শেষ করছে। প্রশাসনের কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেই ক্রুটিপূর্ণ যানবাহনের বিরুদ্ধে।
জানতে চাইলে বিআরটিএ-এর চট্টগ্রাম বিভাগীয় উপ-পরিচালক মুহাম্মদ শহীদুল্ল্যাহ্ কায়ছার বলেন, ফিটনেসবিহীন যানবাহন পরীক্ষার জন্য চট্টগ্রামে অভিযান শুরুর প্রক্রিয়া চলছে। যেনতেনভাবে লক্কড়-ঝক্কড় যানবাহন যাতে সনদ না পায়, সে জন্য স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র বসানোর কাজ চলছে বলে জানান তিনি।
গত কয়েকদিনে রাস্তায় সরেজমিনে দেখা গেছে, কোনো গাড়ি জীর্ণ, সামনের কাচ নেই, বাতি নেই। কোনো গাড়ির সামনে-পেছনে দুমড়ে আছে, যেন কোনো দুর্ঘটনা থেকে মাত্রই উদ্ধার করে আনা হয়েছে গাড়িটি। অনেক গাড়ির কাঠামো রংচটা, তুবড়ানো, নির্দেশক বাতিহীন, যেন এটাই স্বাভাবিক। এমন হাজার হাজার ফিটনেসবিহীন গাড়ি অবাধে চলছে চট্টগ্রামে।

দীর্ঘ সময় যাবত চট্টগ্রামে পরিবহন সেক্টরে এমন অরাজকতা বিরাজ করছে। গাড়ির রেজিস্ট্রেশন, ফিটনেস, রুট পারমিট ও রাস্তায় চলাচলের ক্ষেত্রে সর্বত্র বিশৃঙ্খল অবস্থা বিরাজ করছে। গাড়ির গ্লাস, লাইট, জানালা ভাঙা। তারপরও রাস্তায় ত্রুটিপূর্ণ এসব যানবাহন ট্রাফিক পুলিশের সামনে বাধাহীনভাবে চলাচল করছে।

ক্রুটিপূর্ণ এসব গাড়ি কিভাবে চলছে তার কোনো উত্তর মিলছে না। তবে কোনো ‘প্রাইভেট গাড়ি’ ক্রুটি নিয়ে চলাচল করলে রাস্তায় দফায় দফায় পুলিশের রোষানলে পড়তে হচ্ছে।

তবে বিআরটিএ হিসাবে চট্টগ্রামে চলাচলকারী ২৫ হাজার যানবাহন ফিটনেসবিহীন চলাচল করছে। এসব গাড়ি ১০ থেকে ১২ বছর যাবত বিআরটিএ থেকে ফিটনেস নবায়ন না করে চলাচল করছে। এর ফলে সরকার বছরে প্রায় ২০ কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে একের পর এক দূর্ঘটনা লেগেই আছে।