banner

শেষ আপডেট ১৬ অক্টোবর ২০১৮,  ২২:২৪  ||   বুধবার, ১৭ই অক্টোবর ২০১৮ ইং, ২ কার্তিক ১৪২৫

সঙ্গীতের পূজারী ইকবাল পিন্টু

সঙ্গীতের পূজারী ইকবাল পিন্টু

৭ অগাস্ট ২০১৮ | ২২:৫৪ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সঙ্গীতের পূজারী ইকবাল পিন্টু

 

সেলিম আকতার পিয়াল : সঙ্গীত শিল্পকলার একটি প্রাচীন মাধ্যম। যুগে যুগে বহু সঙ্গীত সাধক সঙ্গীতের উন্নতিতে সাধনা করে গেছেন। এ সঙ্গীতকে নিয়ে আজও পৃথিবীতে প্রতিটি মানুষ তার মানষিক আনন্দে মূল খুঁজে পায়। বর্তমানে বাংলাদেশে সঙ্গীত নিয়ে যারা কাজ করছেন এবং এর আগেও যারা কাজ করে গেছেন তারা সকলেই সঙ্গীত শিল্পী শুধু নয়, সাধকও বটে। মিয়া তানসেন থেকে শুরু করে সঙ্গীতকে উচ্চাঙ্গের পর্যায়ে নিয়ে যেতে সকলেই যার যার অবস্থান থেকে সৃষ্টি করে গেছেন সঙ্গীতের নতুন নতুন ধারা। বর্তমানে আমাদের বাংলাদেশে সঙ্গীতকে বহুধারায় দেখা যায়। রবীন্দ্র, নজরুল, লালন, হাসান সহ পল্লী ও আঞ্চলিক সহ আধুনিক গানে এক বিশাল ভাণ্ডার রয়েছে আমাদের। পাশাপাশি আছে সে সঙ্গীতকে যারা স্রোতার মনের মনিকোঠায় আশ্রয় করে দিয়েছে সে সঙ্গীত শিল্পীরা। তেমনি একজন সঙ্গীত শিল্পী যিনি চট্টগ্রাম সহ সারা দেশে আপন স্বকীয়তায় নিজেকে পরিচিত করিয়েছেন সকলের মাঝে। তাদেরই একজন হচ্ছেন প্রখ্যাত সঙ্গীত শিল্পী ইকবাল পিন্টু ।
শৈশবে রাঙ্গামাটিতে এক সঙ্গীত পিপাসু পরিবারে জন্ম নেয়ায় ইকবাল পিন্টু চট্টগ্রামসহ সারা দেশে তার কন্ঠের যাদুতে মোহিত করেছেন সকলকে। ছোট বেলাতেই রাঙ্গামাটিতে শিশু একাডেমী, উপজাতীয় সাংস্কৃতিক একাডেমীতে তালিম নেয়া শুরু করেন তিনি উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের উপর। ওস্তাদ হিসেবে তিনি সুনীতিরঞ্জন বড়ুয়া, প্রভাকর বড়ুয়া ও মনোজ বাহাদুরের কাছে সঙ্গীতের তালিম নেন। এছাড়াও তিনি আঞ্চলিক পর্যায়ে এসব প্রতিষ্ঠান থেকে এবং বিদ্যালয় থেকে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে পুরস্কৃত হয়ে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন। যখন পিন্টু ক্লাস নাইনে তখন রাঙ্গামাটিতে ফাইন ফিঙ্গার্ড নামে একটি ব্যান্ড’র সাথে জড়িত ছিলেন এবং নিয়মিতভাবে ব্যান্ড ও সলো শিল্পী হিসেবে নিয়মিত প্রোগ্রাম করতেন। মুলত তিনি আধুনিক ও ফোক গানের শিল্পী, পাশাপাশি রবীন্দ্র ও নজরুল গীতির প্রতি তার সমদক্ষতা আছে। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের ছাত্র হিসেবে ২৬তম ব্যাচে তিনি পাশ করেন। সঙ্গীত পুজারী পরিবারে তাঁর দু’বোন ডা. আজমা হক সুমি ও সালমা হক এরা দু’জন নাচ এবং গানে সমান পারদর্শী ছিলেন।
বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে তিনি তালিকাভুক্ত শিল্পী হিসেবে এযাবত প্রায় ৮০ থেকে ৯০টি মৌলিক গান করেছে। ১৯৯৩ সালে পার্থ বড়–য়ার সঙ্গীত পরিচালনায় তাঁর একক এ্যালবাম কোকিলা, হযবরল-১, হযবরল-২ বের হয়। যা শ্রোতারা আন্তরিকভাবে গ্রহণ করে। এছাড়াও আধুনিক ফোক ও আঞ্চলিক গানে চল ও ডুয়েট কিছু এ্যালবাম তার আছে। ১৯৮৫ থেকে নিয়মিতভাবে পেশাদার সঙ্গীত শিল্পী হিসেবে তিনি গান করে চলছেন। নজরুল একাডেমি চট্টগ্রামে তিনি নির্বাহী সদস্যপদে আসীন আছেন বর্তমানে। এছাড়াও মঞ্চ শিল্প সংস্থার তিনি ফাউন্ডার ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন। আগামীতে ঈদুল আযহা উপলক্ষ্যে তার বেশ কয়েকটি ডুয়েট এ্যালবাম ও সলো এ্যালবাম বাজারে আসবে বলে শিল্পী বলেন। ইকবাল পিন্টু আগামীতে তিনি নিজস্ব একটি সঙ্গীত প্রতিষ্ঠান স্থাপনের জন্য কাজ করে চলছেন যেখান থেকে শুদ্ধ সঙ্গীতের সাধনা করে সঙ্গীতকে বিশ্ব দরবারে পৌছে দিতে পারবে আগামী দিনের প্রজন্ম।