banner

শেষ আপডেট ১১ ডিসেম্বর ২০১৮,  ২২:৪৫  ||   বুধবার, ১২ই ডিসেম্বর ২০১৮ ইং, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

কুতুবদিয়ায় ক্ষেত্র বিশেষে আইনশৃংখলা বাহিনী নির্বাক

কুতুবদিয়ায় ক্ষেত্র বিশেষে আইনশৃংখলা বাহিনী নির্বাক

৫ অগাস্ট ২০১৮ | ২৩:২৪ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • কুতুবদিয়ায় ক্ষেত্র বিশেষে আইনশৃংখলা বাহিনী নির্বাক

লিটন কুতুবী, কুতুবদিয়া,কক্সবাজার :  মাদকবিরোধী অভিযানে কুতুবদিয়া থানা পুলিশ গত জুলাই মাসে আট মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে। মাদক ব্যবসায় জড়িত ঘটনায় এক মাসে কুতুবদিয়া থানায় মামলা হয়েছে ৫টি। তবে পুলিশের তালিকায় (কুতুবদিয়ায়) ৪৮জন ইয়াবা ব্যবসায়ীর নাম তালিকা প্রকাশের মধ্যে অধিকাংশ পুলিশের অভিযানে ধরা পড়েছে। ইয়াবা ব্যবসায়ীদের মধ্যে কয়েকজন মাফিয়া ডন এখনো ধরা পড়েনি। ইয়াবা ব্যবসায়ী ডনরা এলাকা ছেড়ে অন্যেত্রে আশ্রয় নিয়েছে। নতুনভাবে কিছু খুচরা ইয়াবা ব্যবসায়ী পুলিশের চোখে ফাঁিক দিয়ে মাদক ব্যবসা করতে গেলেই পুলিশের হাতে ধরা পড়ছে বলেন কুতুবদিয়া থানার ওসি মুহাম্মদ দিদারুল ফেরদাউস সাংবাদিকদের জানান।

কুতুবদিয়া উপজেলাকে মাদকমুক্ত করার জন্য এ অভিযান অব্যহত থাকবে। পুলিশের তালিকাভূক্ত মাদক ব্যবসায়ীরা যতই শক্তিধর হোক আর যে রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় থাকুক তালিকাভূক্তদের  আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান। পুলিশের অভিযানে প্রকৃত ইয়াবা বা মাদক ব্যবসায়ীরা ধরা পড়ছে। আন্ডার গ্রাউন্ড ই্য়াবা ব্যাসায়ী কুতুবদিয়া দ্বীপের বাইরে লুকিয়ে থাকলেও তাদের ব্যাপারে খবর নেয়া হচ্ছে।
তিনি আরো জানান, ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত আছে এমন কিছু লোকের নাম প্রকাশ পাচ্ছে তারা এ সমাজের জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তি। অতি লোভের আশায় ইয়াবা ব্যবসা বেচেঁ নিয়েছে। এ ধরণের শতাধিক ব্যক্তির নাম নতুন তালিকায় আসছে। সরকারের ঘোষিত মাদকবিরোধী অভিযানে প্রকৃত মাদক ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় আনা হবে। যারা ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত এবং ইয়াবা মামলার আসামী তারা সরকারি চাকুরি থেকেও বঞ্চিত হবে বলে সরকারের এমন ঘোষণা আসছে।
কুতুবদিয়া থানার অপারেশন অফিসার এস,আই (উপ-পরিদর্শক) জয়নাল আবেদীন জানান, সরকার ঘোষিত মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হওয়া পর থেকে এ পর্যন্ত পুলিশের হাতে শতাধিক ইয়াবা ব্যবসায়ী আটক হয়েছে। এদের মধ্যে বিভিন্ন ইউনিয়নের সাবেক ৪ ইউপির সদস্যও রয়েছে। এছাড়াও ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত কুতুবদিয়া দ্বীপের ৬ ইউনিয়নের উত্তর ধুরুং,দক্ষিণ ধুরুং, লেমশীখালী কৈয়ারবিল,বড়ঘোপ, আলী আকবর ডেইল ইউনিয়ন পরিষদের আরো ৬ জন ইউপির সদস্যের নাম পুলিশের তালিকায় রয়েছে। তারা বর্তমানে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। তদের বিরুদ্ধে থানায় মাদক আইনে মামলা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাদকবিরোধী একজন সচেতন নাগরিক জানান, বিগত কয়েক বছর ধরে মরণ নেশা ইয়াবা যুব সমাজের নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছিল। হাত বাড়ালেই ইয়াবা পাওয়া যেত। যুব সমাজকে মরণ নেশায় জড়িয়ে অনেকে ইয়াবা ব্যবসা করে কোটি টাকার মালিক হয়েছে। এ যুব সমাজকে রক্ষার জন্য বিগত দুই মাস পূর্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাছিনা সারা দেশে মাদকবিরোধী অভিযান চালানোর জন্য আইনশৃংখলা বাহিনীকে নির্দেশ দেন। বর্তমানে এ অভিযান অভ্যাহত রয়েছে। কিন্তুু আইনশৃংখলা বাহিনীর হাতে আটক হওয়া ইয়াবা ব্যবসায়ীরা আদালতের মাধ্যমে আইনের ফাঁকে ছাড়া পেয়ে পূনরায় ইয়াবা ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছে। ক্ষেত্র বিশেষে আইনশৃংখলা বাহিনীও নির্বাক।
কুতুবদিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আওরঙ্গজেব মাতবর বলেন,প্রধানমন্ত্রীর ঘোষনা মাদকবিরোধী অভিযান সফল হয়েছে। ইয়াবা ব্যবসায়ীরা যে রাজনৈতিক দলেরই হোক না কেন ছাড় দেয়া হবে না। পুলিশের তালিকাভূক্ত কিছু ইয়াবা ব্যবসায়ী কক্সবাজার ও চট্টগ্রামসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থান করে এখনো ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এদেরকে আইনের আওতায় আনার জন্য আইনশৃংখলা বাহিনীর প্রতি  অনুরোধ জানান।
কুতুবদিয়া ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন কোম্পানী জানান, উপকূলে পুলিশের অভিযানে ধাওয়া খেয়ে ইয়াবা সেবনকারী ও ইয়াবা ব্যবসায়ীরা কৌশল পরিবর্তন করে ইদানিং উপকূল থেকে ট্রলার নিয়ে মাছ ধরার নাম করে সাগরে গিয়ে ইয়াবা সেবন করছে। আবার অনেকে সাগরকে নিরাপদ মনে করে ইয়াবা বেচা কেনার হাট বসিয়েছে। ইয়াবা সেবনকারীর টাকা সংকট হলে নেমে পড়ে সাগরে ট্রলার ডাকাতির কাজে। তাদের সাথে পাল্লা দিয়ে জলদস্যুরা সাগরে নির্বিচারে ডাকাতি করে বেড়াচ্ছে। সাগর নিরাপত্তায় নিয়োজিত নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের টহল (সাগরে) জোরদার করলে এসব অপরাধীরা ধরা পড়বেই।