banner

শেষ আপডেট ১৫ অক্টোবর ২০১৮,  ২২:৩৪  ||   সোমবার, ১৫ই অক্টোবর ২০১৮ ইং, ৩০ আশ্বিন ১৪২৫

উপজেলার ৯ অফিসে প্রতিদিন লেনদেন ১০ লাখ টাকার ঘুষ

উপজেলার ৯ অফিসে প্রতিদিন লেনদেন ১০ লাখ টাকার ঘুষ

২৪ জুলাই ২০১৮ | ১৪:২৫ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • উপজেলার ৯ অফিসে প্রতিদিন লেনদেন ১০ লাখ টাকার ঘুষ
ঢাকা অফিসঃ পাবনার ৯টি উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে প্রতিদিন ঘুষ লেনদেন হয় ১০ লক্ষাধিক টাকা। এ টাকার সিংহভাগই যায় জেলা রেজিস্টার, সাব রেজিস্টার, অফিসের বড় বাবু ও দলিল লেখক সমিতির পকেটে। বিভিন্ন সাব রেজিস্টার অফিসে দুদকের অনুসন্ধানে এ সব তথ্য বেরিয়ে এসেছে। বিষয়টি জেলার সর্বত্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, একটি দলিল সম্পাদনে পৌরসভার ভেতরে সরকারি ভাবে গড়ে ১৪ শতাংশ এবং পৌর এলাকার বাইরে গড়ে ১১ শতাংশ ফি প্রদান করতে হয়। এর বাইরে দলিল লেখক সমিতিকে এককালীন ৫ থেকে ১০ হাজার, সাব রেজিস্টারকে দলিলের ৫ শতাংশ, অফিস বড় বাবু এবং দালাল চক্রকে আরও অতিরিক্ত টাকা দিতে হয়। এ ছাড়া প্রতিটি সাব রেজিস্ট্রি অফিস কমপাউন্ডে চাঁদাবাজ চক্র তো রয়েছেই।
দুদক উপ-পরিচালক আবু বকর সিদ্দিক সাংবাদিকদের জানান, পাবনা জেলার ৯টি উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে প্রতিদিন প্রায় ১০ লক্ষাধিক টাকার ঘুষ লেনদেন হয়। আমরা এ বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করছি। কয়েকজন দুর্নীতিবাজ সাব রেজিস্টারকে ইতোমধ্যে মৌখিকভাবে সর্তক করা হয়েছে। তার পরেও তারা কর্ণপাত করছে না। আমরা খুব শিগগির তাদের বিরুদ্ধে আইনগতভাবে ব্যবস্থা নেব। এ ছাড়া মানুষজনকে জিম্মি করে দলিল লেখক সমিতির নামে যে টাকা আদায় করা হয় সে বিষয়েও আমরা খতিয়ে দেখছি।
দুদক সমন্বিত কার্যালয় পাবনার উপ-পরিচালক আবু বকর সিদ্দিক আরো জানান, জমির খাজনা-খারিজ করে দেয়ার নামে দীর্ঘদিন ধরে সরকার নির্ধারিত ফি’র অতিরিক্ত টাকা নিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানী করে আসছিলেন আটঘরিয়া উপজেলা সাব রেজিস্টার ইশরাত জাহান ও মোহরার আশরাফুল আলম। সম্প্রতি চারজন মানুষের ৪টি দলিল নিষ্পত্তি করে দেয়ার শর্তে দলিল লেখকের মাধ্যমে মোটা অংকের ঘুষ গ্রহণ করেন তারা। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১০ জুলাই বিকেলে অভিযান চালিয়ে আটঘরিয়া উপজেলা সাব রেজিস্টারের কার্যালয় থেকে ঘুষের ১৪ হাজার টাকাসহ সাব-রেজিস্টার ইশরাত জাহান ও মোহরার আশরাফুল আলমকে ৪৮ হাজার টাকাসহ আটক করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পাবনার কর্মকর্তারা। এ সময় দুদক কর্মকর্তারা তাদের কাছে থাকা ঘুষের টাকার সিরিয়াল নম্বার মিলিয়ে অভিযোগের সত্যতা পান।
উল্লেখ্য,সম্প্রতি ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে গত ১০ জুলাই সন্ধ্যায় পাবনার আটঘরিয়া উপজেলা সাব-রেজিস্টার ইশরাত জাহান (২৮) ও মোহরার আশরাফুল আলমকে (৪০) হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে দুদক।