banner

শেষ আপডেট ১০ ডিসেম্বর ২০১৮,  ২১:৩৪  ||   মঙ্গলবার, ১১ই ডিসেম্বর ২০১৮ ইং, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

পেকুয়ায় পাসপোর্টের আবেদন ভেরিফাইয়ের নামে চলছে ডিএসবি পুলিশের বেপরোয়া ঘুষ বানিজ্যে!

পেকুয়ায় পাসপোর্টের আবেদন ভেরিফাইয়ের নামে চলছে ডিএসবি পুলিশের বেপরোয়া ঘুষ বানিজ্যে!

২২ জুলাই ২০১৮ | ২০:৪৪ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • পেকুয়ায় পাসপোর্টের আবেদন ভেরিফাইয়ের নামে চলছে ডিএসবি পুলিশের বেপরোয়া ঘুষ বানিজ্যে!

 পেকুয়া প্রতিনিধি : কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার সাত ইউনিয়নের বাসিন্দা বিদেশগামীদের পাসপোর্ট আবেদনের ভেরিফাইয়ের (তদন্ত) নামে পেকুয়ায় কর্মরত পুলিশের বিশেষ শাখা (ডিএসবি) এর কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে বেপরোয়া ঘুষ বানিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন ইউনিয়নের কতিপয় দালালদের সমন্বয়ে ডিএসবি পুলিশের সদস্যরা বেপরোয়া ঘুষ বানিজ্যে জড়িয়ে পড়েছেন বলে একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে। অপরদিকে ডিএসবি পুলিশের ঘুষ বানিজ্য বন্ধে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ রহস্যজনক কারণে কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করছেনা। ফলে পেকুয়ায় কর্মরত ডিএসবি পুলিশের সদস্যরা দ্বিগুন উৎসাহে বেপরোয়া হয়ে ঘুষ বানিজ্যের উৎসবে মেতে উঠেছে।
জানা গেছে, কক্সবাজার জেলা ডিএসবি অফিসের কর্তা বাবুদের নাম ভাঙ্গিয়ে পেকুয়ায় কর্মরত ডিএসবি পুলিশের সদস্যরা পাসপোর্টের আবেদন ভেরিফাইয়ের নামে সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট আবেদনকারীদের কাছ সর্বনিন্ম ৪ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করলেও নিরব রয়েছে পুলিশের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। আর সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট আবেদনকারীরা ডিএসবি পুলিশের দাবীকৃত ঘুষের টাকা পরিশোধ করতে এক প্রকার বাধ্য হয়। তাদের দাবীকৃত ঘুষের টাকা না দিলে পাসপোর্ট আবেদনের ভেরিফাইয়ের রিপোর্ট বিপক্ষে দিয়ে দেয়। তাই ভূক্তভোগীরা অনেকাংশে বাধ্য হয়েই ডিএসবি পুলিশকে ঘুষ দিতে বাধ্য হচ্ছেন।
ভূক্তভোগীদের সূত্রে প্রাপ্ত অভিযোগে জানা গেছে, পেকুয়া উপজেলা সাত ইউনিয়নের পাসপোর্ট তদন্তের জন্য গত কয়েক মাস পূর্বে পুলিশের বিশেষ শাখার কয়েকজন সদস্য পেকুয়ায় যোগদান করেন। ডিএসবি পুলিশের এসব সদস্য যোগদান করেই শুরু করেন পাসপোর্ট আবেদন ভেরিফাইয়ের নামে বেপরোয়া ঘুষ বানিজ্য। ঘুষ বানিজ্যের ঢালপালা আরো প্রসারিত করতে ডিএসবি পুলিশের সদস্যরা পাসপোর্ট অফিসের চিহ্নিত দালাল সিন্ডিকেটের সক্রিয় সদস্য ও পেকুয়া সদর ইউনিয়নের বাসিন্দা ‘র’ ও ‘ক’, রাজাখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা ‘রা’ ও ‘আ’ বারাবাকিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা ‘নু’ আধ্যাক্ষরের এসব দালালদের সাথে গড়ে তোলেছে বিশেষ দহরম-মহরম সস্পর্ক। সোনালী ব্যাংকের নির্ধারিত শাখায় সরকার নির্ধারিত টাকা জমা দিয়ে বিদেশগামীরা কক্সবাজার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে টাকা জমার রশিদসহ পাসপোর্টের জন্য আবেদনপত্র দায়ের করেন। সেখান থেকে পাসপোর্ট অফিসের আঞ্চলিক পরিচালক কক্সবাজার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে পাসপোর্টের আবেদনগুলো তদন্ত করে রিপোর্ট দেওয়ার জন্য প্রেরণ করা হয়। আর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে ডিএসবি শাখা সেগুলো থানা ওয়ারী বাচাই করে তাদের নিয়োগকৃত ডিএসবির সদস্যদের কাছে পাঠানো হয়। এরপর যখন স্ব স্ব থানায় পাসপোর্টের আবেদনগুলো তদন্তের জন্য ডিএসবির সদস্যদের কাছে চলে আসে, তখনই শুরু হয় তদন্তের নামে ঘুষ আদায়ের রমরমা বানিজ্য। ডিএসবির সদস্যরা সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট আবেদনকারীকে ফোনে ডেকে এনে রিপোর্ট পক্ষে দেওয়ার কথা বলে ঘুষ দাবি করে। আর তাদের দাবীকৃত নির্ধারিত ঘূষের টাকা না দিলে পদে পদে হয়রানীর শিকার হন পাসপোর্টের জন্য আবেদনকারী ভূক্তভোগীরা।
অভিযোগ রয়েছে, পেকুয়া উপজেলায় চিহ্নিত কয়েকজন দালালদের মাধ্যমেই সাত ইউনিয়নের পাসপোর্ট আবেদনকারীদের কাছ থেকে প্রতিটি আবেদন ভেরিফিকেশনের নামে ৪হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিচ্ছেন ডিএসবি পুলিশ সদস্যরা। কোন পাসপোর্ট আবেদনকারী ডিএসবি পুলিশের চাহিদামতো উৎকোচ দিকে ব্যর্থ হলে তার তদন্ত প্রতিবেদন জেলা ডিএসবি অফিসে পাঠাতে নানাভাবে হয়রানীর শিকার হচ্ছেন।
মগনামা ইউনিয়নের এক যুবক বয়স পুর্ণ হলেও ভোটার হয়নি। সম্প্রতি তিনি ইউনিয়ন পরিষদের জন্মনিবন্ধন সনদসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিয়ে পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেন কক্সবাজার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে। সেখান থেকে তদন্তের জন্য পুলিশের মাধ্যমে পেকুয়ায় আসলে ডিএসবি পুলিশের এক সদস্য শুরু করেন নানা টাল বাহানা। ভূক্তভোগী যুবক জানান, তার কাছে জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকার সুযোগকে পুঁজি করে ডিএসবি পুলিশের ওই সদস্য তার কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করছেন। তার দাবীকৃত ঘুষ না দিলে প্রতিবেদন উল্টো পাঠিয়ে দিবে বলে তাকে হুমকির সূরে বলেছেন ওই ডিএসবির সদস্য।
পাসপোর্ট আবেদন ভেরিফাইয়ের নামে আবেদনকারীদের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার ব্যাপারে জানতে পেকুয়ায় কর্মরত কয়েকজন ডিএসবির সদস্যদের সাথে যোগাযোগ করা  হলে তারা সবাই একই সুরে বলেন, কক্সবাজার জেলা ডিএসবির ইন্সপেক্টরের কাছে প্রতিটি পাসপোর্ট ভেরিফিকেশন জমা দেওয়ার সময় দুই হাজার টাকা করে নেন। তাই বাধ্য হয়ে পাসপোর্ট আবেদনকারীদের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছেন।