banner

শেষ আপডেট ১৪ নভেম্বর ২০১৮,  ১১:৩৩  ||   বুধবার, ১৪ই নভেম্বর ২০১৮ ইং, ৩০ কার্তিক ১৪২৫

জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সমুন্নত রাখুক মুক্তিযুদ্ধের চেতনা

জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সমুন্নত রাখুক মুক্তিযুদ্ধের চেতনা

২৩ জুন ২০১৮ | ২১:২৩ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সমুন্নত রাখুক মুক্তিযুদ্ধের চেতনা

 

‘আওয়াম’ শব্দের অর্থ জনগণ আর লীগ অর্থ দল বা গোষ্ঠী। আওয়ামী লীগের অর্থ জনগণের দল বা গোষ্ঠী। অর্থাৎ জনগণের দল। জনগণের জন্য, জনগণ দ্বারা প্রতিষ্ঠিত জনগণের এই দলটির প্রতি জনগণের আস্থা আছে। সেই জন-আস্থার প্রতিদান হিসেবে জন-আকাঙ্ক্ষা পূরণে আরো সক্রিয় ভূমিকা নিক আওয়ামী লীগ। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সমুন্নত রাখুক মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।

১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার রোজ গার্ডেনে যে দলটির আত্মপ্রকাশ, দুই যুগেরও কম সময়ের ব্যবধানে সেই দলটির নেতৃত্বেই স্বাধীন হয় বাংলাদেশ। এর চেয়ে বড় অর্জন কোনো রাজনৈতিক দলের হতে পারে না। আত্মপ্রকাশকালে দলটির সভাপতি ছিলেন মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী। সাধারণ সম্পাদক ছিলেন টাঙ্গাইলের শামসুল হক। যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন সে সময়ের তরুণ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান। তখন দলটির নাম ছিল পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ, পরবর্তীকালে নাম থেকে মুসলিম শব্দটি বাদ দিয়ে দলকে একটি অসাম্প্রদায়িক দলে রূপান্তর করা হয়। তখন এটি ছিল একটি সাহসী সিদ্ধান্ত।

দীর্ঘ পথপরিক্রমায় অনেক চড়াই-উতরাই পার হয়ে আসতে হয়েছে আওয়ামী লীগকে। আদর্শবাদী, উদারনৈতিক এই রাজনৈতিক দলটির অস্তিত্ব বিনাশের চেষ্টাও হয়েছে। দলের ভেতরের কোন্দলও অনেক সময় মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে চেয়েছে। কিন্তু আলোর পথযাত্রী আওয়ামী লীগ সব বাধা-বিপত্তি মাড়িয়ে এগিয়ে গেছে। ১৯৫৭ সালে আওয়ামী লীগ সভাপতি মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে টাঙ্গাইলের সন্তোষে অনুষ্ঠিত কাগমারী সম্মেলনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ভাগ হয়ে যায়। ১৯৬৬ সালের ১৮ মার্চ দলের কাউন্সিল অধিবেশনে বঙ্গবন্ধু বাঙালির মুক্তির সনদ ছয় দফা ঘোষণা করলে আওয়ামী লীগে দ্বিতীয়বারের মতো বিভক্তি দেখা যায়।

১৯৭০ সালের নির্বাচন শুধু বাঙালির জন্য একটি টার্নিং পয়েন্ট ছিল না, আওয়ামী লীগের জন্যও একটি ইতিহাস সৃষ্টির সুযোগ ছিল। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে সেই নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ পাকিস্তানের জাতীয় সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ম্যানিফেস্টো ছিল ছয় দফা। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ শেষে পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি দেশে ফিরে আসেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালরাতে বঙ্গবন্ধুকে দেশের শত্রুরা সপরিবারে হত্যা করলে আওয়ামী লীগ আবার অস্তিত্বের সংকটে পড়ে। ১৯৮১ সালে আওয়ামী লীগের এক বিশেষ কাউন্সিল অধিবেশনে প্রবাসে নির্বাসন জীবনযাপনকারী শেখ হাসিনাকে সর্বসম্মতভাবে দলের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। সেই বছর ১৭ মে শেখ হাসিনা দেশের এক ক্রান্তিকালে দেশে ফেরেন।

১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২১ বছর পর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের ম্যান্ডেট পায়। খুব কম দেশেই একটি দল ২১ বছর ক্ষমতার বাইরে থেকে ক্ষমতায় ফিরতে সক্ষম হয়েছে। ২০০৮ ও ২০১৪ সালের নির্বাচনে আবার জনগণের ম্যান্ডেট পায় আওয়ামী লীগ।