banner

শেষ আপডেট ১৫ অক্টোবর ২০১৮,  ২২:৩৪  ||   সোমবার, ১৫ই অক্টোবর ২০১৮ ইং, ৩০ আশ্বিন ১৪২৫

হাটহাজারীতে বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি : গত ৪দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা

হাটহাজারীতে বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি : গত ৪দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা

১৩ জুন ২০১৮ | ২১:১০ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • হাটহাজারীতে বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি : গত ৪দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা

মোহাম্মদ আলী, হাটহাজারী(চট্টগ্রাম) :স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলা। বন্যার ২দিন অতিবাহিত হলেও পানি কমার কোন লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না। উপজেলার প্রায় নব্বই ভাগ এলাকা পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। ১৯৬২ সালের বন্যাকে হার মানিয়েছে এবারের বন্যা এমনটাই উপজেলার বয়োবৃদ্ধরা বলছেন। টানা বর্ষণের কারণে সৃষ্ট বন্যায় উপজেলার হাটহাজারী পৌরসভা, ১৪টি ইউনিয়নের আঞ্চলিক সড়ক, অসংখ্য ঘরবাড়ি, মাছ চাষের পুকুর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পানিতে ডুবে কোটি কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। হালদা নদী সংলগ্ন একাধিক স্পটে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ায় বন্যার পানি আরো বাড়ছে। এমনকি হাটহাজারী-রাঙ্গামাটি মহাসড়ক, হাটহজারী-খাগড়াছড়ি মহাসড়ক ও হাটহাজারী অক্সিজেন মহাসড়কের ১০টিস্থানে মহাসড়ক পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার কারণে মঙ্গলবার সকাল থেকে আজ ১৩ জুন বুধবার রাত ৯টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এই তিন মহাসড়কে যানচলাচলে ব্যাপক ব্যাঘাত ঘটেছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে বন্যা পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে।
সরেজমিন উপজেলার বন্যা কবলিত বিভিন্ন স্পট ঘুরে ও উপজেলা বিভিন্ন লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায় গত রবিবার বিকাল থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের তোড়ে হাটহাজারী পৌরসভা, গুমান মর্দ্দন, ছিপাতলী, নাঙ্গলমোড়া, মেখল, গড়দুয়ারা, উত্তর ও দক্ষিণ মাদার্শা, শিকারপুর, বুড়িশ্চর, মির্জাপুর, ফতেপুর, চিকনদন্ডী, ধলই ও ফরহাদাবাদের কিছু অংশ বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এসব ইউনিয়নের সবকটি আঞ্চলিক সড়ক, ঘরবাড়ি ও পুকুর বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। হাটহাজারী-রাঙ্গামাটি মহাসড়কের সুবেদার পুকুর পাড়, কড়িয়ার দিঘীর পাড়, চারা বটতল, ইছাপুর বাজার থেকে জান আলী চৌধুরী বাড়ি, হাটহজারী-খাগড়াছড়ি মহাসড়কের মুন্সী মসজিদ এলাকা, সরকারহাটের বালুরটাল এলাকা ও হাটহাজারী অক্সিজেন মহাসড়কের বড়দিঘীপাড়স্থ চিকনদ-ী ভূমি অফিসের সম্মুখ এলাকার মহাসড়ক পানিতে তলিয়ে যায়। এর ফলে দুই দিন ধরে যান চলাচলে ব্যাপক দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। সিএনজি চালিত অটোরিক্সা ও ছোট যানবাহন পানিতে আটকা পড়ে জনভোগান্তি বহুগুণে বৃদ্ধি করে। গন্তব্যস্থলে পৌঁছতে যাত্রীদের ঠেলাগাড়ি, নৌকা, তিন চাকাবিশিষ্ট ভ্যান, জীপ ও ট্রাকযোগে চলাচল করতে হয়েছে। এছাড়া আঞ্চলিক সড়ক ডুবে যাওয়ায় উপজেলার ২লক্ষাধিক জনগণ গৃহবন্ধি হয়ে পড়েছে। অনেকের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি প্রবেশ করায় পণ্য নষ্ট হয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। গবাদি পশুগুলোকে আশ্রয়কেন্দ্র ও অপেক্ষাকৃত উঁচু স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আক্তার উননেছা শিউলী জানান,“ উপজেলা প্রায় সবকটি ইউনিয়ন বন্যার পানিতে কবলিত। উপজেলা প্রশাসন থেকে বন্যা পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ইতোমধ্যে ১৫টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। প্রাকৃতিক এ দুর্যোগ মোকাবেলায় বন্যা কবলিত এলাকার জনগণকে সেখানে অবস্থান করতে বলা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ ও জীবন রক্ষাকারী ওষধ বিতরণ শুরু হয়েছে। তবে জলযানের অভাবে বন্যাদুর্গত এলাকায় ত্রাণ পাঠাতে বেগ পেতে হচ্ছে। তিনি যেকোন ধরণের দুর্ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানকে তাৎক্ষণিকভাবে এবং ০১৮৩৮৬৭২৭৮০ ও ০১৬১৯৮৯৩২৩২ নাম্বারে যোগাযোগের করার জন্য অনুরোধ করেছেন।